চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ৬

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি সদরে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরও ৩ জন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

নিহতদের মধ্যে তিন জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন; তপন চাকমা, এলটন চাকমা ও জিতায়ন চাকমা।

আহতরা হলেন; সমর বিকাশ চাকমা (৪৮), সুকিরন চাকমা (৩৫) ও সোহেল চাকমা (২২)। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ওই এলাকায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ সকালে একটি সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্ততি নিচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে আকস্মিকভাবে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা ব্রাশফায়ার করে। এতে ৬ জন নিহত এবং ৩ জন আহত হয়।

নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ইউপিডিএফ সমর্থক, নেতা ও কর্মী বলে জানা গেছে।

ইউপিডিএফ এর জেলা সমন্বয়কারি মাইকেল চাকমা এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এবং সংস্কারপন্থী জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে জনসংহতি সমিতি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফ (প্রসিত বিকাশ খীসা গ্রুপ) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এই দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এরআগে গত ৩ মে দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শক্তিমান চাকমা নিহত হন।

পরের দিন তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফয়ের একাংশের নেতা তপন জ্যোতি চাকমাসহ ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনার পর থেকে ইউপিডিএফের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই মধ্যে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ করেছে। ওইসব হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটে।

দীর্ঘ বছরের রক্তাক্ত লড়াইয়ের পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) শান্তি চুক্তি করে। ওই চুক্তির বিরোধীতার মধ্যে পরের বছর ডিসেম্বর মাসে আত্মপ্রকাশ করে ইউপিডিএফ। যাদের বড় একটা অংশ জেএসএসের ছাত্রসংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ থেকে বের হয়ে আসে।

তবে ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইউপিডিএফ ভেঙে যায়। ইউপিডিএফ আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েছে দাবি করে ওইদিনই আত্মপ্রকাশ করে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। এর নেতৃত্বে ছিলেন গত মে মাসে ব্রাশফায়ারে নিহত হওয়া তপন জ্যোতি চাকমা।