চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্রিকেটার রুবেল, শাহাদতের পর সানি

জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেন এবং শাহাদত হোসেনের পর আদালতের কাঠগড়ায় এবার আরাফাত সানি। রুবেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন এবং শাহাদতের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন অভিযোগের পর এবার নারী সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে সানি অভিযুক্ত হয়েছেন।

শাহাদত অবশ্য এরইমধ্যে মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন যা নিয়ে অনেকে সমালোচনামুখর।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও মডেল নাজনীন আক্তার হ্যাপি নারী নির্যাতন আইনে ধর্ষণ মামলা করেছিলেন। এরপর আরেক পেসার শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে শিশু ও গৃহকর্মী নির্যাতন মামলা হয়। সর্বশেষ এক নারীর দায়ের করা তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় আরাফাত সানিকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা ‍পুলিশ।

২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্লবীর সাংবাদিক কলোনিতে ১১ বছর বয়সী গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপিকে  নির্যাতনের অভিযোগে ক্রিকেটার শাহাদত হোসেন ও তার স্ত্রী নিত্যর বিরুদ্ধে খন্দকার মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে মিরপুর থানায় মামলা করেন।

মামলায় শাহাদাত ও তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়। মামলায় ২০১৫ সালের ৪ অক্টোবর জেসমিন জাহান নিত্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একদিন পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন শাহাদত। পরে এ দম্পতি জামিনে মুক্তি পায়।

গেল বছরের ৬ নভেম্বর শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় ক্রিকেটার শাহাদত হোসেন রাজীব ও তার স্ত্রী জেসমিন জাহান নিত্যকে বেকসুর খালাস দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্ক্যান্ডালের শুরু অবশ্য পেসার রুবেল হোসেনকে জড়িয়ে। হ্যাপির দায়ের করা মামলায় কারাবাসও করতে হয়েছে ক্রিকেটার রুবেলকে। তবে, মুক্তির পর দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যান রুবেল।

২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপী  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিরপুর মডেল থানায় রুবেল হোসেনকে আসামি করে  মামলা করেন। এতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন এবং ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে হ্যাপীর বিরুদ্ধে প্রতারণার পাল্টা অভিযোগ আনেন রুবেল হোসেন।

এরপর হ্যাপিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগেও পরীক্ষা করা হয়।

এর মধ্যেই অবশ্য রুবেল হোসেন হাইকোর্টে এসে চার সপ্তাহের আগাম জামিন পান। পরে তিনি অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করে বোলার হিসেবে সাফল্য দেখান।

ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে রোববার সকালে গ্রেফতার করা হলেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল ৫ জানুয়ারি। নাসরিন সুলতারা নামে এক তরুণী দাবি করছেন, পরিবারের অমতে গত ৪ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়। তবে, কাগজপত্র সব সানির কাছে আছে।

নাসরিন পুলিশকে বলেছেন, সানি তাদের বিয়ে অস্বীকার করার পর তিনি প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলে সানি ফেসবুক মেসেঞ্জারে তার (নাসরিনের) কিছু ছবি পাঠিয়ে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা করেন। এ কারণে গত ৫ জানুয়ারি তিনি আরাফাত সানির বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

গ্রেফতারের পর সানিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়।

নাসরিন সুলতানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, আরাফাত সানি অনেকদিন তার সঙ্গে থেকেছেন। তাকে থাইল্যান্ডেও নিয়ে গেছেন। তবে, নাসরিন সুলতানার কাছে বিয়ের কোন কাগজ বা প্রমাণ নেই।

অারাফাত সানি অবশ্য পুলিশকে বলেছেন, কেউ তার ক্যারিয়ার নষ্ট করার উদ্দেশে অথবা অন্য কোন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেঞ্জারে ওই মেয়ের মেয়ের কাছে ছবি পাঠিয়ে থাকতে পারে। তিনি এরকম কিছু করেননি।

নাসরিন সুলতানার সঙ্গে বিয়ে বা অন্য কোন সম্পর্কের কথাও তিনি অস্বীকার করেছেন।