চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খুনি এরশাদ শিকদারের গান ‘আমি তো মরেই যাবো’ এতদিন পর ফেসবুকে?

চলতে চলতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়। আমরা ফেসবুক চালাতে চালাতে ফেসবুকের উদ্দেশ্য পাল্টে দিয়েছি। ফেসবুক এসেছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে। এখন ব্যবহার করা হচ্ছে সামাজিক গোলযোগের মাধ্যম হিসেবে।

বিজ্ঞাপন

এখন আমরা যাবতীয় গোলযোগ করে থাকি ফেসবুকে। যে কোনো ঘটনায় একদল হুজুগে ফেসবুকার  মাতামাতি করতে করতে ঘটনাকে ইস্যু বানিয়ে ছাড়ে। ঠিক তখনই আরেক দল বের হয় ইস্যু নিয়ে যারা মাতামাতি করছে তাদের বিরুদ্ধে মাতামাতি করতে।

‘একদিন তো মরেই যাব’ ইস্যু তেমনি একটি, যা বর্তমানে ফেসবুকে একদম তরতাজা। আপনি কিছু একটা লিখে পোস্ট দিবেন, কমেন্ট আসবে, ‘এত লিখে কী হবে, একদিন তো মরেই যাবেন’।

‘একদিন তো মরেই যাবো’ যারা লিখছেন তাদের প্রতি রাগ প্রকাশ করে পোস্ট দেবেন, কমেন্ট আসবে, ‘এত রেগে কী হবে ভাই; একদিন তো মরেই যাবেন’।

প্রিয় দল হেরেছে। কষ্টে আছেন। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কষ্টমাখা পোস্ট দিলেন। কমেন্ট আসবে, ‘কষ্ট পেয়ে কী হবে; একদিন তো মরেই যাবেন’।

বিজ্ঞাপন

এই প্রথম না। এর আগেও ব্যাপক মার্কেট পেয়েছে এমন কিছু ডায়ালগের সাথে আমাদের পরিচয় আছে। ‘আজ গরীব বলে’, ‘এ কেমন বিচার?’, ‘এসব এডিট করা যায়’, ‘আমি ঘুমে থাকি; আমার হুঁশ থাকে না’, ‘খেলা হবে’, ‘সুন্দর বনে শুধু বাঘই থাকে না; সিংহও থাকে’, ‘চুপ থাক বেয়াদব কোথাকার’, ‘নাম বললে চাকরি থাকবে না’, ‘মাইরালা…।’

বর্তমানে ফেসবুক সমাজ বুঁদ হয়ে আছে, ‘একদিন মরেই যাবো’তে। এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যে, ‘একদিন তো মরেই যাব/যাবেন’ কথাটা বলেননি অথবা শোনেননি।

সামাজিক মাধ্যমে অসামাজিকভাবে ব্যবহার করা ডায়ালগটার উৎপত্তি কিভাবে কেউ বলতে পারে না। অনেক খুঁজেও এর গোড়াপত্তনকারীকে পাওয়া গেল না। তবে ১৯ মার্চের একটা পোস্ট পাওয়া গেল। সম্ভব এটাই প্রথম। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার কাছে হারার পর এক মা তার শোকগ্রস্ত ছেলেকে বলছে, ‘এত মন খারাপের কিছু নেই। যারা জিতেছে এবং যারা হেরেছে একদিন সবাইকে মরতে হবে।’ সেই থেকে শুরু।

আবার ব্রাজিল ভক্তরা বলছেন অন্যকথা। তাদের দাবী, ‘একদিন তো মরেই যাবো’ ডায়ালগের সাথে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির নাম। ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুর্বল দল নিয়ে বিশ্বকাপ জেতা সম্ভব কি না  জানতে চাইলে মেসি বলেন, ‘কাপ নিয়ে লাভ কী? একদিন তো মরেই যাবো।’

আগেই বলেছি একটা ইস্যু পেলে তিতা না হওয়া পর্যন্ত কচলানো আমাদের চিরাচরিত স্বভাব। স্বভাববসত হোক না লেখার জন্য হোক, ভালোমতো খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আজ থেকে বেশ কয়েকবছর আগে খুলনার কুখ্যাত খুনি  এরশাদ শিকদারের প্রিয় গান ছিল, ‘আমি তো মরেই যাবো’।

একজনকে বললাম, এরশাদ শিকদার গ্রেফতারের পর গানটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরশাদ শিকদারের ‘আমি তো মরেই যাবো’র আদলে ‘একদিন তো মরেই যাবো’ ডায়ালগ ধারণ করা ফেসবুক সমাজ কোন পথে যাচ্ছে তা এখনই ভাবা দরকার।

সে তড়িঘড়ি করে উত্তর দিল, ‘এত ভেবে কী হবে। একদিন তো সবাই মরেই যাবো।’