চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ভাষাকে আরও সহজ করার চেষ্টা করতে হবে’

গবেষণামূলক ও সাক্ষাতকারভিত্তিক গ্রন্থ ‘ভাষা সংগ্রামীর বাংলাদেশ’ থেকে সংক্ষেপিত

ভাষা সংগ্রামী আব্দুর রকিব খন্দকার। এ. আর. খন্দকার নামে পরিচিত তিনি। ১৯৩৩ সালের ১ মার্চ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদী খান থানার ঘনশ্যামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

তার পিতা মরহুম আব্দুর রউফ খন্দকার। ভাষা সংগ্রামী আব্দুর রকিব খন্দকার ১৯৪৭ সালে রায় বাহাদুর শ্রীনাথ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর ভর্তি হন ঢাকার জগন্নাথ কলেজে। জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করে। ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সংযুক্ত ছিলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে। বাংলাদেশ পুলিশের আইজি হিসেবে অবসর নেন ১৯৯০ সালে।

২০১০ সালের ২৫ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

২০০৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভাষা সংগ্রামী আব্দুর রকিব খন্দকারের বনানীর বাসায় সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন তারিকুল ইসলাম মাসুম

তা ই মাসুম: পড়ালেখা করেছেন কোথায়? ভাষা আন্দোলনে জড়িত হলেন কীভাবে?
এ. আর. খন্দকার: ম্যাট্রিক পাশ করেছি আমার গ্রামের স্কুল থেকে। আমার স্কুলের নাম হলো, রায় বাহাদুর শ্রীনাথ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়। ফোর্টি সেভেনে পাশ করলাম ম্যাট্রিক। ম্যাট্রিক তো ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করলাম। উচ্চ মাধ্যমিক জগন্নাথ কলেজ ঢাকা। ফোর্টি এইটে পাশ করলাম, ইন্টারমিডিয়েটেও ফার্স্ট ডিভিশনে পাশ করলাম ফোর্থ স্ট্যান্ড করলাম।। তারপরে আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। ইকোনোমিক্সে অনার্স। ওই নাইন্টিন ফোর্টি নাইনে।

ভাষা আন্দোলন দুইটা হলো। দুই ভাগে ভাষা আন্দোলন হলো। প্রথমবার যখন কলেজে পড়ি তখন ভাষা আন্দোলন শুরু হলো। দ্যাট ওয়াজ ইন নাইন্টিন ফোর্র্টি এইট। তখন আমরা কলেজ থেকে এসে এসে মোটামুটি আমরা জয়েন করতাম। জগন্নাথ কলেজ আবার পলিটিক্যালি অ্যাডভান্স কলেজ ছিল তখন। তখনকার দিনে অন্যান্য কলেজে এতো পলিটিক্স ছিল না আমাদের কলেজে ছিল কিছু।

তারপরে হলো, আমি যখন অনার্সে পড়ি, অনার্স থার্ড ইয়ার, নাইন্টিন ফিফটি টু। তখনই সেকেন্ড টাইম হলো। আচ্ছা, প্রথমবারে হলো, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উনি ঢাকায় আসলেন নাইন্টিন ফোর্টি এইটে। আমার মাস মনে নাই।

তা ই মাসুম: মার্চ মাসে।
এ. আর. খন্দকার: মার্চ মাসে উনি আসলেন পাকিস্তান হওয়ার পরে। ঢাকার রেসকোর্সে উনি একটা পাবলিক মিটিংয়ে অ্যাড্রেস করলেন। বহু লোক হলো সেই মিটিংয়ে। তখন ডায়াসের ওপরে ছিল, আমরা হল থেকে অ্যাটেন্ড করলাম ওই মিটিংয়ে। ডায়াসের ওপরে ছিল বিসাইডস মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ডায়াসে ছিল নূরুল আমীন সাহেব। মিস্টার নূরুল আমীন চিফ মিনিস্টার অব ইস্ট পাকিস্তান। আর ছিল ফজলুর রহমান। এই সালমান রহমানের বাবা। হি ওয়াজ এ মিনিস্টার।

তা ই মাসুম: কী মিনিস্টার ছিলেন উনি?
এ. আর. খন্দকার: উনি, ঠিক মনে নাই আমার। তারপরে ছিলেন প্রাক্তন ছাত্রনেতা, বিখ্যাত ছাত্রনেতা আব্দুল ওয়াসেক। তার বাড়ী বাররা। নবাবগঞ্জ থানা। বিখ্যাত ছিল সেই সময়। ভেরি গুড অর্গানাইজার। আরো কয়েকজন ছিল। এই যে বর্ধমান হাউজ যেটা, বর্তমান বাংলা একাডেমি তার সামনে রেসকোর্সে। এপার ওপার মঞ্চটা ছিল। আমরা হলের থেকে যেসব ছেলেরা গেলাম। তার মধ্যে আমাদের নেতৃস্থানীয় কিছু ছিল।

তা ই মাসুম: কারা ছিলেন?
এ. আর. খন্দকার: কী নাম… ময়মনসিংহের ভদ্রলোক নামটা আমার একটু পরে মনে পড়বে। যে নূরুল আমীনরে হারাইছিল ইলেকশনে। ময়মনসিংহ বাড়ি।

তা ই মাসুম: খালেক নেওয়াজ?
এ. আর. খন্দকার: হ্যাঁ, খালেক নেওয়াজ। খালেক নেওয়াজ ছিল, তারপরে ফকির সাহাবুদ্দিন ছিল, কে জি মুস্তাফা একজন ছিল, এখনো আছেন তিনি জীবিত।

তা ই মাসুম: সাংবাদিক?
এ. আর. খন্দকার: হ্যাঁ, তারপরে আরো অনেকেই ছিল সেই সময়, মুজিবুল হক ছিলেন, পরে কেবিনেট সেক্রেটারি হইল। তারপরে বোধহয় শামসুল কিবরিয়াও (এসএম কিবরিয়া) ছিল ওই যে ফাইন্যান্স মিনিস্টার মারা গেলেন। মুহিত, এ এম এ মুহিত, আবুল মাল আব্দুল মুহিত ওর নামও ছিল। একজনের নাম ছিল খোদা হোফেজ, তার নাম হলো খোদা হাফেজ, এখনো আছে উত্তরায় থাকে। এরকম আরো অনেকে ছিল।

এখানে এ্যামংস আদার থিং, উনি (মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ) একটা ডিক্লারেশন দিলেন যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষাটা উর্দু হবে। একমাত্র উর্দুই হবে। ‘শ্যাল বি উর্দু অ্যান্ড উর্দু অ্যালোন’ এই কথা বলছিলেন। ইন হিজ ওন ল্যাংগুয়েজ। তখন আমরা যারা ছাত্ররা ছিলাম, তখন আমরা এখানে হৈ চৈ করে উঠলাম। মানে ডিস অ্যাপ্রুভিং। ডিস অ্যাপ্রুভিং দ্য ডিক্লারেশন। পরের দিন কার্জন হলে, দেয়ার ওয়াজ সর্ট অব ইন্টারভিউ, সেখানে আমাদের এই ছেলেরা গেল। আমি ছিলাম সাথে। খালেক নেওয়াজ এরা সবাই গেল।

সেখানে বলা হয় যে, এরকম যেহেতু আমরা বাঙালি পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ, সুতরাং আমাদের ভাষা না করে, সেখানে উর্দু ভাষাটা করা সঙ্গত হচ্ছে না। কিন্তু তিনি, হি ওয়াজ ভেরি ফার্ম। হি (মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ) ডিড নট চেইঞ্জ হিজ মাইন্ড। তারপর তো উনি চলে গেলন। আমরা একটু কয়েকদিন হৈ চৈ করলাম। দ্যাট ইজ ডাইড ডাউন। মুভমেন্টটা ডাই ডাউন করে গেল। তখন একটা ব্যাপার ছিল। ঢাকইয়া লোকরা যারা ছিল। ঢাকার যারা ছিল অরিজিন্যাল বাসিন্দা। তারা বেশিরভাগই উর্দু বলতো।

এই যে ইসলামপুর, নাজিরা বাজার, বংশাল এইসব এরিয়ার লোকেরা উর্দু বলতো বা বাংলা বললেও বাংলার সঙ্গে একটু উর্দুর মতো বাংলা বলতো। তো, তারা আমাদেরকে বিরোধীতা করতো। তারা বলতো যে, উর্দুই হওয়া উচিৎ মুসলমানদের ভাষা। উর্দুই হওয়া উচিৎ। তারপরে, এনিওয়ে মুভমেন্ট ডাইড ডাউন। তারপরে আবার কিছু দিন পর, কোন ইয়ারে এটা? ফিফটি টুতেই বোধ হয়।

তা ই মাসুম: ফিফটি টু’র জানুয়ারি।
এ আর খন্দকার: নাজিমুদ্দিন সাহেব, হি কেইম। তিনি তো ঢাকার ছেলে। উনি আবার রেইজ দিস ইস্যু। এবং বললেন যে, না, উর্দুই হবে। ওনারাও উর্দু স্পিকিং ছিলেন। নাজিমুদ্দিনরা উর্দুভাষী ছিলেন। তখনই এই মুভমেন্টটা আবার শুরু হলো। এবং এটা মোস্টলি চ্যাম্পিয়ন করলো ছাত্ররা। তাও মুসলিম হলের ছাত্ররা আমরা। আমাদের সঙ্গে আসল অন্যরা, এই ফজলুল হক হলের ছেলেরা এলো, মেডিকেল কলেজের ছেলেরা এলো।

এবং সলিমুল্লাহ হলে ভাষার ব্যাপারে মিটিং হলো। মিটিংটা যে রুমে হয়েছিল, সেটাও আমার মনে আছে। যাক সেটা বললাম না। মিটিং হলো। মিটিং হইয়া একটা কমিটি ফর্ম করলো। ওইটা কী কমিটি বলে, সংগ্রাম কমিটিও বলতে পারো বা এ ধরনেরই একটা কমিটি হলো। তারপরে সেই কমিটির কাজ হইল, আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য মিটিং মিছিল, প্রভাতফেরি, লিফলেট, প্যাম্পলেট ইত্যাদি ছড়ানো। এই শুরু করা হলো।

তা ই মাসুম: ওই কমিটিতে ছিলেন কারা?
এ. আর. খন্দকার: কমিটিতে, আমার ঠিক একজাক্টলি তো মনে নাই, তবে এরা এরা ছিল, ধরো যে কয়টা নাম আগে বলছিলাম। খালেক নেওয়াজ, তারপরে অলি আহাদ, কালু কবির।

তা ই মাসুম: কালো কবির?
এ. আর. খন্দকার: কালু-কালু, এই যে আহমেদুল কবিরের ভাই। সংবাদের এডিটর আহমেদুল কবিরের ছোট ভাই কালু কবির। তারপরে আমাদের সলিমুল্লাহ হলে তখন ফিফটি টুতে কে ছিল ভিপি? ভিপি ছিল আমার মনে নাই ঠিক। কে ছিল ভিপি…? শেলী বোধ হয় ছিল এই যে,

তা ই মাসুম: বিচারপতি?
এ. আর. খন্দকার: বিচারপতি শেলী। কি নাম?

