চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চালকের ডোপ টেস্ট আদৌ হবে কি?

সড়কে নানা অনিয়ম আর প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় বারবার চালকের অদক্ষতা আর খামখেয়ালির কথা উঠে আসে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, তাদের সচেতন এবং দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার তেমন কোনো আয়োজন দেখা যায় না।

এবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি তুলে ধরেছেন চালকদের মূল সমস্যার কথা। অনেক চালক বা তার সহকারী যে মাদকাসক্ত থাকেন তা ফুটে উঠেছে এই পুলিশ কর্মকর্তার কথায়। তবে তিনি শুধু সমস্যার কথা বলেই দায়িত্ব শেষ করেননি, এর সমাধানেও মালিকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আয়োজিত ট্রাফিক সচেতনতা সভায় তিনি বলেন: মাদকাসক্ত কোনো চালক বা সহকারীর হাতে গাড়ি তুলে দিবেন না। কোনো চালককে বা তার সহকারীকে দেখে মাদকাসক্ত মনে হলে ডোপ টেস্ট করান। এ বিষয়ে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব।

কমিশনার বলেন: মাদকাসক্ত কোনো লোক গাড়ির হেল্পার বা চালক হতে পারবে না। মাদকের কারণে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক শ্রমিককে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পুলিশ কমিশনারের কথায় সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হলো মাদক। এ বিষয়ে অবশ্যই পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক নেতাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের দায়িত্বহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন কোনোভাবেই হুমকির মুখে পড়তে দেয়া যাবে না।

প্রতি বছর অন্যান্য সময়ের চাইতে ঈদে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই এবারের ঈদযাত্রাকে দুর্ঘটনামুক্ত করতে পুলিশ কমিশনারের এই পরামর্শকে আমলে নিয়ে চালক এবং সহকারীদের মাদক গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

পুলিশ কমিশনারের আহ্বানের পরও মালিকপক্ষ যদি নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা করে, তাহলে এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেদের দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করবে বলে আমরা আশা করি। কারণ, সড়কে দুর্ঘটনার পরিমাণ শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যথাযথ ভূমিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই।