চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্রিকেটাররা কেনো স্ক্যান্ডালে জড়াচ্ছেন?

সেলেব্রিটি ইমেজ, উঠতি বয়সসহ বিভিন্ন কারণেই ক্রিকেটাররা স্ক্যান্ডালে জড়াচ্ছেন বলে সমাজবিজ্ঞানী ও সাবেক ক্রিকেটাররা মনে করছেন। করণীয় হিসেবে তারা বলেছেন, নতুন যারা ক্রিকেটে আসছেন তাদেরকে শেখাতে হবে কীভাবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা যায়। ওরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে  নৈতিক শিক্ষা সর্ম্পকে ধারণা দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেন এবং শাহাদত হোসেনের পরে আদালতের কাঠগড়ায় এবার আরাফাত সানি। রুবেলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন এবং শাহাদতের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন অভিযোগের পর এবার গোপন বিবাহ ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জড়িয়ে তথ্য প্রযুক্তি আইনে সানি প্রথমে আটক ও পরে আদালতের দেয়া রিমান্ডে এখন পুলিশ হেফাজতে।

ক্রিকেটাররা কেনো এ ধরণের স্ক্যান্ডালে জড়াচ্ছেন জানতে চাওয়া হলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এর মূল কারণ হচ্ছে উঠতি বয়স। এই বয়সেই ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকে অনেক টাকা বানিয়ে ফেলেছেন।

টাকার বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে আরাফাত সানি সর্ম্পকে হীরা আরো বলেন: ও সুন্দর চেহারার ছেলে, টাকা পয়সা আছে। তাই মেয়েরা একটু আকৃষ্ট হয়।

সানিসহ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্ক্যান্ডালকে দুঃখজনক জানিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচাইতে সফল ও দক্ষ উইকেট কিপারদের একজন হীরা বলেন: সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার। সানির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা যদি সে করে থাকে, তা ঠিক করেনি। এই বয়সে বন্ধু-বান্ধব থাকবেই, তবে সব কিছুই করতে হবে একটা সীমার মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেটারদের নিজেদের সাফল্য তাদের পরিবর্তন করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ এহসান হাবীব।

চ্যানেল আই অনলাইনকে ড. শাহ এহসান বলেন: ক্রিকেটার, ফুটবলার বলে কথা নয়, আমাদের সমাজের যে কোনো মানুষের ইমেজ সঙ্কটের কারণেই এমনটা হচ্ছে। নিজেদের সাফল্যের জন্য তারা বাড়তি সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। নিজেকে ভাবে আমি আইনের উর্ধ্বে। সমাজ বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে ‘ম্যান এগেইনিষ্ট সেলফ কনফ্লিক্ট’ বলা হয়। যে পরিস্থিতিতে মানুষ ভাল-মন্দের মধ্যে পার্থক্য বোঝার দ্বন্দ্বে পড়ে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থে স্ক্যান্ডাল রুখতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান শফিকুল হক হীরা ও ড. শাহ এহসান হাবীব।

স্ক্যান্ডাল বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকারক হবে জানিয়ে সাবেক অধিনায়ক হীরা বলেন: স্ক্যান্ডাল কখনোই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য গুড সাইন হতে পারে না। রুবেল-শাহাদত এমনকি আশরাফুলের  ক্ষেত্রেও বিসিবি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। এবারো হয়তো এর বাইরে যাবে না বিসিবি। আরাফাত সানি যদি দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে তাকে অবশ্যেই তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে বহিস্কার করে তার সঙ্গে বিসিবির সব চুক্তি বাতিল করা উচিত।

দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে নতুন ও তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটা নৈতিক ওরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ এহসান হাবীব।

ড. শাহ এহসান বলেন: অনেক তরুণ এখন ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে যদি ক্রিকেট একাডেমি তাদের কীভাবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে এ বিষয়ে জ্ঞান দেয় তবে এমন স্ক্যান্ডাল থাকবে না। একটা পর্যায়ে এসে ক্রিকেট বোর্ডই খেলোয়াড়দের অভিভাবক হয়ে যায়। তাই বিসিবি’র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুতই গ্রহণ করা উচিত।

নাসরিন সুলতানা নামের এক নারীর অভিযোগ ও তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের একটি মামলার ভিত্তিতে ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে রোববার সাভারের আমিনবাজার থেকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানায় নেয়া হয়। মোহাম্মদপুর থানা থেকে তাকে আদালতে পাঠানো হলে তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।