তা ই মাসুম: হাবিবুর রহমান শেলী
এ. আর. খন্দকার: হ্যাঁ, উনি বোধ হয় ছিলেন। তারপরে আব্দুর রহমান চৌধুরী ছিল, না আব্দুর রহমান চৌধুরী বোধ হয় পাস আউট করে গেছেন, ছিল না পাস আউট করে গেছেন।

আমি তখন অ্যাথলেটিক্স সেক্রেটারি ছিলাম হলের। আই ওয়াজ অ্যাথলেটিক্স সেক্রেটারি। আমাদেরতো এমনিই দায়িত্ব ছিল আরকি। শামসুল কিবরিয়া পরে মুভমেন্ট জয়েন করেছিল। এগুলি বেশি করতো, ওই যে কি জানি বললাম?

তা ই মাসুম: অলি আহাদ?
এ. আর. খন্দকার: অলি আহাদ খুব অ্যাক্টিভ, আর কে জি মুস্তাফাও খুব অ্যাক্টিভ ছিল। এই দুই জন খুব অ্যাক্টিভ। আর ফকির শাহাবুদ্দিন এরা ছিল। আরেক ভদ্রলোক ছিলেন, তার নামটা আননোন থেকে যাচ্ছে। তার নাম ছিল মিস্টার একরামুল আমীন, ডাক নাম আসাদ।

তা ই মাসুম: আব্দুল মতিন সাহেব কি ছিলেন আপনাদের হলে?
এ. আর. খন্দকার: গাজীউল হক ছিলেন। গাজীউল হলে থাকত না। ফজলুল হক হলে থাকত বোধ হয়। সে আমাদেরই ছিল। হি ওয়াজ আওয়ার মাসলম্যান। প্রভাতফেরিটা সে অর্গানাইজ করতো। ওর সঙ্গে ওর ছোট ভাইও ছিল। গাজীউল হকের ছোটভাই ছিল একটা গান গাইতো। একটু ও ই গান গাইতো।

তা ই মাসুম: গণ সঙ্গীত?
এ. আর. খন্দকার: হ্যাঁ, ওই টাইপের গান গাইতো। ওই যে ‘ভুলব না ভুলবনা’ ওই গানটা। সে-ই, সুর করতো বোধ হয়। তারপরে ঐ, একবার একটা গভর্নমেন্ট কী করল! প্রশেসন করাটা ওয়ান ফোর্টি ফোর কইরা এগুলা ব্যান্ড কইরা দিল। তখন তো আর্টস বিল্ডিং ছিল আমতলা। ঐখানে আমরা মিটিং মিছিল করলাম। করার পরে, ইট ওয়াজ ডিসাইডেড ওয়ান ফোর্টি ফোর আমরা ভাঙ্গবো না। তবে আমরা ৪ জন ৪ জন করে প্রশেসন একটা করব। ৪ জন ৪ জন করে গ্রুপ করে যাবে আরকি। মানে, টেকনিক্যালি যদিও ভাঙ্গা হল না। কিন্তু আসলে ভাঙ্গা হলো। ডিফাই করা হলো অর্ডারটাকে।

তখন এইটুকু এখানে আমার ডাইরেক্ট নলেজ আছে এটার। সেটা হলো, পুলিশ আমাদের ধাওয়া করলো। ধাওয়া করলে পরে ছেলেরা সব ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। তো, এগেইন রিঅ্যাসেম্বল ইন ফ্রন্ট অব দি মেডিকেল কলেজ হোস্টেল। সেটা ছিল বাঁশের ব্যারাক ছিল। এই যেখানে শহীদ মিনারটা এখন, এই জায়গায়, এই জায়গার পেছনে কতগুলো বাঁশের লম্বা লম্বা ব্যারাক ছিল। ঐখানে গিয়া সব ছেলেরা জড়ো হলো।

পুলিশরা উল্টা দিকে ছিল। তখন ঢিল পাথর মারল ছেলেরা পুলিশকে। পুলিশ তখন লাঠিচার্জ করল। আই ওয়াজ অলস ইন দ্যাট গ্রুপ। মানে পুলিশের পিটাপিটির মধ্যে পইড়া গেছিলাম। তারপর ছেলেরা যখন আবার ঐ জায়গায় জড়ো হলো। তখন গুলি করল। গুলি চার্জ করল হঠাৎ! ঐখানে, ঠিক আমার পাশেই ছিল ঐ ছেলেটা রফিক। এবং উনি পড়ে গেলেন। আরেকজন পড়ে গেলেন। আমাদের সাথের ছেলেরা ধরাধরি কইরা মেডিকেল কলেজের ভেতরে নিয়া গেল।

