চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গ্রামকে অনাকাঙ্খিত কংক্রীট নগরে পরিণত করবো না: শ ম রেজাউল করিম

আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিম একজন আইনজীবীটেলিভিশন টক শোতে বেশ পরিচিত মুখসমসাময়িক যে কোনো ঘটনায় টিভির পর্দায় নিয়মিত দেখা যায় তাকেবিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম আইনজীবীদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়। সদ্য বিলুপ্ত বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আইনজীবীদের সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য। বার কাউন্সিলে ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ করেছেন। ১৯৮০ সালে খুলনা দৌলতপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি, ১৯৮১ সালে খুলনা কৃষি কলেজের সাধারণ সম্পাদক জিএস ছিলেন। ১৯৮৯ সালে নাজিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে ১৯৯০ সাল থেকে অদ্যাবধি জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। পেশাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যার মত গুরুত্বপূর্ণ মামলার আইনজীবী ছিলেন তিনি। ১/১১ এর দুর্যোগকালীন সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে আইনী সহায়তা দিয়েছেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, শেখ সেলিমের মতো রাজনীতিবিদদের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে নতুন সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রশ্ন: এবার মন্ত্রী হওয়ার জন্যে আপনি কি প্রস্তুত ছিলেন?
শ ম রেজাউল করিম : মন্ত্রী হওয়ার জন্যে আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।

প্রশ্ন: এই চমকটা কি করে ঘটলো?
শ ম রেজাউল করিম : এই চমকটা পুরোপুরি আল্লাহর অসীম রহমত এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উদারতা, হৃদয়ের বিশালতা এবং মহানুভবতার জন্যে সম্ভব হয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবো এই স্বপ্ন আমার ছিল। হঠাৎ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আমাকে মন্ত্রী পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই দায়িত্বকে আমি চ্যালেঞ্জ মনে করি। আর এই চ্যালেঞ্জের সবটুকু গ্রহণ করার মত মানসিকতা, দৃঢ়তা, সাহস এবং সততা আমার আছে।

প্রশ্ন: নতুন মন্ত্রী এবং এতো বড় মন্ত্রণালয়- চাপ অনুভব করছেন? কি করে সামাল দেবেন এই চাপ?
শ ম রেজাউল করিম : ইটস ট্রু।আমার মন্ত্রণালয়ে ১২ টি অর্গান আছে। রাজউক, গণপূর্ত অধিদপ্তর, গৃহায়ন, আবাসন, চট্টগ্রাম ডেভলপমেন্ট অথোরিটি, খুলনা ডেভলপমেন্ট অথোরিটি, কক্সবাজার ডেভলপমেন্ট অথোরিটি এই রকম বারোটি অর্গানের সমন্বয়ে এই গৃহায়ন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে কিছুটা হিমশিম খাওয়ার মত অবস্থা হবে। কঠিনেরে ভালবাসার প্রত্যয় আমার আছে। দৃঢ়তা আছে। আমার বিশ্বাস যে, একটি সমন্বিত অবস্থার ভেতর থেকে গৃহায়ন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে অধিকতর জনমুখি, জনবান্ধব এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাজের স্পিরিট যে, উৎসর্গ করতে হবে সবকিছু জণকল্যাণে সেই জায়গায় আমি সাফল্য দেখাতে সক্ষম হব।

প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে আছে গ্রাম হবে শহর। এর দায়িত্ব আপনার মন্ত্রণালয়ের। আর পুরো দেশটা যদি ঢাকা শহরের মতো কংক্রিটের জঞ্জাল হয়ে যায় তাহলে দেশের চেহারা কি হবে?

