চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেমন হবে টিটের আগামী চার বছর?

টিটের দায়িত্বে থাকার আভাসটা আগেই দেয়া হয়েছিল। গত সপ্তাহে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন নিশ্চিত করে, আরো চার বছর অর্থাৎ, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত তিনিই সেলেসাওদের কোচ থাকছেন।

বিজ্ঞাপন

টিটের ২৪ মাসের আগের কাজের চূড়ান্ত পরিণতি পায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে হারের মধ্যদিয়ে। সাবেক করিন্থিয়ান্স কোচ সেলেসাওদের মাঠ এবং মাঠের বাইরে বেশ ভালোভাবেই পরিণত করেছেন। যার ফলে আরো একটি বিশ্বকাপ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ অর্জন করলেন।

এই চার বছরের নতুন দায়িত্বের সময় তার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি হবে পুরোনো জাতীয় দলকে নতুন করে সাজানো। তার রাশিয়া বিশ্বকাপের দলে মাত্র ৭জন খেলোয়াড় ছিলেন যারা ২৮.৬ গড় বয়সের চেয়ে বেশি বয়সী।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে ব্রাজিলের হয়ে দারুণ সফল ছিলেন সেন্টার‌ব্যাক থিয়াগো সিলভা এবং মিরান্ডা। কোয়ার্টার ফাইনালের আত্মঘাতী গোল ছাড়া মিরান্ডা বেশ নজরই কেড়েছেন। কিন্তু প্রায় নিশ্চিতভাবে এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে এই দুজনকে দূরে সরানো হবে। কারণ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় উভয়েরই বয়স দাঁড়াবে ৩৭।

ফার্নান্দিনহো (৩৩), ফিলিপে লুইস (৩২), রেনাটো আগুস্তো (৩০), পাউলিনহো (২৯), মার্সেলো (৩০) এর সবাই সম্ভবত তাদের শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলেছেন।

এই সময়ে কাউকে কাউকে নিয়ে পুননির্মাণের কাজ করতে হবে টিটেকে। যারা ব্রাজিলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশা দেখাচ্ছেন, কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপে গোলের জাল খুঁজে পাননি। এই যেমন গ্যাব্রিয়েল জেসাস। দলের অন্যতম সেরা ভবিষ্যত তারকা, কিন্তু রাশিয়ায় নিজেকে যেন হারিয়ে খুঁজেছেন।

রাশিয়ায় ভালো না করতে পারলেও সামনে ব্রাজিলের নাম্বার নাইন জার্সিটা থাকবে গ্যাব্রিয়েলের কাছেই। তবে পেছন থেকে তাকে ধাক্কাও খেতে হবে। নতুন প্রজন্মের নক্ষত্রদের কয়েকজন তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালু করার পথে ভালোভাবেই ছুটছেন।

এইসব চ্যালেঞ্জের প্রথমধাপে সবার নজর থাকবে আসছে সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলের গ্লোবাল ট্যুরের দলের দিকে। আগামী মাসেই সেই ট্যুরের জন্য দল ঘোষণা করবেন টিটে। এই দলে বেশ কয়েকজন নতুন মুখ আশা করছেন অনেকে।

আগামী বছরই ঘরের মাঠে কোপা আমেরিকায় খেলবে ব্রাজিল। তার আগে গ্লোবাল ট্যুরে ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। এই ট্যুরে ব্রাজিলের নিউক্লিয়াসে যুক্ত হতে পারেন সদ্য বার্সেলোনায় যোগ দেয়া দুই তরুণ আর্থার ও ম্যালকম।

বিজ্ঞাপন

আর্থার

দুই বার্সা তরুণের সঙ্গে ব্রাজিলের ২০০০ সালের জেনারেশনে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং পাউলিনহোও (জুনিয়র)। ব্রাজিলে গ্লোবাল ট্যুরের দলে যোগ হতে পারেন তারাও।

চলতি দল বদলের বাজারে সবচেয়ে বড় দাও মেরেছে ব্রাজিলিয়ানরাই। এরইমধ্যে তাদের ট্রান্সফার ফি ৪০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে। এই অর্থে যারা ইউরোপে পাড়ি জমানো প্রায় সব খেলোয়াড়ই ব্রাজিলের আগামী বিশ্বকাপ প্রজেক্টের অংশ।

কয়েকদিন আগেই এএস রোমা থেকে বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফি’তে লিভারপুলে নাম লিখিয়েছেন গোলকিপার অ্যালিসন বেকার। ম্যানচেস্টার সিটির এডারসনের সঙ্গে ইংলিশ লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি তার লড়াই হবে ব্রাজিল জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখারও।

ইংলিশ লিগেই আছেন ফ্যাবিনহো, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফ্রেড, এভারটনের রিচহারিসন এবং ওয়েস্টহ্যামের ফিলিপে অ্যান্ডারসন। এবার সবাই জাতীয় দলে ঢোকার লড়াই করবেন।

এই মুহূর্তে মিডফিল্ডে কাসেমিরোর ভালো কোনো বিকল্প পাচ্ছে না ব্রাজিল। রাশিয়ায় তার অনুপস্থিতিতে সেটা টেরও পাওয়া গেছে। তবে ফ্যাবিনহো বা স্মার্ট পাসিংয়ের জন্য নজরকাড়া তরুণ আর্থার হতে পারেন কাসেমিরোর বিকল্প। পাউলিনহো বা রেনেতো আগুস্তোর জায়গায় এরা দুজনই হতে পারেন কাসেমিরোর সেরা বিকল্প।

আক্রমণভাগে লড়াই হবে ম্যালকম, রিচহারিসন ও ফিলিপে অ্যান্ডারসনের মধ্যে। সুতরাং ব্রাজিলের সব পজিসনেই অবিরাম বিকল্প রয়েছে।

ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ হিসেবে মারকুইনোসের নাম দীর্ঘদিন আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। তাকে ব্রাজিলের ভবিষ্যত অধিনায়কও ভাবা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত টিটের তালিকাতেও ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত হয়নি। কিন্তু এবার নিশ্চিতভাবেই তিনি দলে ফিরবেন। তার জায়গাটা হবে থিয়াগো সিলভার ডিফেন্সে।

২০০৭ সালের পর বড় কোনো ট্রফি না জেতা ব্রাজিলের প্রেরণা হতে পারে ঘরের মাঠের কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্ট। রাশিয়া বিশ্বকাপের মতো এই টুর্নামেন্টেও তার দল ফেভারিট।

দলের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক ও মিডিয়ার মন জিতেছেন টিটে। বিশ্বকাপেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। এই সমর্থনই ঘরের মাঠের কোপায় টনিক হতে পারে নেইমারদের।

তবে প্রশ্ন একটাই। টিটে এবং তার স্টাফরা কি সময় মতো এই পরিবর্তনগুলো ঠিকভাবে করতে পারবেন? উত্তর পেতে অপেক্ষায় থাকতে হবে।