আর সালাম যে, সালাম পরের দিন না-কি, ওই দিনই হাইকোর্টের সামনে একটা প্রসেশনের মধ্যে গুলি খায়। পরে, সালাম কিন্তু এইখানে ছিল না। আর সালাম কিন্তু ছাত্র মনে হয় না। হি ওয়াজ এমপ্লয়ি অব দ্য হাই কোর্ট, বোধ হয় ছিল খুব সম্ভব। ছাত্র ছিল না সে।

তা ই মাসুম: উনি মারাও তো গেছেন পরে।
এ. আর. খন্দকার: পরে মারা গেছে। আমি তো হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। আমার পাশের বেডে ছিল সালাম। এবং রাত্রি বেলা, মাওলানা ভাসানী, হি ওয়াজ কেইম টু সি আস। ফলমূল দিয়া গেল। কেইম টু সি আস। আরেকটা প্রসেশন হইছিল, এটার আমি টাইমটা ঠিক মনে করতে পারছি না। সেই প্রসেশনের মধ্যে আতাউর রহমান খান ছিলেন। এবং আমার মনে আছে আরমানিটোলা মাঠে গিয়া একটা মিটিংও করলেন। আমরা ঐখান থেকে গিয়া ঐ আরমানিটোলা মাঠে গিয়া মিটিং করছিলাম। এরমধ্যে বোধ হয় তারা ওয়েস্ট পাকিস্তান থেকে করল। ঠিক আছে, বাংলা উইল বি ওয়ান অব দ্য স্টেট ল্যাংগুয়েজ। আচ্ছা, এই তো।

তারপরে তো প্রতি বছর, ওখানে একটা শহীদ মিনার বানান হইল। প্রথমে একটা ইট দিয়া বানানো হয়েছিল। যেখানটায় তোমার বেদীটা। তারপরে প্রতি বছরই ওখানে ফুল দেওয়া হইত। আযম খান কিন্তু এইটা শেপ দিছে। গভর্নর আযম খান। সে-ই, কিন্তু ছাত্রদের স্পেসিফাই করার জন্য এই শহীদ মিনারটা এখানে বানানো হয়, তার পৃষ্ঠপোষকতায়। এবং উনি মুসলিম হলের ভিতর হঠাৎ হঠাৎ আইসা পড়তেন ড্রাইভ কইরা। ছেলেদের সাথে বসে ডাইনিং হলে খেয়েছেও সে। আমরা তখন ছাত্র না। আমরা তখন নাই বোধ হয়। আমরা জানতাম।

তারপর তার বিরুদ্ধে এখান থেকে রিপোর্ট হয়েছে, তার এগেনেইস্টে। যে উনি, হি ইজ টু মাচ বেনলিব উইথ স্টুডেনটস। তখন তাকে ডিও লেটার লেখে। তাকে একটা ডিও লেটার লেখে আইয়ুব খান। তার উত্তরও তিনি দেন। দেন, হি ওয়াজ উইথড্রন। এবং এটা তুমি পাবে ঐ যে আবু সাঈদ আছে না? মন্ত্রী ছিল। ও একটা বই লেখছে, ‘যুদ্ধের অন্তরালের যুদ্ধ’ এই ধরনের একটা বই লেখছে। সেই বইটার মধ্যে ঐ ডিও লেটারগুলা আছে।

তা ই মাসুম: স্যার, ভাষা আন্দোলন সেই ১৯৪৭ সাল থেকে ধরলে ৬০ বছর। এই ৬০ বছরে আমাদের যে চেতনা ছিল, আপনাদের যে চেতনা ছিল, সেই চেতনার বাস্তবায়ন কতদূর হয়েছে?
এ. আর. খন্দকার: সেই চেতনার বাস্তবায়ন, কিছু যে অ্যাডভান্সমেনট হয় নাই তা বলব না। যেমন ধরো, বাংলায় মুসলমানরা তো, দে আর ভেরি মাচ ব্যাকওয়ার্ড অ্যাস পার দি বেঙ্গলি লিটারেচার অ্যান্ড কালচার। বাংলা সাহিত্যের ব্যাপারে, এক্সেপ্টিং ইউ রাইটার লাইক, বিষাদ সিন্ধু কে যেন লিখছেন? মোশাররফ হোসেন।

তা ই মাসুম: মীর মোশাররফ হোসেন।
এ. আর. খন্দকার: মীর মোশাররফ তারপরে আমাদের ঐ, কী সিরাজী?

তা ই মাসুম: ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
এ. আর. খন্দকার: ইসমাইল হোসেন সিরাজী, তারপরে তোমার, মানে মুসলিম ওরিয়েন্টেড রাইটার্স, ধরো যে সওগাত, তারপরে এ ধরনের কতগুলো পেপার ছিল না?

