চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের বিষয়ে যা বললো ইউএস-বাংলা

কক্সবাজারের আকাশে পৌঁঁছানাের পর ল্যান্ডিং করার পূর্ব মুহুর্তে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বােয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফটটির নােজ ল্যান্ডিং গিয়ারটি কেন বের হচ্ছিল না তা তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আয়ােজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিএস-১৪১ ফ্লাইটের জরুরী অবতরণ প্রসঙ্গে এই সংবাদ সম্মেলন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এসময় নিরাপত্তার সকল দিক নিশ্চিত করেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এয়ারক্রাফট পরিচালনা করে আসছে বলেও দাবি করেন এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

ইউএস-বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিধিবদ্ধ নিয়মাবলী এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্সের ক্ষেত্রে অপারেটরকে কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হয়। কেউ চাইলেই এর ব্যতিক্রম করা সম্ভব নয়। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স শুরু থেকেই কঠোরভাবে এইসব নীতিমালা অনুসরণ করে আসছে।

তিনি বলেন, ইউএস-বাংলার এয়ারক্রাফট উড্ডয়নের আগে তিন ধাপে তার টেকনিক্যাল চেকিং হয়। বিদেশী প্রকৌশলীরা প্রতি রাতে এয়ারক্রাফটগুলাে রুটিনমাফিক চেক করেন। উড্ডয়নের আগে ইঞ্জিনিয়ার আবার তা পরীক্ষা করেন। তারা ফ্লাইট উড্ডয়ন উপযােগী সার্টিফিকেট প্রদানের পর সংশ্লিষ্ট বৈমানিক (ক্যাপ্টেন) আবার এয়ারক্রাফটটির সক্ষমতা রি-চেক করেন। চেক, ক্রস চেকিংয়ের পরই একটি ফ্লাইট ডিপার্টচারের অনুমতি পায়।

‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রতিটি এয়ারক্রাফট নিখুঁতভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ইউরােপীয়, কানাডিয়ান ও আমেরিকানসহ ১৭জন বিদেশী প্রকৌশলী নিয়ােজিত আছেন। বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরে কোনো এয়ারলাইন্সে মেইনটেন্যান্সের ক্ষেত্রে এত অধিক সংখ্যক বিদেশী প্রকৌশলী নেই।’

চলতি বছরের ১২ মার্চের কাঠমান্ডু দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান। এই দুর্ঘটনার আগে বা পরে আমরা কখনোই আমাদের দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে উদাসীন ছিলাম না।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের কবলে পড়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের (বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এস ২-এজেএ) ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ফ্লাইট। সেসময় বিমানটিতে ১৬৪ জন যাত্রী এবং ৭ জন ক্রু ছিলেন। তখন থেকেই সমালোচনার মুখে পড়ে এই এয়ারলাইন্স।