চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধীদল গুরুত্বপূর্ণ: মাহফুজ আনাম

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক ড. মাহফুজ আনাম বলেন: অনেক ইস্যুতে লেখা যায়, অনেক ইস্যুতে লেখা উচিত। যেমন গতবার যে সাধারণ নির্বাচন হলো, তার আগে নির্বাচন হয়েছে, পার্লামেন্টের ভূমিকা, রাজনীতিবিদদের ভূমিকা। দেখুন একটা গণতান্ত্রিক দেশে তো বিরোধীদল গুরুত্বপূর্ণ, আমরা কি সেটা পাচ্ছি? আজকে আমার পার্লামেন্টে সত্যিকার অর্থে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে ডিবেট হচ্ছে না। পাওয়ার প্লান্ট হচ্ছে, আমাদের মতো একটা দেশ, আমি নিউক্লিয়ার চাচ্ছি, এটা অনেক জটিল না? নিউক্লিয়ার একটা টেকনোলজি, এর অনেক ইতিবাচক- নেতিবাচক দিক আছে, এটা নিয়ে কি সত্যিকার অর্থে গণমাধ্যমে কোন বিতর্ক হচ্ছে?

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমের কথা বাদ দিলাম এটা কি পার্লামেন্টে উঠলো? তাহলে এই যে গণতান্ত্রিক পরিবেশের মধ্যে যে জবাবদিহিতা, পার্লামেন্ট হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র, ওখানে সব ধরনের আলোচনা হয়, এমপিদেরকে এ কারণে কোন ধরনের ডিফরমেশন ল, বাকস্বাধীনতার কোন রকম ল কিন্তু পার্লামেন্টে অপারেট করে না, সেই পরিবেশে সংসদ সদস্যরা কি আমাদের হয়ে কোন প্রশ্ন তুলছেন?

ডয়েচ ভেলেকে দেয়া সাক্ষাতকারে মাহফুজ আনাম এসব কথা বলেন। ডয়েচ ভেলের বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীন ড. মাহফুজ আনামের এই সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের গণমাধ্যম কেমন আজকে-এমন প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন: আমাদের গণমাধ্যমের সংখ্যা তো প্রচুর, কিন্তু স্বাধীনতার দিক থেকে আমরা পিছিয়ে গেছি, কোয়ালিটি উন্নতির প্রয়োজন আছে। সংখ্যায় বেশি কিন্তু কোয়ালিটিতে আমরা অনেক কম এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনতার প্রশ্নে আমার দ্বিধা, প্রশ্ন আছে।

খালেদ মুহিউদ্দীন এ প্রসঙ্গে তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন ‘‘এই কথা যখন বলেন, তখন কি আপনি আপনাকেও রাখেন? মানে আপনার বক্তব্যের মধ্যে কি ডেইলি স্টারকেও রাখছেন?”

বিজ্ঞাপন

এর জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন: অবশ্যই, আমি নিজে কমেন্ট্রি বলে একটা কলাম লিখতাম, রাজনীতিবদিদের নিয়ে লিখতাম, এখন আর সেটা লিখি না। কয়েক দিন আগে হাইকোর্টের একটা রায় নিয়ে লিখেছি, একটা প্রশংসা করতে হলো আমাকে। আমি অসহিষ্ণুতা দেখি সবক্ষেত্রে, মানে অসহিষ্ণুতা রাজনীতির ক্ষেত্রে, জুডিশিয়ারির ক্ষেত্রে, আপনার পুলিশ বলেন ওভারঅল সবাই সাংবাদিকদের চাপে রাখে। এ ধরনের একটা পরিবেশের মধ্যে আমরা কাজ করছি।

সাক্ষাতকারের মধ্যে দর্শকরা তাকে প্রশ্ন করেন- ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে আপনার মতামত কী, আপনার পত্রিকায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে রিপোর্ট হয় না কেন, আপনি সরকারের সমালোচনা কেন করেন, বাংলাদেশে সহনশীল গণতন্ত্রের ভবিষ্যত কী, কোন পথে আছে বাংলাদেশ।

এসব প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন: অসহিষ্ণুতার একটা বিরাট প্রসার ঘটেছে সর্বক্ষেত্রে, বিশেষ করে ভিন্নমতের প্রতি যে অসহিষ্ণুতা আমরা দেখছি, এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।

তিনি বলেন: ধরুন ডাকসু নির্বাচন, সব পদ ছাত্রলীগের, শুধুমাত্র ভিপির পদ একটি ছেলে পেয়েছে, এই ছেলেটি কোথাও যাচ্ছে, তাকে মারা হচ্ছে, তার ইফতার পার্টি করতে দেয়া হচ্ছে না। এটা কী ধরনের সহিষ্ণুতার পরিচয়। আমি মনে করি, এগুলোর সব যে সরকার করছে তা বলবো না, সরকারের অনুসারীরা, অতি উৎসাহীরা এগুলো করছে। আমি বলবো এদেরকে যথেষ্টভাবে বন্ধ করা উচিত। অন্যলোকের কথা শুনে ওকে কেন মারবে, এটা করতে পারবে না, এই কথাটা যদি বলিষ্ঠভাবে সরকারি দল থেকে আসতো, সরকারের ভেতর থেকে আসতো তাহলে তারা এগুলো করতে সাহস পেত না।

তিনি বলেন: আমি মনে করি এতে সরকারের ক্ষতি হয়, ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। জনগণ চুপ আছে হয়তো, কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারছে। আমি মনে করি এটা গণতান্ত্রিক সরকারের অদূরদর্শিতা, তারা ধরেই নিয়েছে যেহেতু কোন প্রতিবাদ নেই, তার মানে জনগণ এটা গ্রহণ করেছে।

মাহফুজ আনাম বলেন: আমি মনে করি যেখানে সরকারের বিরোধীদল নেই, ভিন্নমত নেই, পার্লামেন্টে অপজিশসন নেই, সেখানে আমি মনে করি স্বাধীন সাংবাদিকতা সরকারের জন্যই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস।