চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোরবানির পশুর অনলাইন হাটের হালচাল

কয়েক বছর আগেও অনলাইনে কোরবানির পশুর ভার্চুয়াল হাট-বাজার নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রপ হতো, হাসিঠাট্টা করতো লোকে। কিন্তু অনলাইন নির্ভরতার এই সময়ে হাসিঠাট্টা করাদের চুপ করিয়ে দিয়েছে অনলাইন বাজারে কোরবানি পশুর ব্যাপক উপস্থিতি এবং বিপুল বেচা-বিক্রি। এমনকি গতবছরের চেয়ে এবার অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভার্চুয়াল ‘হাটে’ ষাড়ের গুঁতো, লাথি, কাদা-গোবর এড়িয়ে মানসম্মত পশু কেনার সুযোগের সঙ্গে ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া ক্রেতাদের আস্থাই এর পেছনে আসল কারণ বলে মনে করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

মাংস বিক্রির চেইনশপ বেঙ্গল মিট জানিয়েছে গতবারের ঈদ-উল-আজহার চেয়ে এবার অনলাইনে গরু বিক্রিতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।

পাবনায় নিজেদের ফার্মে লালন-পালন করা কোরবানির গরু অনলাইনে বিক্রি করে বেঙ্গল মিট। কোরবানির জন্য জীবন্ত গরু বিক্রির পাশাপাশি জবাই করা গরুর মাংস কোরবানিদাতার বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও চালু আছে এই প্রতিষ্ঠানে। 

এবারের ঈদুল আজহায় অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি করে সন্তুষ্ট বেঙ্গল মিট।

এই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বেঙ্গল মিটের বিপণন প্রধান এইচইউএম মেহেদি সাজ্জাদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: এবার আমরা দারুণ সাড়া পেয়েছি। বিক্রি বন্ধ করার নির্ধারিত তারিখের দু’দিন আগেই আমাদের সব গরু বিক্রি হয়ে গেছে। গত বছর আমরা শুধু অনলাইনে ২১২ টি গরু বিক্রি করেছিলাম। আর এবছর অনলাইনে ৪০০’র বেশি গরু আমরা বিক্রি করেছি। আসলে সবদিক বিবেচনা করলে আমরা অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে দেখছি।

এবার দেশের ক্রেতা এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের কোরবানির পশু কেনা সহজ করতে অনলাইন পেমেন্ট চালু করে বেঙ্গল মিট। ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এবার অনেক ক্রেতা গরুর দাম দিয়েছেন। এবার অনলাইনে গরু কিনে ৪০ শতাংশ ক্রেতা বেঙ্গল মিটকে অনলাইনেই পেমেন্ট করেছেন।
প্রচলিত হাটের সঙ্গে বেঙ্গল মিটের ভার্চুয়াল হাটের কিছু পার্থক্য আছে।

এসব পার্থক্য তুলে ধরে সাজ্জাদ বলেন: প্রচলিত কোরবানির হাটের সঙ্গে আমাদের পশুর দামের নির্ধারণে পার্থক্য আছে। হাটে দাম ওঠা-নামা করে। হাটে পশুর যোগান বেশি থাকলে দাম কমে যায়, যোগান কম থাকলে দাম বেড়ে যায়। এখানে মাঝে মাঝে বেশি দামের কারণে ক্রেতারা অসন্তুষ্ট হয়, আবার কখনো পশু খামারী-ব্যবসায়ীরা কম দাম পেয়ে হতাশ হন। আমরা এধরনের ব্যবসা করি না। আমরা কোরবানির দুই-তিন মাস আগে পশু কিনে আমাদের খামারে রাখি।

বিজ্ঞাপন

সেই কেনা দামের সঙ্গে খরচসহ নূন্যতম মুনাফা যোগ করে আমরা দাম নির্ধারণ করি। সনাতনী হাটে তোলা পশুর দামের সঙ্গে আমাদের পশুর দামের কোন সম্পর্কই নেই। কোন কোন সময় দেখা যায়, সনাতনী হাটে দাম যদি কম থাকে তাহলে আমাদের পশুর দাম বেশি হয়ে যায়। আবার হাটের পশুর দাম যদি বেশি থাকে তাহলে দেখা যায় আমাদেরটার দাম কম। এবার আমরা কোরবানির গরুর যে দাম রেখেছি তা এখনকার হাটের গরুর দামের চেয়ে কম ছিলো।