তারপরে মাওলানা আকরাম খাঁ’র আজাদ পত্রিকা। এগুলো থেকে, তখন তো একটা মুসলিম টাইপ অব, মুসলিম প্রধান্য দিয়া, মুসলমান কৃষ্টি, সভ্যতা প্রধান্য দিয়া এই সমস্ত কয়েকটা নাটক নভেল লেখা হইছিল, সেই সময়ে এই লোকেরা। কিন্তু এটা হওয়ার পরে বিস্তৃত হইছে। সাধারণ সাহিত্যে যথেষ্ট লেখক বেরিয়েছে, কবি বেরিয়েছে। এটা তো অ্যাডভান্সমেন্ট হইছে।

তা ই মাসুম: দেশ স্বাধীন হয়েছে।
এ. আর. খন্দকার: হ্যাঁ, ওইটাই তো গোড়াপত্তন করল। ঐ যে একটা আন্দোলনের সূত্রপাত হইল, সেটা ট্রুথলি সেই মাপের কালচারাল মুভমেন্ট। এবং প্রতি বছরই এটা ঐ ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনটা অত্যন্ত জোরেশোরে হতে লাগল। এবং এটা নিদেন গভর্নমেন্ট, এটাকে সব সময়ই বৈরি চোখে দেখতো। এবং তারা এটা সাপ্রেস করার চেষ্টা করতো। এবং তারা বলতো, মে বি দে হ্যাড ফ্যাক্টস যে, এটা, ইট উইল বি ইনফুলেন্সড বাই ওয়েস্ট বেঙ্গল। এটা প্ররোচনা দিয়ে তারা করাচ্ছে। সুতরাং এটাকে তারা ঐভাবে দেখতো আরকি। সাপ্রেস করার চেষ্টা করতো।

আর যতই সাপ্রেস করার চেষ্টা করে, ততই এই জিনিস বাড়ে। একটা নদীকে যদি বাধ দাও, দেখবা নদীটা দু’কুল ছাপিয়ে বেরিয়ে আসবে। তো ঐ রকম হলো। এটা একটা সুযোগ হলো, পিপল টু অ্যাসেম্বল, অ্যানার্জেটিক, অর্গানাইজ প্রসেশন্স। কিন্তু এখন হইছে কি? এখন তো নতুন কনসেপ্ট। সেটা হলো, গ্লোবালাইজেশন হইছে। গ্লোবালাইজশেন ইজ নিউ আইডিয়া, নিউ কনসেপ্ট। গ্লোবাল ভিলেজ। এবং গ্লোবাল ভিলেজ যদি হয়, তাহলে ইউ নিড এ কমন লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা।

এবং সেটাতো বাংলা ভাষা পূরণ করতে পারে না। নো রিজিওনাল ল্যাংগুয়েজ। সেটা পারে না।
সেটা ফিল আপ করতেছে, যে সমস্ত কলোনিয়াল পাওয়ার ছিল, তারা নানান দেশে তাদের ট্যান্টিকোর্স স্প্রেড করা ছিল। তাদের কৃষ্টি, কালচার, ল্যাংগুয়েজ এগুলো কলোনিগুলোর মধ্যে প্রসার লাভ করছিল। এবং সেটা এখন কাজ করতেছে। যেমন ইংলিশ, আগে বলত যে, ইংরেজদের রাজ্যে সূর্যাস্ত হয় না। মানে এত প্রসার লাভ করেছিল তারা। এখন আমি দেখতে পাচ্ছি, পাট্টিকুলারলি এই তোমার ইংরেজি ল্যাংগুয়েজটা ।

ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ চায়নার যারা এক সময় ইংরেজি ল্যাংগুয়েজকে কোন দিন পছন্দ করতো না, এখন চায়না ইংরেজি ছাড়া চলে না। জাপান, ইংরেজি ছাড়া চলে না। সাউথ ইস্ট এশিয়ার যতগুলি কান্ট্রি দেখো, বার্মা দেখো, থাইল্যান্ড দেখো, ব্যাংকক, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, কম্বোডিয়া সব ইংরেজি। তারপর ইন্ডিয়া? ইন্ডিয়ায় তো পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দেয় ইংরেজিতে। প্রসিডিংস লেখা হয় ইংরেজিতে। ওদের কোর্ট ল্যাংগুয়েজ ইংলিশ। এমন কি ওদের যে সিনেমাগুলো আছে, তার অ্যাক্টর-অ্যাক্ট্রেসের নাম ইংরেজিতে। তাদের ইন্টারভিউ নিতে গেলে তারা ইংরেজি ছাড়া কিছু বলে না।

এক সময় ছিল যখন এদের ইংরেজি প্রনান্সিয়েশন খারাপ ছিল। ইন্ডিয়ার বোঝাই যেত, যে এরা ইন্ডিয়ান ছাত্র বা ইন্ডিয়ান। কিন্তু এখন, ভাল ইংরেজি বলে ছেলেরা-মেয়েরা। চমৎকার বলে তারা। দে হ্যাভ টেকেন ইংলিশ অ্যাজ এ মাদার টাং। তার একটা কারণ ছিল ওদের অনেকগুলো বিদেশি স্কুল ছিল। যেমন দার্জিলিংএ লরেডো-ফরেডো ছিল না? বোম্বাইতে, মাদ্রাজে, ক্যালকাটাতে, দিল্লিতে অনেক ইংলিশ স্কুল আছে। তারপরে দেরাদুনে, সুতরাং তারা ইংলিশে খুব অ্যাডভান্স হয়ে গেছে।

তা ই মাসুম: স্যার, আমাদের এখন অ্যাডভান্স হওয়ার জন্য কী করা দরকার?
এ. আর. খন্দকার: আমি তো মনে করি, আমাদের বাই লিংগুয়াল হওয়া উচিৎ। লাইক ইউরোপে ফ্রান্স, জার্মানি একসময় ইংরেজি তারা হেইট করত! হেইট করত! কিন্তু এখন তাদের সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ। ইংলিশ ইজ সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ। ফ্রান্সে ফেঞ্চ-ইংলিশ। জার্মানিতে জার্মান-ইংলিশ। আমাদেরও ঠিক তেমনি এখন বাই লিংগুয়াল হওয়া উচিৎ।

