চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গেইল ঝড়েও মচকায়নি ইংল্যান্ড

বিপিএলে ঘুমিয়ে ছিল তার ব্যাট। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাতেই আবারও সেই অগ্নিমূর্তিতে ফিরলেন ক্রিস গেইল। ব্রিজটাউনে তুললেন ঝড়। সেই ঝড় সামলে অবশ্য বাজিমাত করা জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড।

বিজ্ঞাপন

ব্রিজটাউনে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে গেইলের দানবীয় ১৩৫ রানে ভর করে ৩৬০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গেইলকে পাল্টা জবাব দিয়ে জেসন রয় ও জো রুটের জোড়া সেঞ্চুরিতে আট বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড।

২০১৮ সালের জুলাইয়ের পর ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালেই প্রথম ওয়ানডে খেলতে নেমেছিলেন গেইল। নামার আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশের মাটিতে এটাই তার শেষ সিরিজ। সেই সিরিজের প্রথম ম্যাচটা রাঙানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন ক্যারিবীয় ব্যাটিংদানব। শুরুতে এগোন ধীরে, যতই সময় গড়ায় হয়ে ওঠেন ধবংসাত্মক!

পেছনে দায় আছে জেসন রয়েরও। ৩২ বল খেলে ৯ রান করা গেইলকে একবার জীবন দিয়েছিলেন। জীবন পেয়ে আরও খোলসে ঢুকে যান গেইল, ফিফটি করেন ৭৫ বলে যার মধ্যে ৪৫ বলই ছিল ডট!

বিজ্ঞাপন

ফিফটি পাওয়ার পরই গা ঝাড়া দিয়ে ওঠেন গেইল। পরের ফিফটি তোলেন মাত্র ২৪ বলে। ৪৭ ওভারের দ্বিতীয় বলে যখন বেন স্টোকসের বলে বোল্ড হলেন, নামের পাশে যোগ হয়ে গেছে ১২৯ বলে ১৩৫ রান। ৩ চারের বিপরীতে যে ইনিংসে ছক্কা ১২টি!

এনিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৪৮৮টি ছক্কা হাঁকালেন গেইল। আশে পাশে নেই আর কেউ। তার কল্যাণে ৩৬০ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শাই হোপের ৬৪ ও ড্যারেন ব্রাভোর ৪০ রানের ছোট অবদানও থাকল তাতে।

ইনিংসে মোট ২৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। ওয়ানডে ইতিহাসে এটাই সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো ইনিংস। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২২টি ছক্কা মারার রেকর্ড ছিল নিউজিল্যান্ডের।

জিততে হলে নিজেদের সর্বোচ্চ আর ওয়ানডে ইতিহাসের চতুর্থ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হবে, এমন সমীকরণে দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই তুলে নেন গেইলকে জীবন দেয়া রয়। আরেক ওপেনার জনি বেয়ারস্টোকে নিয়ে গড়েন ৯১ রানের জুটি।

৩৪ করে বেয়ারস্টো ফিরতেই উইকেটে আসেন রুট। তাকে নিয়ে ১১৪ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচ থেকেই বের করে দেন ম্যাচসেরা রয়। ৮৫ বলে ঝড়ো ১২৩ রান করেছেন নিজে। ৩০ বলে ফিফটি আর শতক ছুঁয়েছেন মাত্র ৬৫ বলে। ১৫ চারের সঙ্গে ছক্কার মার তার ৩টি। দলীয় ২০৫ রানে রয় যখন ফেরেন সাজঘরে, তখন একবারও মনে হয়নি ম্যাচটা হারবে ইংল্যান্ড।

রয় ফেরার পর বাকি কাজটুকু সারেন রুট। তার সঙ্গী হন অধিনায়ক এইডেন মরগান। দুজনের ১১৭ রানের জুটিতে কঠিন জয়টা সহজ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের জন্য। ৯ চারে ৯৭ বলে ১০২ করেন রুট। আর মরগানের ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৬৫ রান। আট বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটে ৩৬৪ রান তুলে ফেলে ইংলিশরা।