চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্রস ফায়ার, ফিলিপিন্স ও আমরা

রুদ্রেগো দুতের্তে (Rodrigo Duterte), ফিলিপিন্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। গত ৩০শে জুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথের পর থেকে তিনি তার দেশ ও বিশ্বাসীকে স্বভাবসুলভ নতুন নতুন চমক দেখাচ্ছেন। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে দুতের্তে ‘ডাভাও’ শহরের মেয়র ছিলেন।  যখন তিনি মেয়ন হন, তখন শহরটি ছিল অপরাধের স্বর্গরাজ্য। যাদের বেশিরভাগ ছিল মাদকাসক্ত বা মাদক পাচারকারী।

অপরাধের মূল কারণ ছিল কোন না কোন ভাবে মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট। সাবেক এই আইনজীবী দেখলেন দেশের প্রচলিত আইনে এদের বিচার সম্ভব নয়। কারণ আইন তৈরি হয় অপরাধ দমন করতে। যখন যে অপরাধের মাত্রা খুব বেড়ে যায় তখন তা দমন করতে আইন তৈরি হয়, অনেক তদ্বিরের পরে। এর ফাঁকেই কিন্তু অনেক অপরাধ সংঘটিত হয়ে যায়। ক্ষতি হয় অনেক জানমালের।

বিজ্ঞাপন

মেয়র সাহেবর পাগলের দশা। অনেক চিন্তা করে শুরু করলেন ক্রসফায়ার। মাদকাসক্ত আর মাদক পাচারে জড়িতদের সমানে বালিশ ছাড়া চির নিদ্রায় যাবার ব্যবস্থা করলেন। বুদ্ধিজীবী আর মানবাধিকার কর্মীরা খুব নাখোশ। তার মান দিলেন ক্রস ফায়ারের গুরু বা প্রধান পৃষ্ঠপোষক। কয়েক মাসের মধ্যেই তার শহর হয়ে গেল প্রায় অপরাধ শূন্য। ধন্য ধন্য পড়ে গেল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বুদ্ধিজীবী আর মানবাধিকার কর্মীরা মহা ক্ষ্যাপা। খুব বদনাম করে, মানবাধিকার গেল গেল বলে করে চিৎকার। আমাদের দেশের মত এতো টকশো আছে কিনা জানা না গেলেও আচরণে বুদ্ধিজীবী আর মানবাধিকার কর্মীরা বাংলাদেশের মতই হয়তো হবেন।

রুদ্রেগো দুতের্তে (Rodrigo Duterte), ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট

মেয়র হিসেবে সফল হবার পরেই তিনি ভাবলেন দেখি দেশের কিছু করা যায় কি না। যা ভাবা তেমন কাজ। দাঁড়িয়ে গেলেন দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে, জিতেও গেলেন। এতে ফিলিপিন্সের বুদ্ধিজীবী আর মানবাধিকার কর্মীরা খুব নাখোশ। তাঁরা ভাবে এটা কি হলো। মূর্খ দেশের লোক এক ক্রসফায়ার প্রবক্তাকে দেশের প্রেসিডেন্ট বানালো!

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবার পরপরই তিনি  স্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সামনে এগিয়ে যাও এবং তোমরা নিজেরাই হত্যা কর। কেননা তাদের বাবাদের এমনটা করা বেদনাদায়ক হবে।’

ফিলিপিন্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মাদকাসক্ত ও পাচারকারীদের হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন ফিলিপিন্সের শক্তিমানব রুদ্রেগো দুতের্তে। তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘সামনে এগিয়ে যান এবং মাদকাসক্তদের হত্যা করুন’ দেশী বিদেশী পত্রিকার খবে এমনটি জানা গেছে।

রুদ্রেগো দুতের্তে তার অভিজ্ঞতা আর কর্মকাণ্ড দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, মাদকাসক্তি উন্নয়শীল দেশের উন্নয়নের ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায়। তাই এদের হত্যা করলে, দেশে শান্তি আসবে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

তবে মাদকাসক্তরা যতই খারাপ হোক না কেন তাঁদের বাবা মা’রা তাঁদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেবে না মায়ায়। তাই জনগণকেই আইন হাতে তুলে নিতে হবে। যেহেতু দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধীদের আটকান যায় না, তাই এই ব্যবস্থা। মাদকাসক্তরা, চরম নিমমতার সাথে মানুষকে হত্যা করে, কারণ তাদের ঐ মানবিক মূল্যবোধ থাকে না। আর মাদক পাচারকারীরা, টাকার জন্য এদের  এই পথে নামায়। সমাজে সৃষ্টি হয় চরম নৈরাজ্য।

আইনজীবী প্রেসিডেন্ট যে দেশের ২য় সংখ্যাগুরু মুসলিমদের জনশক্তির কথা ভুলে যান না। সফল প্রশাসক হতে হলে তা করাও ঠিক না। তাই তিনি মনে করেন তার কর্মকাণ্ড যেন ইসলাম বিরোধী না হয়। সে দিকে তিনি সতর্ক দৃষ্টি রেখেই কথা বলে, নির্দেশ প্রদাণ করেন।

রুদ্রেগো দুতের্তে মনে করেন যে, ইসলামে তার কথার প্রতিধ্বনি আছে। কারণ কোরআনে একটি হত্যাকাণ্ডকে ‘পুরো মানবজাতিকে নির্মূল করার’  সমতুল্য বলা হয়েছে (সুরা মায়েদাহ) এবং ফিৎনাকে (নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা) বিবেচনা করা হয়েছে হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ হিসেবে (সুরা বাকারা)।

এটা লিখতে গিয়ে বারবার বেগম খালেদা জিয়ার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। তিনি শিক্ষিত না অশিক্ষিত তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত র‍্যাবের কথা, ক্রস ফায়ারের কথা আমায় আবেগী করে। সন্ত্রাসী জনপদের মানুষ হিসেবে আমার মূল্যায়ন হল, খালেদা জিয়ার র‍্যাবের জন্ম না দিলে দেশ হয়ত আজ আফগানিস্তান বা পাকিস্তান হয়ে যেত।

এটা তিনি কার পরামর্শে করেন নি, নিজের বুদ্ধিতেই করেছেন তাতে আমার কোনই সন্দেহ নেই। তা না হলে তাঁর শাসন আমলে তাঁর দলের সন্ত্রাসীরাই বেশী মারা গেছে। তবুও তিনি একচুল নড়েন নি। তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্টের আদেশের মত এমন কথা কি ভাবা যায়?

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের গুলশানে যে ঘটনা ঘটে গেল তার পরে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কী করেন তাই আমাদের এখন দেখার বিষয়।

(এ
বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর
সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)