চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চালের বাজার হঠাৎ অস্থির!

চালের বাজার আবার অস্থির। রাজধানীসহ দেশের অনেক জায়গায় চালের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে। তাদের দাবি- পরিবহন সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাল আনতে যে পরিমাণ টাকা ব্যয় হতো বর্তমানে তার দ্বিগুণ-দেড়গুণ হয়ে গেছে।

পাশাপাশি তারা এও বলেছেন, পরিবহন থেকে চালের বস্তা নামানোর শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। তাই দুএকজন শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদেরকে অনেক বেশি পরিমাণে টাকা দিয়ে ট্রাক থেকে চাল নামাতে হচ্ছে। এ জন্য চালের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য তারা স্বীকার করেছেন, ঈদের কারণে পরিবহন সংকট এবং শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। কিছুদিন পরেই এ সংকট থাকবে না। চালের বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

কি সুন্দর যুক্তি! এ যুক্তির সাথে অনেকটা সুর মিলিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, এ বৃদ্ধি সাময়িক। এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। দেশে মোটা চালের দাম কোথাও বাড়েনি। তা ক্রেতার ক্রয়সীমার মধ্যেই রয়েছে। সাংবাদিকরা কয়দিন পরপর খালি ঝামেলা করে।

খাদ্যমন্ত্রীর এ কথায় কি প্রমাণিত হয়?

জয়পুরহাটের একজন বড় চাল ব্যবসায়ী বলেছেন, রাজধানী ছাড়া দেশের কোথাও চালের দাম বাড়েনি। চালের দাম বৃদ্ধিও কোনো সুযোগ নেই। এ জন্য দায়ী অসৎ ব্যবসায়ীরা। তারা সুযোগ বুঝে চালের দাম বাড়িয়েছে অনৈতিক মুনাফার জন্য।

বিজ্ঞাপন

ওই ব্যবসায়ী আরও বলেছেন, ৫৬ লাখ টন চাল আমদানি করা হলো ২ শতাংশ আমদানি শুল্ক দিয়ে। সেই ৫৬ লাখ টন চাল গেল কোথায়? কারা এ চাল খেয়ে ফেলেছে? দেশে কি মানুষ এখন ২০ কোটি ? আর যদি তা না হয় তা হলে কি চাল আমদানি সংক্রান্ত সরকারের দেয়া তথ্যে গড়মিল রয়েছে? দেশে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে চালের। তা হলে সেই বাম্পার ফলনের চাল গেল কই? নাকি এ তথ্যও ভুল?

এখন কথা হচ্ছে এর আগেও চালের দাম কারসাজি করে ব্যবসায়ীরা বাড়িয়েছিল। অযুহাত ছিল গতবছর বন্যায় ২৬ লাখ টন ফসলের ক্ষতি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সরকার আমদানির মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নেয়।

সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকার চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রথমে ১০ শতাংশ ও পরে ২ শতাংশ নির্ধারণ করে। সেই ২ শতাংশ করার পরেও কিছুদিন মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা চালের মূল্য না কমিয়ে চুটিয়ে ব্যবসা করে নেয়। পরে সরকারের তদারকির কারণে চালের মূল্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে।

কিন্তু বর্তমানে চালের মূল্য বাড়ানোর কি যুক্তি থাকতে পারে? এটা সুযোগ বুঝে কামিয়ে নেয়া নয় কি? খোদ খাদ্যমন্ত্রী যখন বলেন, এটা সাময়িক। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। সাংবাদিকরা নাকি কয় দিন পর পর ঝামেলা করে।

কি সুন্দর কথা! আমরা তা হলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাব? মিরপুরের এক চালের পাইকারি দোকানে গিয়ে- চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে দোকানি বলেন, জানি না, এখন তো ব্যবসায়ীরা চালই বিক্রি করছে না। চাল আনতে গিয়েছিলাম। না বলে দিয়েছে। বলেছে গুদামে চাল নেই। চালের ব্যবসায়ীরা কতটা শক্তিশালী? তারা তো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবেন মন্ত্রীর ওই রকম মন্তব্য শোনার পরে?
খাদ্যমন্ত্রী কি জবাব দেবেন?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)