চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্লাসরুম নয়, ঠিকানা হলো কবরে

রঙমিস্ত্রী বাবার স্বপ্ন ছিলো সাবিহা একদিন চিকিৎসক হবে। সেই যোগ্যতার প্রমাণও রাখছিলো সে। সেগুনবাগিচার বেগম রহিমা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রীটি জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়ে সুযোগ পায় তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার।

বিজ্ঞাপন

আজ ছিলো বাবার স্বপ্নপূরণে সাবিহার নতুন যাত্রা; নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার দিন। কিন্তু সেই যাত্রা চিরদিনের মতো থামিয়ে দিলো ঘাতক বাসের চাকা। থেঁতলে যাওয়া শরীরের সঙ্গে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এক মেধাবীর স্বপ্ন-সাধ।

শনিবার সকালে বাসের ধাক্কায় নিহত হয় সাবিহা আক্তার। স্কুলের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সংবাদে তাৎক্ষণিক সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। একে হত্যাকাণ্ড দাবি করে এর বিচার দাবি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার সেগুনবাগিচার বেগম রহিমা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন সাবিহা। জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়ে তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সকাল সাড়ে আটটার পর বার কাউন্সিলের কাছে ফুটপাত দিয়েই যাচ্ছিল সে।

কিন্তু পিছন থেকে দ্রুত গতির একটি বাস পরপর দু’বার ধাক্কা দেয় সাবিহাকে। তার সহপাঠীরা বলেন, তখনই বাসটা থামানো দরকার ছিলো। হাসপাতালে নেওয়ার দরকার ছিলো। সেটা না করে তার উপর দিয়েই চলে যায় বাসটি। পুরো শরীর থেকে মাথা আলাদা হয়ে যায় সাবিহার।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দেড়ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। ছুটি দেওয়া হয় স্কুল।

শিক্ষকরা বলেন,সবসময় এমন দ্রুতগতিতে গাড়ি চলে, কখনো শাস্তিমুলক ব্যবস্থা ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় না। সে যেমন মেধাবী ছিলো তেমন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত ছিলো। শিশু একাডেমী থেকেও অনেক পুরস্কার পেয়েছে। এই ঘটনায় শুধু পরিবারই নয়, মুষড়ে পড়েছেন তার সহপাঠীরাও।