যেমন বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে আমাদের শ্রমিকরা। তারা যদি ওদের ভাষা না জানে, তাহলে তো খুব বেকায়দায় পড়ে যাচ্ছে। তো, সেই জন্যে আমি মনে করি, উই শুড হ্যাভ বিন বাই লিংগুয়াল, বাই লিংগুয়াল কালচার। এবং আমাদের ফার্স্ট ল্যাংগুয়েজ বাংলা, অ্যান্ড সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ ইংলিশ। এবং আমাদের খুব ক্ষতি হয়ে গেছে, ঐ যে দুই বছর মাঝখানে ইংরেজি পড়া বন্ধ করে দেওয়া হইছিল। ইন দ্য লোয়ার ক্লাস। তাতে হইছে কী? ওই দুইটা বছর ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট ইন দ্যা লাইফ অব এডুকেশন। এখন অনেক পেছনে পড়ে গেছে আমাদের লোকেরা।

আগে আমাদের গ্রামের লোকেরা ইংরেজি পড়তো, বলতো, লিখতো, বুঝতো এবং গ্রামাটিক্যালি খুব শুদ্ধ ছিল তারা। এখনকার ছেলেরা গ্রামার জানে না। এখন আশ্চর্য হই ইউনিভার্সিটির ছেলেরা যারা ইংরেজি পড়ে? তার ঠিকমতো ইংরেজি বলতে পারে না। আমি যখন আইজি ছিলাম। অফিসারদের আমরা পাঠাতাম ব্রিটেনে ফর ট্রেনিং। এখনো যাচ্ছে। তো সেখানে ভেরি সিনিয়র অফিসার্স ডিআইজি র‌্যাঙ্কের অফিসার, দে ওয়্যার রিজেক্টেড, বিকজ দে ডিড নট নো দ্যা ল্যাংগুয়েজ। তারপরে তারা ব্রিটিশ কাউন্সিলে, তারা একটা ল্যাংগুয়েজ কোর্স করলো। যারাই, যেই ছেলেটার হবে যাওয়ার জন্য, তাকে ওখানে অ্যাটেন্ড করতে হবে ল্যাংগুয়েজ কোর্স দু’মাসের। ইংরেজিটা ঝালাই করে।

ন্যাচারালি স্বাধীনতা তো, ঠিক আছে, কতগুলি দিকের মধ্যে একটা দিক হলো যে, ইউ শুড ফিল প্রাউড দ্যাট ইউ আর সিটিজেন অব এ ইন্ডিপেন্ডেন্ট নেশন। সেই প্রাইডটা যেন আমি দেখতে পাচ্ছি না। লোকের মধ্যে সেই প্রাইডটা নাই। লোকের মধ্যে হীনমন্যতা প্রিভেইল করছে, হীনমন্যতা। মানে, বিদেশি লোক দেখলে বা বিদেশি কিছু হইলে, নিজেরা যেন অটোমেটিক্যালি তার কাছে যেন সাবমিট করে। এবং ঐটারে বড় মনে করে। যদিও আমরা প্রকারন্তরে বলে থাকি যে, আমাদের হাজার বছরের সভ্যতার নিদর্শন আছে। আমরা প্রায় প্রায়, ডিগ আউট কইরা বাইর করতেছি।

কিন্তু আবার অন্য দিকে দেখি যে, বিদেশি লোকজন দেখলে পরে, আমরা একটু যেন দুর্বল হয়ে যাই। তার কাছে যেন সাবমিট করে ফেলি। এই যে অ্যাম্বাসেডরগুলা আসে, এরা তো জয়েন সেক্রেটারি র‌্যাঙ্কের লোক! মোস্ট অব দ্যা অ্যাম্বাসেডর, জয়েন সেক্রেটারি র‌্যাঙ্কের লোক।

আগে দেখতাম, অ্যাম্বাসেডররা আমি যখন আইজি ছিলাম অনেক সময় যখন, আমার সঙ্গে দেখা করতে আসতো। খুব সহজে তাদের সাক্ষাৎ দিতাম না। এই যে ব্রিটেন, আমেরিকার অ্যাম্বাসেডররা এখন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে! অ্যাম্বাসেডররা তখন ১৬ নম্বর লেভেলে ছিল। এখন তারা টপ চার্টে চলে গেছে। আমরা কিভাবে চলবো, কেমনে দেশ শাসন করবো, কী করব না করবো, আমাদেরকে তারা সার্ভ দিয়ে বেড়াচ্ছে।

এটা কেন? এটা এই জন্য যে, উই আর নট ম্যানেজিং আওয়ারসেলফস, হোয়াই নট প্রোপার? এবং আমরাও ওদেরকে, ওদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকি সবসময়। এমনকি মাঝে মাঝে কিছু ব্যাংকের লোক দেখি। বিদেশি ব্যাংকের লোকজন। আমাদেরকে অ্যাডভাইস করে। এবং আমাদের যে টপ মোস্ট অ্যাডমিনেস্ট্রেটর আছে বা হেড অব দ্য স্টেট আছে তাদের কাছে গিয়ে কথা বার্তা বলে যায়! সমানভাবে বসে কথাবর্তা বলে যায়!

