চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খেলায় ডুবে ঠাণ্ডা ভুলে থাকতে বলছেন সাকিব

বাংলাদেশে যেখানে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছুঁয়েছে, আয়ারল্যান্ডে সেখানে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা! গরমের দেশ ছেড়ে হিম ঠাণ্ডায় খেলতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তবুও ত্রিদেশীয় সিরিজে শুরুটা দারুণ করেছে মাশরাফীর দল। হিম ঠাণ্ডাকে ভুলে খেলায় যত মনোযোগী হওয়া যাবে, ততই ব্যাটে-বলে আগুণ ঝরানো যাবে বলে মত টাইগার সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের।

বিজ্ঞাপন

আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে বৃহস্পতিবারের তাপমাত্রা থাকবে ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এই আবহাওয়ার মধ্যেই স্বাগতিকদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় সারির দল উলভসদের কাছে প্রস্তুতিতে হেরেছে টাইগাররা। মূল দলের সঙ্গে ম্যাচের আগে অদৃশ্য চাপ তাই থেকেই যাচ্ছে! কারণ প্রতিপক্ষের চেয়ে মাশরাফীদের বড় প্রতিপক্ষ এখন আবহাওয়াই!

তবে ঠাণ্ডা থেকে বেঁচে যাওয়ার টোটকাটা বাতলে দিচ্ছেন সাকিব। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট খেলে বেড়ানো দেশসেরা অলরাউন্ডার নিজে খেলেছেন ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে। তাই চাইলে সহ-অধিনায়কের পরামর্শটা মাথায় রাখতে পারেন দলের বাকিরা।

‘একটা না একটা পথ বের করাই যায়। ম্যাচের ভেতর যত ডুবে থাকা যায়, ঠাণ্ডাটা সেভাবে নাও মনে হতে পারে। আমি অন্তত এভাবেই চেষ্টা করেছি। হয়তো অন্যরাও সেভাবে চেষ্টা করেছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে ম্যাচের ভেতর যদি বেশি মনোযোগ রাখা যায়, তাহলে এই ঠাণ্ডাটা সবার জন্য মানানসই হবে।’

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দিয়ে প্রায় পাঁচমাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন সাকিব। গত ডিসেম্বরে এই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেই শেষ ম্যাচ খেলেছেন। চোটের কারণে খেলা হয়নি নিউজিল্যান্ড সফরে।

ফিরেই দেখিয়েছেন চোট থামাতে পারেনি সাকিবের অগ্রযাত্রা। অথচ সিরিজের আগে দলের সঙ্গে সাকিবের ছবি না তোলা নিয়ে কত নাটক হয়ে গেছে দেশে। সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছেন এ অলরাউন্ডার। মনোযোগের ঘাটতি হওয়ারই কথা! কিন্তু মাঠে ফিরতেই সব উধাও!

প্রস্তুতি ম্যাচে দেশ হারলেও ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব। ৩০ রানে ১ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি করেছিলেন ৫৭ রান। উইন্ডিজদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩৩ রান খরচায় এক উইকেট নেয়ার সঙ্গে করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ৬১ রান। মাশরাফী নিজেই যেমন বলেছিলেন, সাকিব এমনই। কোনো সমালোচনাই তিনি গায়ে মাখেন না।

সাকিবের ভাষ্য প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার আগে কিছুটা বিচলিত ছিলেন তিনি। তবে সেটা সমালোচনার কারণে নয়, অনেকদিন বাদে জাতীয় দলের হয়ে খেলার দুশ্চিন্তায়!

‘প্রায় ছয়মাস পর ম্যাচ খেললাম জাতীয় দলের হয়ে। কিছুটা নার্ভাসনেস ছিলই। তারপরও প্রস্তুতি ম্যাচটা ভালো খেলেছি। একটা আত্মবিশ্বাস ছিল। তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো শক্তিশালী বোলিং লাইনসম্পন্ন একটা দলের বিপক্ষে ভালো খেলা অবশ্যই কঠিন একটা ব্যাপার। শুরুটা ভালো হয়েছে, বাকিটা দেখা যাক!’