চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্লান্তিকে জয় করার অতি মানবীয় শক্তির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ‘এক্সোস্কেলিটন’

সারাদিন দাঁড়িয়ে কাজ করছেন কিংবা সারাদিন কেবল দৌড়াচ্ছেন কিন্তু একেবারেই ক্লান্ত হচ্ছেন না! পায়ে স্বাভাবিক মানুষের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি জোর পেয়ে যাচ্ছেন। ঠিক যেনো সিনেমায় দেখা অর্ধমানব-অর্ধরোবটের মতো ব্যাপার।

প্রযুক্তি বিপ্লবের এই সময়ে এখন এসবই বাস্তব হতে শুরু করেছে। মানুষের শরীরে অতি মানবীয় বা সুপারম্যানের মতো ক্ষমতা এনে দেয়ার মতো প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির বায়োমেকাট্রনিক্স ল্যাবের গবেষকরা।

বিজ্ঞাপন

আপাতত তারা এর নাম দিয়েছেন ‘এক্সোস্কেলিটন’। আসলে এক্সোস্কেলিটন মানব শরীরে বাড়তি শক্তি যোগান দিতে তৈরি একটি ফ্রেম। এটাকে মানুষের শরীরে লাগানো কৃত্রিম কঙ্কালও বলা যেতে পারে।

তবে আদৌ কৃত্রিমভাবে মানুষকে অতিমানব বানানোর প্রযুক্তি কতটা দরকার তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। কিন্তু কোন ধংসাত্মক উদ্দেশ্যে ছাড়া দুর্ঘটনা বা অন্য কোনভাবে হাত-পা হারানো ব্যক্তিদের স্বাভাবিক কিংবা স্বাভাবিকের চেয়েও কিছু বেশি সক্ষমতা দেয়ার আশাতেই গবেষণা করছেন নিজে আথ্রাইটিসে আক্রান্ত টাইলার ক্লাইটস।  কয়েক বছর আগে তিনি এতে আক্রান্ত হন।

বিজ্ঞাপন

পিএচডি শিক্ষার্থী টাইলার নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রিয় পিয়ানোটি বাজাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। কিন্তু দমে না গিয়ে নিজের অক্ষমতাকে জয় করে আগের চেয়েও বেশি কিছু করে দেখাতে তিনি এবং তার টিম এক্সোস্কেলিটন প্রযুক্তিটি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করেন।

তারা এমন একটি কৃত্রিম ফ্রেম তৈরি করতে চাইছেন যা মানুষের শারীরিক কাঠামোকে অতিরিক্ত কর্মক্ষমতা দিবে। এই কাজে তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধ্যাপক হিউ হের।

অধ্যাপক হের নিজেকে ‘বায়োনিক ম্যান’ হিসেবেই পরিচয় দেন। কারণ কৈশোরে পর্বতারোহনে গিয়ে দুই পা হারিয়েছিলেন তিনি। নিজের গবেষক দলের কারণে এখন তিনি পেয়েছেন রোবোটিক পা।

তিনি নিজেই বলেন: আমি যখন আমার পা দু’টো নড়াতে চাই তখন কৃত্রিম ইলেক্ট্রোডসে আমার মস্তিষ্কের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম থেকে স্নায়ুবাহিত বার্তা পৌঁছায় এবং আমাকে ইচ্ছানুযায়ী চলতে সহায়তা করে।

এই গবেষকদের আশা শুধু শারীরিক প্রতিবন্ধীরা ছাড়াও নার্স, ওয়েটারসহ যেসব পেশায় সারাদিন পায়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে সেসব পেশায় বাড়তি কর্মক্ষমতা দিবে এক্সোস্কেলিটন।