তুমি যাও তো দেখি অন্য দেশে? তুমি চান্স পাও নাকি? তোমার দেশের কোনো ব্যাংকার গিয়া চান্স পায় নাকি তার সঙ্গে দেখা করার? কথা বলার? এটা হবে কেন? আগে তো একদিন ছিল, ঐ যে তোমার গোখলে বলে এক লোক, উনি লিখছিলেন, ‘হোয়াট বেঙ্গল থিংস টু ডে রেস্ট অব ইন্ডিয়া থিংস টুমরো’। ছিল না? হোয়াট বেঙ্গল থিংস টুডে আদার থিংস টুমরো। রেস্ট অব ইন্ডিয়া বললাম না। আমরা যা বলতাম সেটা অন্যরা বলতো পরে। সেই একটা পজিশন আমাদের ছিল। এখন নাই কেন?স্টুডেন্ট শুড বি ফ্রি। টু থিংক এবাউট দেমসেলফ্স, টু থিংক এবাউট দি কান্ট্রি, টু থিংক এবাউট দ্যা প্রবেলম টু দি কান্ট্রি, টু থিংক এবাউট ইন্টারনাল প্রব্লেমস। দ্যাট মে অ্যাফেক্ট আওয়ার লাইফ। তো দলীয় পলিটিক্স না, এভাবে পলিটিক্স করুক? পলিটিক্যাল থিংকিং তো করবেই তারা। দে আর রিডিং পলিটিক্স। তাদেরকে তো পড়ানোই হয় পলিটিক্যাল সাইন্স। এটা একটা আমার মনে হয়।

আর ভাষা আন্দোলন থেকে যথেষ্ট সোভার উৎকর্ষ হওয়া দরকার। শালীনভাবে আমাদের ভাষার উৎকর্ষ সাধন করা দরকার। মাঝে মাঝে দেখি, দু’একজন লোক দেখি, যেমন একজন কবি আছেন আব্দুল ওহাব, তারপরে একজন হিন্দু ভদ্রলোক আছেন ওনার নাম মনে নাই। এরা মাঝে মাঝে ঐ ভাষার বানান সন্মন্ধে কথাবার্তা বলেন টিভিতে। এটা ভাষাটাকে একটু সহজীকরণ করার চেষ্টা করা উচিৎ।

এবং আমি শুনেছি বা কোথাও পড়েছিলাম যে, মুসলমান রুলার, কি নাম তার? নাসিরুদ্দিন বোধ হয় নাম তার। নাসিরুদ্দিন শাহ। তিনি এই বাংলা ভাষাকে এনকারেজ করতেন টু গ্রো। এবং তার নাম ছিল ‘গৌড় প্রাকৃত’। এই ময়মনসিংহ এলাকাটা একটা গৌড় ছিল, ‘গৌড়’।

এবং এখান থেকে যে ল্যাংগুয়েজটা উঠে এসেছে সেটা হলো ‘গৌড় প্রাকৃত’। এই গৌড় প্রাকৃত ল্যাংগুয়েজটাকে তারা এনকারেজ করে, এবং গ্রো করতে সাহায্য করে। আর কিছুটা সংস্কৃত থেকে উদ্ধারকরে। সংস্কৃত যে একটা ই ছিল।

তা ই মাসুম: প্রভাব?
এ. আর. খন্দকার: প্রভাব ছিল, সেটা কিছুটা উদ্ধার কইরা কিছু লোকাল চলতি শব্দগুলো সেটা এই ভাষার মধ্যে আনা হয়। তারপরে এই বাংলাটা অনেক লিবারেলাইজ। এবং আজকে আরো লিবারেলাইজ করা হচ্ছে। তো এটা একটু আমার মনে হয় এদিকে যারা ভাষাবিদ, যারা ভাষা সন্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা করেন তাদের মনে হয় এদিকে আরো বেশি প্রচেষ্টা নেওয়া দরকার।

আফটার অল ভাষাটা কি? ভাষাটা হচ্ছে, মনের ভাবটাকে প্রকাশ করা। তুমি যে জিনিসটা মনে মনে চিন্তা করতেছ, সেটা মুখ দিয়া প্রকাশ করাই ভাষা। এটা যত সহজে, তুমি আমার কাছে বোধগম্য হবা, ততই তো ভাল।

তা ই মাসুম: জ্বি।
এ. আর. খন্দকার: ঐ যে লিখতেই হবে, ব্যাঞ্জনবর্ণ দিয়ে, সেটাতো কোন দরকার তো নাই। যদি তুমি, সহজে তুমি প্রকাশ করতে পারো। কঠিন করা কী দরকার? সহজে কর।

এই যে ধর, ইংরেজি। ইংরেজিতে কোন যুক্তাক্ষর নাই। আর আমাদের যুক্তাক্ষর ছাড়া চলেই না। আরবিতেও যুক্তাক্ষর নাই। আমাদের যুক্তাক্ষর, এমনকি তিনটা অক্ষর এক জায়গায় মিলে যায়। তাই না?

তা ই মাসুম: এটা হতে পারে যে, আমাদের ভাষার একটা বৈশিষ্ট্য।
এ. আর. খন্দকার: না, বৈশিষ্ট্যের দরকার নাই। যত সিম্পলিফাই করবা ততো ভাল। তাইলে আরো বেশি প্রসার লাভ করবে এটা। বৈশিষ্ট্য ধইরা বসে থাকার দরকার নাই তো তোমার।

দেয়ার আর মোর দেন ফাইভ থাউজেন্ড ল্যাংগুয়েজেস। কোন একটা ল্যাংগুয়েজ মানুষের তৈরি না। মানুষের মুখ দিয়া বের হচ্ছে। বাট ইটস কামস ফ্রম হয়্যার? এবং পাখিরা যে একে অন্যের সঙ্গে কথা বলে, তুমি যদি অবজার্ভ কর যে, দে আর টকিং অ্যান্ড ইউ নট আন্ডারস্ট্যান্ড। ওরা ওরা ওদের কথা বোঝে।

তেমনি আমাদের মানুষের মধ্যে কত ভাষা? মোর দ্যান ফাইভ থাউজেন্ড ল্যাংগুয়েজ। সুতরাং একটা পাট্টিকুলার ল্যাংগুয়েজ দিয়া, আমাদের এত মারপিট করার দরকার নাই। আমাদের যেটা বুঝি আমরা, যে ভাষায় আমরা ব্যক্ত করতে পারি নিজেকে, গুড এনাফ। আর আমাদের যে পৃথিবীটা গ্লোবাল ভিলেজ হয়ে গেছে। তাই অন্যান্য কিছু ল্যাংগুয়েজও আমাদের জানতে হবে, শিখতে হবে। নাইলে তো আমরা মিশতে পারব না।

তা ই মাসুম: আমরা যদি আরেক জনকে না জানি, আরেকজন তো আমাদের জানবে না? তাই?
এ. আর. খন্দকার: জানবে না। এবং তুমি তার সঙ্গে মিশতে পারবে না, সেও তোমার সঙ্গে মিশতে পারবে না। সুতরাং, এখন ঐ যে একটা ডগমেটিক চিন্তা ছিল যে, না আমার ভাষা, আমার মায়ের ভাষা। সুতরাং এই ভাষা ছাড়া আমি অন্য ভাষা বুঝি না। অন্য ভাষা আমি উৎকর্ষ সাধনের জন্য চেষ্টা করব না। বুঝার চেষ্টা করব না। লিখব না, পড়ব না অন্য ভাষায়। এ আইডিয়াটা আমার মনে হয় একটু চেঞ্জ করতে হবে, মেন্টালিটি আমাদের।

আমাদের চিন্তা হবে, যেটা শিখলে আমাদের সুবিধা, যেটা থ্রুতে আমরা অন্য কিছুতে ঢুকতে পারব, সেটাই আমাদের শেখা উচিৎ। এখন নাসা’য় যে সমস্ত জিনিস গবেষণা হচ্ছে, এইগুলি গবেষণা যদি আমরা বুঝতে চাই, তাহলে আমরা খালি বাংলা নিয়া বসে থাকলে হবে?

তা ই মাসুম: না।
এ. আর. খন্দকার: হবে তো না। সুতরাং আমাদের, ওদের ভাষাও শিখতে হবে, আমাদেরকে রপ্ত করতে হবে। আর ওদের সঙ্গে একটু ইন্টারকোর্স করার জন্য, আদান প্রদান করার জন্য ভাবের, আমাদেরকে একটু নিজেদের গন্ডি থেকে বের হতে হবে। তো, এখন তুমি যে আমাকে প্রশ্ন করলা, এই বর্তমান বাস্তবতার নিরিখে, এটা দরকার। আমার ভাষা, এটা তুমি মানো, আর না মানো, এটা তো আছেই।ঐ যে আমার বাচ্চাটা হলো, ওর যখন আট-নয় মাস হয়ে যায়। তখন তো হি স্টার্টস পিক হিজ ওয়ার্ডস। তাই না? এক বছর হলে তো কথাই বলা শুরু করে দেয়। এটা অটেমেটিক হয়ে যায়।

আল্লাহ তা’লা বলেন, আমিই তোমাকে ভাষা শিক্ষা দিছি। সুরা আর রহমানে পড়ো। তোমার ভাষা আমি তোমাকে শিখিয়েছি। কথা বলা আমি তোমাকে শিখিয়েছি। কথা বলা তিনি যদি না শিখান, তুমি শিখতে পারবে না। অনেক বাচ্চা পারে না। কান বয়রা, কথা বলতে পারে না।

এই যে পঞ্চ ইন্দ্রিয় একটা না থাকলেই তুমি অচল। এর একটাও তুমি বাদ দিতে পারবা না। একটাও তোমার ক্ষমতা নাই। তোমার ক্ষমতা নাই যে, এর একটা তুমি বানাতে পারবা।

আর দ্বিতীয় হলো, তুমি যেটা বলছ, আমরা তো স্বাধীন হইছি। এখন, এটা তো একটা রাজ্য, এটা তো আল্লাহ দেন। এটা যদি উপর থেকে যদি স্যাটেলাইট থেকে দেখ, তুমি যদি প্লেন থেকে দেখ, এই যে মাঠের আইলগুলো আছে, তুমি দেখতে পারবা। দেশের ভিতরে যে বিভাজনগুলো আছে, সীমানা, এগুলি তুমি দেখতে পারবা। তুমি কর নাই। যেমন, এইটা পোল্যান্ড, এইটা অমুক জায়গা, এটা বেঙ্গল বা এটা বাংলাদেশ। এগুলা তুমি কর নাই তো? সেই জন্যই বলছিলাম যে, এখন, বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে একা কেউ স্ট্যান্ড করতে পারে না।

চলবে…

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail