চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খুশিতে ঘুম হয়নি আফিফের

চোখের ঘুম দূর আকাশে পালিয়ে যাওয়ারই কথা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ডাক পাওয়ার ঘটনা যে এটিই প্রথম। সুসংবাদটি আফিফ হোসেন ধ্রুব পেয়েছেন বুধবার রাতে ঘুমের প্রস্তুতি নিতে নিতে। স্বাভাবিকভাবেই উত্তেজনায় পালিয়ে গেছে ঘুম!

বিজ্ঞাপন

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) দল পেয়ে অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত অলরাউন্ডার আফিফ। উত্তেজনায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেই পারেননি ১৯ বছরের এ তরুণ।

‘ঘুম একটু কম হয়েছে। অনেক উত্তেজনায় ছিলাম। আমিও নিলাম দেখছিলাম। আমাকে পিক করেছে সেই তথ্য দিয়ে তারা টুইটারে ছবি পোস্ট করেছে, দেখে ভালো লেগেছে। আগে দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলা হয়নি। যে দলে খেলব, সে দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গেও কথা হচ্ছিল রাতে। অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে। অন্যরকম একটি রোমাঞ্চ তো ছিলই। সে কারণে ঘুম হয়নি।’

৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে সিপিএলের সপ্তম আসর। বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি আফিফ খেলবেন সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে। সিপিএল খেলার অভিজ্ঞতা আছে সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজের। তবে তারা সবাই জাতীয় দলে নিজেদের পর্যাপ্ত প্রমাণ করেই পেয়েছেন বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলার সুযোগ। আফিফের ব্যাপারটা ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র এক ম্যাচের।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজের অভিষেক টি-টুয়েন্টি ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর থেকে আর আলোচনায় নেই আফিফ। তবে বিপিএলে ভালো খেলে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে চাহিদার পাত্র হয়ে উঠেছেন খুব অল্পসময়ে। সিলেট সিক্সার্স থেকে সেন্ট কিটস। নতুন এ যাত্রায় সফল হতে চান আফিফ।

‘আমি অনেক ভাগ্যবান, অল্পসময় ক্রিকেট খেলেই ভালো একটা সুযোগ পেয়েছি। চেষ্টা করবো নিজের শতভাগ দিয়ে যেন সুযোগ কাজে লাগাতে পারি। আমার ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ করতে পারি। এটা অনেক বড় একটা সুযোগ।’

বিজ্ঞাপন

বিসিবির এইচপি ক্যাম্পে থাকা আফিফ দিনের সব কার্যক্রম শেষ করে বিকেলে মুখোমুখি হন সংবাদমাধ্যমের। কথা শুরুর আগে এইচপি কোচ সায়মন হেলমটও ছিলেন একাডেমি ভবনে। আফিফকে নিজের দলে না পেয়ে একটু হতাশাও প্রকাশ করলেন এ অস্ট্রেলিয়ান। আফিফ খেলবেন সেন্ট কিটসে, আর হেলমট কোচিংয়ে জড়িত ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আফিফের বড় অনুপ্রেরণা অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার। গত বিপিএলে সিক্সার্সের ডেরায় জুটি বেধে ব্যাটিং করে শিখেছেন অনেককিছু, ‘ওকে (ওয়ার্নার) দেখে অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। শতভাগ দিয়েই না, ১২০ ভাগ দিয়ে খেলার চেষ্টা করে এবং আমাদের সেটি বলত বিপিএলে।’

বিপিএলে ভালো করতে পারলে সিপিএলে দল মিলতে পারে- এমন পূর্বাভাস আগেই দিয়ে রেখেছিলেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। আফিফ জানালেন, ‘আমাকে অনেকেই বলেছিল, বিপিএলে পুরান-ব্র্যাথওয়েট বলেছিল ভালো খেললে সুযোগ আসতে পারে।’

সিপিএলে আফিফের সুযোগের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা, যারা খেলে গেছেন বিপিএলে। অচেনা একটি দেশে নতুন একটা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলা নিয়ে তাই একটুও নার্ভাস নন আফিফ।

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক ক্রিকেটারই বলেছে বিপিএলে ভালো করলে সিপিএলে সুযোগ আসার ব্যাপারটি। পুরান, ব্র্যাথওয়েট, ফ্লেচার ওরা খেলা দেখেছে। আর আমি নতুন হলেও কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের সঙ্গে পরিচয় আছে। কয়েকজনের সঙ্গে কথাও হয়েছে। তাই টেনশনের কিছু মনে হচ্ছে না। বিপিএলের মতোই এটাকে আরেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট মনে করছি।’

এইচপি ক্যাম্পে থাকা আফিফ সিপিএল শেষ করে দেশে ফিরেই ব্যস্ত হয়ে যাবেন বিপিএল নিয়ে। নভেম্বরে মাঠে গড়াবে বিপিএলের সপ্তম আসর। জাতীয় দলে ফেরার জন্য কি এই দুটি প্ল্যাটফর্মকে পাখির চোখ করবেন আফিফ?

‘জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন সবারই থাকে। আমারও ইচ্ছা আছে। যখন যেখানে সুযোগ পাবো চেষ্টা করবো নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করার, ভালো খেলার। এর বাইরে কিছু নেই। ভালো করলে এমনিতেই সম্ভাবনা বাড়বে। ফেরার জন্য আলাদা কিছু করতে হবে এটা কখনও ভাবি না। চেষ্টা করি পারফর্ম করতে।’