চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চাপ-আবেগকে জয় করেই ফিরবেন তাসকিন

জাতীয় দলের হয়ে পাঁচ বছর পার করে ফেলেছেন তাসকিন আহমেদ। সময়টাতে অভিজ্ঞতা আর পরিপক্বতা মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমণের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠার কথা তার। কিন্তু তাসকিন দেখছেন উল্টোটা, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের স্কোয়াডে না রেখে তাকে সাইডবেঞ্চে বসিয়ে দিয়েছেন নির্বাচকরা!

বিজ্ঞাপন

পাঁচ বছরে একাধিক কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয়েছে তাসকিনকে। কখনও চোট, কখনও অবৈধ বোলিং অ্যাকশন, আবার কখনোবা বাজে ফর্মের কারণে। দলের বাইরে বসে দেখেছেন আবু জায়েদ রাহী, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদের মতো তরুণ পেসাররা আস্তে আস্তে তার শূন্যস্থানটা ভরাট করে ফেলছেন। অতীতে সবকিছুর জবাব দিয়ে দাপটেই মাঠে ফিরেছেন তাসকিন। কে জানে, বিশ্বকাপ দলে ফিরতে পারলে হয়তো জবাব দেবেন এবারও। তার আগে দলে তো ফিরতে হবে!

অতীতে সব পথ হড়কানোর জবাব মাঠেই দিয়েছেন বলে তাসকিনকে আরেকটা সুযোগ দিয়েছেন নির্বাচকরা। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে সুযোগ পেয়েছেন এ পেসার। সেখানে স্বাগতিকরা ছাড়া অন্য প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এবার অবশ্য খারাপ ফর্মের কারণে বাদ পড়েননি তাসকিন। বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে গ্রুপপর্বের ম্যাচে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার আগে ছিলেন আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। ১৪.৪৫ গড়ে ২২ উইকেট নিয়ে শেষপর্যন্ত এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় উইকেটশিকারী হয়েছেন। সেই চোট থেকে ফিরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে শেষ ম্যাচেও তার বলে দেখা গেছে ঝলক। যদিও শুরুতে ম্যাচ ফিটনেসের ঘাটতির কথা বলে স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়। পরে ২৪ বছর বয়সী তাসকিনকে আয়ারল্যান্ডে পরখ করে নেয়ার পক্ষপাতী হন নির্বাচকরা।

সুইং নয়, তাসকিনের প্রধান অস্ত্র গতি। আয়ারল্যান্ডের মতো জায়গায় সেই গতি কাজে লাগতে পারে বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু অতিসম্প্রতি চোট থেকে সেরে ওঠায় কতটা গতি ওঠাতে পারবেন সেটা এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। আর আয়ারল্যান্ড সিরিজে সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া, না পাওয়া। সুযোগটা তো এখনও শেষ হয়ে যায়নি একেবারে! তাসকিন তাই ক্রিকইনফোকে বলে গেছেন, বেশ চাপে আছেন তিনি।

‘অনেক চাপ নিয়ে আয়ারল্যান্ডে খেলতে হবে। আমাকে ভালো করতেই হবে। আমার সর্বোচ্চটাই দেয়ার চেষ্টা করবো। আমার মনে হয় যদি পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে পারি, তাহলে সবকিছু নিজ থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

‘আমার ওপর অনেক প্রত্যাশা। আমি চাই ভালো করতে। আমার প্রায় সব ভক্তরাই ইতিবাচক। কিন্তু তাদেরও আসলে কিছু করার নাই।’

হয়তো প্রত্যাশার চাপ সামলে সেরাটাই বের করে আনবেন তাসকিন, কিন্তু এটাও ভালোই জানা যে সামনে কী অপেক্ষায় আছে তার জন্য। এমন চাপ নিয়েই জ্বলে উঠেছিলেন বিপিএলে। কিন্তু পুরনোশত্রু সেই চোটের কাছেই যে হার মানতে হয়েছিল তাকে।

চোটে পড়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলা হয়নি। বাদ পড়লেন বিশ্বকাপ দল থেকে। যখন শুনলেন দলে নেই, আবেগ ধরে রাখতেন পারেননি। তার কান্না দেখেছে বাংলাদেশসহ পুরোবিশ্ব। এ যেন ২০১১ সালের পুনরাবৃত্তি! সেবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে সুযোগ না পেয়ে কেঁদেছিলেন তাসকিনের আদর্শ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

তবে চাপ সামলানোর মতো করে আবেগ সামলানোর ব্যাপারেও তাসকিনকে পরামর্শ দিয়েছেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার শিকার হয়েছেন। আবেগকে বশ না করতে পারলে যে কমে আসতে পারে হাতের জোরও!

সবশেষ নিধাস ট্রফিতে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন তাসকিন। সেবার তার ১২০-১২৫ কিলোমিটার গতিতে বেরোনো বল সমালোচনার কারণ হয়েছে। তাসকিন বুঝতে পারছেন জাতীয় দলে স্থান পাকা করতে হলে শুরুর দিকে যে ১৩৫ কিমি গতিতে বলকে কথা বলাতেন, ফিরিয়ে আনতে হবে সেটাই।

‘আগে যেমন বল করতাম সেভাবেই বল করতে চাই। অনেক ম্যাচ পর দলে ফেরাটা বেশ চ্যালেঞ্জের। ক্রিকেটে আপনি যখন জায়গা হারাবেন, সেই স্থানটা পূরণ করা বেশ কঠিন!’

আবেগ যদি ক্ষতির কারণ হয় তবে এই আবেগই আবার তাসকিনের শক্তির জায়গাও। আবেগ দিয়ে খেলেন বলেই বারবার ফিরে আসতে পারেন। মনের জেদকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেন। বাড়ান নিজের আত্মবিশ্বাসের জ্বালানী। জাতীয় দলের প্রথম ১২ মাসে যে জেদ আর আগ্রাসন দেখিয়েছেন, তাসকিনের কাছে সেটাই এখন ভীষণ দরকার বাংলাদেশের!