চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খাদ্য-পণ্যের পরীক্ষায় লেনদেন হলে জেলখানায় পাঠিয়ে দেব: হাইকোর্ট

ভোক্তা অভিযোগ নিতে হট লাইন চালুর নির্দেশ

‘খাদ্যপণ্যের পরীক্ষার ফলাফল (টেস্টের রিপোর্ট) দেয়ার আগে লেনদেন হয়। আমরা এরকম তথ্য প্রমাণ যদি পাই তাহলে দুদকে নয়, সোজা জেলখানায় পাঠিয়ে দেব।’

বিজ্ঞাপন

ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য নিয়ে করা রিটের শুনানিতে বিএসটিআই’র আইনজীবীর উপস্থিতিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এদিকে ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিষয়ে ভোক্তাদের অভিযোগ শুনতে আগামি দুই মাসের মধ্যে একটি হট লাইন সেবা চালু করতে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আজ নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসময় আদালত বলেছেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অফিসিয়াল নম্বরটি ২৪ ঘণ্টা (০১৭৭৭৭৫৩৬৬৮) খোলা রাখতে এবং ছুটির দিনেও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করতে নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সাথে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলেন আদালত।

অন্যদিকে, ৫২ টি ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের পর নতুন ৯৩টি পণ্যের বিষয়ে আজ হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন বিএসটিআই। এসময় আদালত বিএসটিআই’র আইনজীবী সরকার এমআর হাসানকে উদ্দেশ্য করে বলেন: ভেজাল বা নিম্নমানের কোনো পণ্য মান উন্নীত করার পরও মাঝে মাঝে মান পরীক্ষা করে আদালতে রিপোর্ট দিতে হবে। আর এখন পর্যন্ত যে সকল পণ্যের পরীক্ষা করা হয়েছে সে সবের বাইরে থাকা পণ্যেরও পরীক্ষা চালাতে হবে।

এরপর তিনি কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে এ বিষয়ে আগামি ১৯ আগস্ট পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

এর আগে বিএসটিআই’র পরীক্ষায় প্রমাণিত ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেয়ার আদেশ বাস্তবায়ন না করায় তলব আদেশ অনুযায়ী আজ হাইকোর্টে হাজির হন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

বিজ্ঞাপন

এরপর তার পক্ষের আইনজীবী মক্কেলের পক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদলতকে বলেন: হাইকোর্টের আদেশ আমরা যথাসময়েই বাস্তবায়ন করেছি, কিন্তু আমার তা প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করতে পারিনি।

এরপর বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ কয়েকটি শর্তে মোহাম্মদ মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে জারি করা আদালত অবমাননার রুল নিস্পত্তি করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

আদালত মোহাম্মদ মাহফুজুল হককে যে শর্তে অব্যহতি দেন সেগুলো হচ্ছে: ভবিষ্যতে আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করবে না। এবং সারাবছর জুড়ে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রাখতে হবে। এবং টাইম-টু-টাইম অভিযানের বিষয়ে আদালতে জানাবে।

এসময় আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ও বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আর হাসান। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল উল আলম।

এর আগে বিএসটিআই’র পরীক্ষায় প্রমাণিত ৫২টি ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের বিষয় নিয়ে গত ৯ মে হাইকোর্টে রিট করে কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটি। সে রিটের শুনানি নিয়ে ১২ মে হাইকোর্ট বিএসটিআই’র পরীক্ষায় প্রমাণিত ৫২টি ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।

এছাড়া হাইকোর্ট তার আদেশে এই ৫২ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন এবং মান উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত এসব খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়ন করে ১০ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিতে বলে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৩ মে দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

সে ধারাবাহিকতায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে এরা প্রতিবেদনে বাজার থেকে একটি পণ্যও সরানোর তথ্য না দিতে পারার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে ১৬ জুন হাইকোর্টে হাজির হতে তলব আদেশ দেন। সেই সাথে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না সে মর্মে রুল জারি করেন। হাইকোর্টের সে নির্দেশ অনুযায়ী রোববার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হাইকোর্টে এসে হাজির হওয়ার পর আদালত আদেশ দেন।