শ ম রেজাউল করিম : আমার একটি স্বপ্ন রয়েছে। এই স্বপ্ন আমার না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন। তিনি মনে করেন, ট্যাক্সের টাকা গ্রামের অসহায় দরিদ্র কৃষকও দেয়। শ্রমিকরা দেয়। ঢাকায় আমরা যারা বসবাস করি আমরাও দেই। কিন্তু নাগরিক সুবিধা আমরা যারা শহরে বাস করি তারাই বেশি ভোগ করি। এই জন্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন যে, গ্রামের মানুষের নগরের সুবিধা দিতে হবে। শহরে পানি সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা আছে আমি গ্রামে পানি সাপ্লাইয়ের কথা ভাবছি। বিদ্যুতের সরবরাহ শহরে যেভাবে আছে গ্রামে সেভাবে দিতে চাই। স্থাপত্য উন্নয়ন নিতে চাই। এই জন্যে প্রথম শর্তটা হবে ডিসেন্ট্রালাইজেশন। মানুষ কাজের জন্যে ব্যবসার জন্যে প্রতিষ্ঠার জন্যে সবাই শহরমুখী। আমি যদি গ্রামে সেই স্থাপত্য আনতে পারি এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দিতে পারি তাহলে তারা ওই কেন্দ্রীকতায় থাকবে।

যেমন, আমি চীনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডেলিগেশন টিমের সঙ্গে গিয়েছি। চীনের গ্রামে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকের বাড়ির কাছেও পাকা বিল্ডিং আছে। রাস্তা আছে। তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত। শহরের কংক্রিটের জঞ্জালকে গ্রামে স্থানান্তর করতে চাই না। গ্রামে সুপরিকল্পিত উন্নয়ন করতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ডেলটা প্ল্যান। একশো বছরের পরিকল্পনাতে কি কি সম্ভাব্য হতে পারে সেটাকে সামনে রেখে ৫ বছর ৫ বছর করে আমরা বিন্যাস করেছি। কংক্রিটের অনাকাঙ্খিত নগরীতে পরিণত করবো না গ্রামকে।

কিন্তু গ্রামের জন্যে প্রয়োজন স্থাপত্য উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নগরের সুফল দেওয়ার জন্যে যে পরিকল্পনা আছে আমার বিশ্বাস ৫ বছরের ভেতরে দেখবেন যে, আমাদের সনাতনী গ্রাম খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে শান্তির নীড় আধুনিক গ্রাম খুঁজে পাবেন যেখানে অসহায় মানুষকে টিনের নীচে কাঠের নীচে অথবা ছাওনির নীচে থাকতে হবে না। তারা নিশ্চিত আবাসন পাবে যা তার রাষ্ট্রীয় এবং সাংবিধানিক অধিকার।

প্রশ্ন: এখনো ঢাকা শহরে অসংখ্য মানুষ ফুটপাতে ঘুমায়। তাহলে সবার জন্যে আবাসন এই কথার মাহাত্ম্য কোথায়?

বিজ্ঞাপন

শ ম রেজাউল করিম: আমি অত্যন্ত সাধারণ পরিবার এবং গ্রাম থেকে এসেছি। আমি কষ্ট এবং দারিদ্রতার অভিশাপ জানি। অসহায় মানুষের কষ্ট কেমন জানি? বিত্ত বৈভবে যারা ফুঁলে ফেঁপে উঠেছে তাদের বিশাল অট্টালিকাও আমি দেখি। কাজেই আমার সমন্বয়ের জায়গা একেবারে হৃদয় থেকে হবে, কৃত্রিমতা থাকবে না তাতে। এই কাজে আমার সবচেয়ে বড় সাহস বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তিনি বলেছেন যে, একজন মানুষও যেনো অসহায় অবস্থায় না থাকে। তার খাদ্যে তার বস্ত্রে তার আবাসন ব্যবস্থায়। তার জন্যে তিনি বলেছেন, ‘যতো মেগা প্রজেক্ট লাগে সব প্রজেক্ট দেবো। সদিচ্ছা আর সততা থাকলে কিছুই লাগে না।’ আমার বিশ্বাস- সবাই আমাকে কিছুটা সময় দেন, দেখবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন এবং পরিকল্পনা কিভাবে গৃহায়ন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করে। এটি শুধু কথার ফুলঝুরি থাকবে না। আমি প্রমাণ করে দেবো- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে আস্থা নিয়ে আমাকে মন্ত্রী করেছেন সেই আস্থা আমি পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে সক্ষম।

প্রশ্ন: এত বড় মন্ত্রণালয়ে অতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে দুর্নীতি- একে আপনি চ্যালেঞ্জ মনে করছেন কিনা?

