চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গণপরিবহন শূন্য রাজধানী, রিকশা-সিএনজিতেও নৈরাজ্য

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছুটির দিন শুক্রবারেও রাজধানীতে গণপরিবহন শূন্য। এর মধ্যে রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ভাড়া দ্বিগুণ হওয়ায় রাজধানীবাসীর বিড়ম্বনা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে দেখা গেছে, শ্রমিক নেতাদের কেউ কেউ গাড়ি চালাতে নিষেধ করছেন চালকদের। অনেকে আবার চালকদের গাড়ির চাবি কেড়ে রাখছেন।

রাজধানীর আসাদগেট, ফার্মগেট, বিজয়সরণী রোড, শ্যামলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড়ের মতো এর মতো ব্যস্ততম সড়কগুলোতে তেমন সাধারণ যান চলাচল চোখে পড়েনি।

এসব বাসস্টপে মানুষকে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছেছেন অনেকে।

তবে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বিআরটিসি বাস নিয়মিত ছেড়েছে। তবে লেগুনায় শ্রমিক সংগঠনের কর্মীদের নিষেধাজ্ঞা থাকায় যাতায়াত করতে পারছে না।

এই সুযোগে রাস্তায় থাকা রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিক্সা গুলো ভাড়া হাঁকাচ্ছে দুই থেকে চারগুণ।

ভোগান্তির শিকার এমনই একজন যাত্রী ফারিহা। লালমাটিয়া আড়ং থেকে রিকশায় নীলক্ষেত যেতে রিক্সাচালক আড়াইশ’ টাকা ভাড়া চায়, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া সর্বোচ্চ ৮০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থানরত শোয়েব অভিযোগের সুরে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান: ফার্মগেট যাবো, দু’য়েকটা লেগুনা আসলেও একটু আগে শ্রমিক পরিবহনের কর্মীরা লেগুনার চাবি নিয়ে ড্রাইভারসহ যাত্রীদের নামিয়ে ধমকের সুরে বলেছেন রাস্তায় গাড়ি চালাতে দেব না।

ফার্মগেট থেকে গুলিস্তান যাওয়ার সময় সিফাত চৌধুরী নামের এক যাত্রী জানান, সিএনজি অটোরিক্সা চালক তার কাছে ছয়শ’ টাকা ভাড়া চাইছেন।

রমিজ মিয়া নামের এক রিক্সা চালক বলেন, আমাগো ঈদ লাগছে, গাড়ি ঘোড়া নাই একটু বেশি টাকা চাওয়া কি খু্ব দোষের?

সিনএনজি চালিত এক অটোরিক্সা চালক বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি বের করেছি, তাই ডাবল ভাড়া চাচ্ছি। গাড়ির কোন ক্ষতি হলে কেউ আর জরিমানা দিবে না।

শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে না থাকলেও অঘোষিত কোনো পরিবহন ধর্মঘট চলছে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ বাস ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলী খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, কেউ যদি অনিরাপদ মনে করে পরিবহন চালানো বন্ধ রাখে তাহলে জোর করে তো আর তার বাস বা ট্রাক রাস্তায় নামিয়ে দেয়া যায় না। এখনো পরিস্থিতি অস্বাভাবিক ও অনিরাপদ। আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ মনে হলে পরিবহন চলাচলও স্বাভাবিক হবে।

শুক্রবার বিকেলে মহাখালীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, দেশে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু সড়কে আমাদের কোনও নিরাপত্তা নেই। এ পর্যন্ত চার শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সেজন্যই রাস্তায় যানবাহন নামছে না।

খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, আমরা যখন সড়কে নিরাপদ বোধ করবো তখন থেকে গাড়ি নামাবো। এটা আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনও কর্মসূচি নয়।’

তিনি বলেন, আমরা আইন মেনে চলার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আইন অনুযায়ী দোষীদের যে শাস্তি হোক আমরা মেনে নেবো। নতুন আইনকে আমরা স্বাগত জানাই।