নিয়মিত মাংস বিক্রি করা এই চেইন শপের অনলাইন কোরবানির হাটের মতো অনলাইন মার্কেট প্লেস বিক্রয় ডটকম-এর কোরবানির পশুর হাটও জমে উঠেছে।

বিক্রয়ে বর্তমানে ৩ হাজারেরও বেশি গবাদি পশুর বিজ্ঞাপন রয়েছে এবং এ সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ষাঁড়, ২২ লাখ টাকা মূল্যের “রাজা বাবু” কে কেনা যাবে বিক্রয় ডটকম থেকে। শুধু অনলাইনে নয়, এবার ক্রেতার আস্থা অর্জনে ১৮ আগস্ট অফলাইনে পশু প্রদর্শনীর আয়োজন করে বিক্রয় ডটকম। যে ক্রেতারা হাটে গিয়ে কোরবানির পশু কিনতে চান না তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একবার কোরবানির পশুটিকে দেখে আসতে চান, তাদের উদ্দেশ্যেই বিক্রয়ডট কম এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনীতে ছিল অনন্য সব গরুর সমাহার। আগ্রহী ক্রেতারা নিজে দেখে পছন্দের গরুটি প্রি-অর্ডার করার সুযোগ পেয়েছেন এখানে। প্রদর্শনীতে প্রি-অর্ডার করা কোরবানির পশু ঈদের আগে ২১ আগস্টের মধ্যে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে।সব মিলিয়ে এবারের অনলাইন হাটে বিক্রয় ডটকমের বিক্রিবাট্টা তুলে ধরে ই-কমার্স সাইটটির হেড অব মার্কেটিং এন্ড অ্যাড সেলস ঈশিতা শারমিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমাদের সদস্য খামারীরা বিক্রয় ডটকমে পশুর পূর্ণাঙ্গ ছবি ও তথ্যসহ বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। কাস্টোমাররা গরুর ছবি-তথ্য দেখে প্রি-বুক করে, চাইলে নিজেরা দেখে যেতে পারে। এছাড়াও আমরা নিজেরা গবাদি পশু কিনে কোরবানির জন্য বিক্রি করছি এবং গ্রাহকের কাছে বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছি। বিক্রয় ডটকমে এবার গরু-ছাগল মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজারের বেশি কোরবানির পশু আছে। বিক্রয় ডটকম এখন পর্যন্ত দেড়’শরও বেশি পশু বিক্রি করেছে। আমাদের সদস্যরাও আলাদাভাবে বিক্রি করছেন। আমরা আশা করছি তাদেরও ২’শর বেশি পশু বিক্রি হবে।

কোরবানির পশু বিক্রির শেষ দিনগুলোতে এখন একটি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে জানিয়ে বিক্রয় ডটকমের এই কর্মকর্তা বলেন: মোটামুটি মাঝারি দামের অর্থাৎ ৫০-৮০ হাজার টাকার গরুর চাহিদা বেশি। কিন্তু সে তুলনায় এই দামের এতো গরু এখন নেই। দেখা যাচ্ছে আপডেট করার আগেই ৪-৫ জন ক্রেতা একই গরু কিনতে চাইছেন।

বিক্রয় ডটকমের অনলাইন হাটে আগামীকাল পর্যন্ত চলবে কোরবানির পশু বিক্রি। শেষ দিনের বিক্রি মিলিয়ে ২’শ-৩’শ পশু বিক্রি হবে বলে আশা করছে বিক্রয় ডটকম।

সব মিলিয়ে গতবারের চেয়ে আরও বেশি সাড়া পাওয়ার কথা জানান বিক্রয় ডটকমের বিপণন প্রধান।
তিনি বলেন: গতবারের চেয়ে আমাদের এবারের বিক্রি দ্বিগুণ। এখন যে দামের গরু কিনতে ক্রেতারা বেশি আগ্রহী আমরা সেই মাঝারি দামের গরুর যোগান দিতে পারছি না।

পেশাদার অনলাইন বাজারগুলোর (ই-কমার্স সাইট) পাশাপাশি ঈদকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ‘কোরবানির হাট’। এসব ভার্চুয়াল আঙ্গিনায় কোরবানির পশুর পাশাপাশি কোরবানি পশু জবাইয়ের বিভিন্ন সরঞ্জামাদিও বিক্রি করা হচ্ছে।