শ ম রেজাউল করিম : আমার মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট যারা তাদের নিয়ে বসেছিলাম। আমি তাদের সকলকে বলেছি যে, আমার দিক নির্দেশনা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা। তিনি বলেছেন দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স। কোন ভাবেই দুর্নীতি চলবে না। যদি কেউ দুর্নীতি করতে চান তাহলে আমাদের প্রয়াত নেতা সৈয়দ আশরাফের ভাষায় বলবো- দুর্নীতি করলে তাকে দুর্নীতিতে যেতে হবে। আর যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীর দায়িত্ব পালন করতে চান তাহলে দুর্নীতি পরিহার করতে হবে। যদি না করেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারণ আমার মাথার উপরে ছায়া হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, কোন ভাবেই দুর্নীতিকে ছাড় দেওয়া যাবে না। আমি ছোট্ট একজন মানুষ কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাস, সততা এবং স্বচ্ছতা অনেক দৃঢ়, অনেক শক্ত।

প্রশ্ন : আপনার মন্ত্রণালয়ের যে কোন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বিরুদ্ধে আপনি প্রস্তুত?
শ ম রেজাউল করিম : যে কোন অনিয়ম যে কোন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রতিরোধ করবো ইনশাল্লাহ। তাদেরকে বলেছি- সবাই আমরা ভালভাবে কাজ করতে চাই। ভালভাবে যারা কাজ করতে না চান? দে উইল ফেস দ্যা কনসিকোয়েন্স।

প্রশ্ন: মাঝে মধ্যে অন্যের দোষেও নিজেকে দোষী হতে হয়- এইগুলোকে কিভাবে মোকাবিলা করবেন?
শ ম রেজাউল করিম : এটা ট্রু। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারকে লক্ষ্য করে কিভাবে টেলিভিশনে টকশো শুরু করেছিল কিছু জ্ঞান পাপী। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তার অবস্থানই একশত ভাগ সত্য। আমি তার একজন ক্ষুদ্র কর্মী। আমার আশপাশের ব্যাপারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করবো।

প্রশ্ন: আগামী প্রজন্ম বা শিশুদের জন্যে আলাদা কোন ভাবনা আছে?
শ ম রেজাউল করিম: অবশ্যই আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এবারের কেবিনেটের দিকে তাকিয়ে দেখেন তিনি অধিকতর তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের এনেছেন। তিনি আমাদেরকে মিটিংয়ে বলেছেন- তরুণদেরকে ট্রেইনড আপ করতে হবে। কারণ অধিকাংশ ভোটাররা তরুণ এবং তরুণরাই স্বপ্ন দেখতে পারে। যারা একটু ওল্ড তাদের হয়তো অভিজ্ঞতা আছে কিন্তু ক্রিয়েটিভিটির জায়গায় তরুণদের কাছাকাছি কেউ নাই। সেই জন্যে আমি মনে করি তরুণ এবং নতুন প্রজন্ম যারা- তাদের জন্যে আমাদের দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। তাদেরকে শক্তি দিতে হবে। তাদের প্রতিভার বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।

প্রশ্ন: ব্যক্তি রেজাউল করিম তার মন্ত্রণালয় থেকে কি করবেন?
শ ম রেজাউল করিম: দেখুন, রাজনীতি বলতে আমি বুঝতে চাই- নীতির রাজা যা তাকে রাজনীতি ভাবতে চাই। রাজার মতো চলা যেটা তাকে আমি রাজনীতি ভাবতে চাই না। রাজা যে নীতি চালু করবেন তা রাজনীতি না। শ্রেষ্ঠ নীতি যা তাই রাজনীতি। আমার দুটি সন্তান। দুইজনেই ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করছে। তাদেরকে আমি বলেছি যে, বিনিয়োগ করবো সন্তানে। তুমি যদি মানুষ হতে পারো তাহলে তুমি হবে তোমার অ্যাসেট। আর আমি ২০ তলা বিল্ডিং করলাম আর তুমি অনৈতিক পথে গেলে ৩ মাস লাগবে না এই বিল্ডিংটা ধ্বংস করে দিতে। আমি একটি সৎ, স্বচ্ছ ও সৃজনশীল রাজনীতির ভেতর থেকে দল মত নির্বিশেষে সকলের জন্যে ভুমিকা রাখতে চাই। আমি চিরদিন টিকে থাকবো না। কিন্তু আমার ভূমিকার কারণে একজন মানুষও যদি উপকৃত হয়, সে কোন দল করলো তা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। তাহলে মনে হবে আমার মানব জনম সার্থক। আমার সুন্দর স্বপ্ন আছে যেখানে- বিভেদ থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না, হানাহানি থাকবে না, অহেতুক কারণে রাজনীতির জন্যে মানুষকে হয়রানি করা থাকবে না। জানি না এই স্বপ্ন কতোটা সফল করতে পারবো?

