চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কয়লার রাস্তা না রক্তের রাস্তা

আবরার আহমেদ চৌধুরী। ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। নিয়ম মেনেই রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সড়ক পার হয়ে নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)’র বাসে উঠতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দুই বেপরোয়া গতির বাসের প্রতিযোগিতার শিকার হয়ে প্রাণবন্ত এই তরুণ মুহূর্তেই ক্ষত-বিক্ষত হয়ে প্রাণহীন শরীরে পড়ে রইল সড়কে।

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে সারাদেশে যে ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেই আন্দোলনে ছিলেন আবরারও। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই অনিরাপদ সড়কেই রক্তাক্ত লাশ হতে হলো তাকে।

আমরা দেখেছি, শিক্ষার্থীদের সেই যৌক্তিক আন্দোলনকে কিভাবে সরকার দমন করেছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার প্রধানের আশ্বাসে তারা রাস্তা ছেড়ে ঘরে ফিরে গেলেও, সেই সড়ক আর নিরাপদ করা হয়নি। একই রকমভাবে চলছে বেপরোয়া যানবাহন, একই রকম উদ্ধত সেইসব চালকেরা। প্রতিদিন চাকার তলে পিষে মরছে মানুষ আর মানবতা। কোনো উদ্যোগই এই সব দুর্বৃত্তদের থামাতে পারছে না।

এমন নয় যে সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। কিছুদিন চেষ্টা হয়েছিল সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নির্দেশ দিয়েছিলেন যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, লেন ধরে যান চালা, ওভারটেক না করা, ফিটনেস এবং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি সড়কে চলতে না দেওয়ার। এমনকি শাস্তি বাড়িয়ে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ পাস করা হয়েছিল।

এই তো আজকেও যখন আবরার বাসের চাকায় পিষ্ট হন, তখন চলছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ কর্মসূচি। গত ১৭ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা ২৩ মার্চ। আমাদের প্রশ্ন তাহলে কি শৃঙ্খলা ফেরালো ডিএমপি? একজন পথচারী নিয়ম মেনে জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পার হচ্ছে, অথচ বেপরোয়া গাড়ি এবং তার চালকদের কেন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলো পুলিশ? কোথায় ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা?

আমরা দেখেছি, এই ঘটনার পর সড়ক অবরোধ করে ঘটনাস্থল অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে নানা স্লোগানে দিনভর ওই এলাকার রাজপথে যানচলাচল বন্ধ রেখেছিল তারা। সেইসব স্লোগানের মধ্যে অন্যতম একটি স্লোগান ছিল, ”কয়লার রাস্তা না রক্তের রাস্তা’।

প্রতিদিন সড়কে যত প্রাণ ঝরছে – আমরা মনে করি, সেই অর্থে এই স্লোগান যথার্থ। আমরা বলতে চাই, অনেক হয়েছে; এবার সত্যিকারের নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। সরকার চাইলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।