চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদাভাবে চেনাবে সুন্দরবন ইনস্টিটিউট

প্রায় তিন দশক ধরে মুক্ত চিন্তার চর্চা ও বিচিত্র গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞানের বিস্তৃতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক ও জীবন মান উন্নয়ন এবং ভৌগলিক বিশেষত্ব উপস্থাপনে আশার প্রদীপ হয়ে আবির্ভূত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে চমকপ্রদ ও সম্ভাবনাময় বিষয়। আর পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের কোলঘেঁষে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন ধারণ করেছে তাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোতে স্থান পেয়েছে সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ। ভৌগলিক অবস্থান, প্রকৃতি, জীব-জন্তু ইত্যাদি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা গবেষণাও করেছেন বিস্তর। তবে তার অধিকাংশই বিক্ষিপ্তভাবে।

সুন্দরবনসহ উপকূলীয় ভূপ্রকৃতি বিষয়ক বিশ্বমানের গবেষণার উদ্দেশ্যে অবশেষে পুর্ণাঙ্গরূপে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস অ্যান্ড কোস্টাল ইকোসিস্টেম (আইআইএসএসসিই)।

বিজ্ঞাপন

সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের ভূ-সংস্থান, জলবায়ু ও তার পরিবর্তন, আর্থ সামাজিক বিষয়াদির এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনাই এই ইনস্টিটিউট এর প্রধান লক্ষ্য।

ইউজিসির পরিদর্শন কমিটি সরেজমিনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের পর সবদিক বিচার বিশ্লেষণ করে গত ২৩ এপ্রিল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, “কেবল সুন্দরবনই নয়, এই ইন্সটিটিউটের আওতায় দেশের উপকূলীয় এলাকা, পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয় নিয়েও শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ উন্মুক্ত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত গবেষকরা এই ইনস্টিটিউটে গবেষণার সুযোগ পাবেন।

উল্লেখ্য, সুন্দরবন ও বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে সামগ্রিক গবেষণা, ভৌত ও জীববিজ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গবেষণার জন্য ২০০৩ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয় সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড স্টাডিজ অন দ্য সুন্দরবনস (সিআইএসএস)। সেটিরই পরিবর্তিত রূপ এই সুন্দরবন ইনস্টিটিউট।

দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্সটিটিউটটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্যতা দিয়েছে। নতুন উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি প্রত্যাশা পূরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।