প্রশ্ন: আপনি সকলের এমপি মন্ত্রী নাকি একটি দলের এমপি মন্ত্রী হয়ে থাকতে চান?
শ ম রেজাউল করিম: আপনি শুনলে আশ্চর্য হবেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ভোট নেওয়ার আগে তুমি একজন আর ভোট নেওয়ার পরে তুমি সকলের প্রতিনিধি। আমার এলাকায় নির্বাচনে প্রায় ৪০ টা মিটিং করেছি। সবাইকে বলেছি- দল, মত, নির্বিশেষে সকলের ভোট চাই এলাকার উন্নয়নে এবং তাদেরক বলেছি আমি টিআর, কাবিখার ৪০ দিনের গম, উৎকোচ, শিক্ষক নিয়োগ, ঠিকাদারি কমিশন কোনদিন গ্রহণ করবো না। আল্লাহকে হাজির নাজির করে চ্যালেঞ্জ করে বলেছি এবং আরও বলেছি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার কেউ আমার দ্বারা হবেন না। আমার এলাকায় ভিন্ন দল করেন যারা তারাও আমাকে অনেকেই ভোট দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে বলেছেন- আপনার দলকে ভোট দিচ্ছি না। আপনাকে ভোট দিচ্ছি।

প্রশ্ন: সফল হওয়ার জন্যে কতো সময় প্রয়োজন আপনার?
শ ম রেজাউল করিম : অনেক বড় একটা মন্ত্রণালয় বারোটা অর্গানের সমন্বয়ে। টাইম লিমিট বলবো না তবে সনাতনী পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে চলার গতিতে আমি বিশ্বাসী না। সারা দুনিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেখানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে আকাশে পাঠিয়েছি, সমুদ্র বিজয় করেছি। স্থল সীমানার বিরোধ আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে নিষ্পত্তি করেছি। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু ৬০ শতাংশের উপরে কাজ হয়েছে। বাংলাদেশে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসায় কোন জায়গায় বিবস্ত্র লোক খুঁজে পাবেন না। কোথাও একটা লোক পাবেন না যে, লঙ্গর খানা খুলতে হচ্ছে না খেয়ে আছে। এই যে রেডিক্যাল চেঞ্জটা আসছে এই চেঞ্জের ধারাবাহিকতার সাথে সম্পৃক্ততা নিয়ে আমাদেরকে উদ্যাম গতিতে দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাবো।

প্রশ্ন: টেন্ডার এবং সন্ত্রাসের সাথে এই মন্ত্রণালয়ের যোগ আছে- নির্মূলে কি করবেন?
শ ম রেজাউল করিম : এটি নির্মূলের স্বপ্ন আছে। যদি নির্মূল করতে না পারি তাহলে সহনীয় মাত্রায়ও যদি নিয়ে আসতে পারি তাহলে মনে করবো আমি সার্থক হয়েছি।

প্রশ্ন: সেই প্ল্যানিং কি?
শ ম রেজাউল করিম: যেমন, টেন্ডার। আমি বলেছি টেন্ডার ম্যানুয়াল হবে না। ই-টেন্ডার সিস্টেমে হবে। এখানে একটি বক্স আছে। আপনি মাস্তান নিয়ে এসে কাউকে দিতে দেবেন না। ই -টেন্ডার সিস্টেমে হবে। আপনি রাজশাহী বসে অনলাইনে টেন্ডার দিতে পারবেন। তার ভেতর থেকে এনালাইসিস হবে কে হাইয়েস্ট বিডার? কোনো কোটা বা সিন্ডিকেট থাকবে তা আমি চাই না।