চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কৃষিতেই যিনি স্বপ্ন দেখেন

দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষের প্রধান আয়ের উৎস যেই কৃষি সেই কৃষির পেছনের নায়ক কৃষকদের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আর্থ-সামাজিক অবস্থা ছিল বর্তমান সময় থেকে আরও বেশি করুণ। কাঠফাটা রোদে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করা আড়ালের মানুষগুলির পেশাকেও একসময় দেখা হতো অবহেলার চোখে। ছিল না তেমন কোনো রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক স্বীকৃতি। সেই অবস্থা থেকে কৃষকের আজ মুক্তি মিলেছে। আজকে অনেক শিক্ষিত তরুণ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে একজন কৃষক হবার।

বিজ্ঞাপন

কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থান পরিবর্তন না হলে কৃষিতে তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করা নিশ্চয়ই এতটা সহজ হত না। কৃষকের আর্থ সামাজিক পরিবর্তন হতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময় হতে অনেক ধরনের কাজ করা হয়েছে আর এর সবকিছু মিলিয়েই কৃষকের এই পরিবর্তন।

কিন্তু সেই আশির দশক থেকে এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণের কৃষি নিয়ে আকাশচুম্বী স্বপ্ন বাংলাদেশের কৃষি আর কৃষককে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনে একটি ফিচার অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’ দিয়ে যার যাত্রা শুরু। উন্নয়ন সাংবাদিকতায় গণমাধ্যমকে একাগ্রতা আর নিষ্ঠার সাথে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহার করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন কৃষক ও কৃষির একান্ত আপনজন শাইখ সিরাজ।

সেই তরুণ বয়সে বাংলাদেশ টেলিভিশনে কৃষিনির্ভর অনুষ্ঠান দিয়ে যার যাত্রা শুরু জীবনের মধ্য গগনেও তিনি সমানভাবে তরুণ। শাইখ সিরাজ বর্তমানে বেসরকারি টিভি চ্যানেলে অনুষ্ঠান করলেও অনুষ্ঠানের উপজীব্য বিষয়গুলো মাটি, প্রকৃতি আর মানুষ এখনও একই রয়ে গেছে।

কৃষকের অবস্থা বদলাতে অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে এইসব টিভি অনুষ্ঠান। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড কৃষিকাজের শ্রমিকরা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কমই রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা পেত। তার ওপর বর্ধিষ্ণু জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে কৃষি নিয়ে হাজির হতো একের পর এক চ্যালেঞ্জ।

কৃষি জমি হ্রাস, প্রাকৃতিক বিপর্যয় নানা চ্যালেঞ্জের কারণে কৃষককে বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য উৎপাদনে দরকার পড়েছে নানা ধরনের কৃষি প্রযুক্তি আর সুযোগ সুবিধার। তার ওপর কৃষকের দুর্বল আর্থ সামাজিক অবস্থা তো রয়েছেই।শাইখ সিরাজ-জন্মদিন-কৃষি-স্বপ্ন

সেই অবস্থা থেকে শাইখ সিরাজ টেলিভিশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষির প্রতিটি অলিতে গলিতে কৃষকের নানা দাবির কথা খুঁজে বেরিয়েছেন। খুঁজেছেন কৃষকের দুঃখ কষ্ট আর সুখ অনুভূতির কথা। কৃষকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন নতুন নতুন প্রযুক্তির। মমতার চাদরে আগলে রেখেছেন প্রত্যন্ত চাষীদেরকে।

বিজ্ঞাপন

একটা সময় ছিল প্রত্যন্ত কৃষকের কথা রাষ্ট্রীয় সরকারের কাছে খুবই কম পৌঁছাত। পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে যেসব খাতে যেসব সুযোগ প্রদানের প্রয়োজন পড়ত তার তুলনায় কমই বরাদ্দ থাকত। শাইখ সিরাজ এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আশির দশক থেকে শুরু করে আজও তিনিই কৃষকের সবচেয়ে বড় কণ্ঠস্বর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃষি ক্ষেত্রে শাইখ সিরাজের কণ্ঠই কৃষকের হয়ে পৌছায় সরকারের কাজে। যা রাষ্ট্রনায়কদের কাজকেও অনেক সহজ করে দেয়।

নিঃসন্দেহে নিষ্ঠা আর প্রাণের ভালোবাসা না থাকলে শহর আর গ্রামের অলিতে গলিতে বছরের পর বছর ঘুরে ঘুরে কৃষি আর কৃষককে প্রমোট করার দায়িত্বটা এতটা সহজ নয়। কৃষকের যখনই যেটা প্রয়োজন বোধ হয় সেটা বোধকরি শাইখ সিরাজের কণ্ঠে সর্বপ্রথম প্রতিধ্বনিত হয়। গত বছর বেশ কিছু কৃষক জমিতে কৃষিকাজ করতে গিয়ে জমিতে বজ্রপাতে মারা যায়। শাইখ সিরাজ তার টিভি প্রোগ্রামে তাৎক্ষণিক বজ্রপাত থেকে কৃষকের বাচার জন্য সহজতম প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হন।

এ তো গেল একটা উদাহরণ মাত্র। কৃষকের যেকোনো দাবি দ্রুততম সময়ে অনুধাবন বা গণমাধ্যমে সবার সামনে উপস্থাপন করায় উনি অনন্য।

কৃষক বা কৃষির অবস্থার উন্নতি ঘটানো শাইখ সিরাজের কর্মজীবনের একটি দিক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি দিক হলো কোটি তরুণের অন্তরে বাংলাদেশের কৃষির বীজ বপন করতে পেরেছেন উনি। বেকারত্ব তরুণদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আমাদের দেশে। আর সেখানে কৃষির মতো পেশায় তরুণদের আগ্রহ এখনও নিতান্তই কম। সেখানে শাইখ সিরাজের টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলি কিশোর থেকে তরুণ সবার কাছেই জনপ্রিয়।শাইখ সিরাজ-জন্মদিন-কৃষি-স্বপ্ন

এসব অনুষ্ঠান নিঃসন্দেহে তরুণদের হৃদয়ে বড় দাগ কেটে যায়, যার প্রমাণ এখন শিক্ষিত অনেক তরুণ কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে এইসব শিক্ষিত তরুণদেরকেই আধুনিক কৃষির কাণ্ডারি বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। সব ধরনের ডিজিটাল মাধ্যমে শাইখ সিরাজের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে তরুণদেরকে ভবিষ্যতে কৃষিতে আরও আগ্রহী করে তুলবে।

শহরায়নের প্রভাবে সবুজের অভাব পরিলক্ষিত হলেও শহুরে তরুণদের মধ্যে এখন বারান্দায়, ছাদে বা পতিত জমিতে একটি গাছ লাগানো শখ বা একটি দায়িত্ববোধে পরিণত হয়েছে। এর পেছনে এককভাবে শাইখ সিরাজ আর তার টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অনন্য।

কৃষি নিয়ে যার এত স্বপ্ন, সেই কৃষকের বন্ধুটির প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতাবোধের শেষ নেই। ধন্যবাদ স্যার, আমাদের মাঝে সবুজবোধ জাগিয়ে তোলার জন্য। বাংলাদেশের কোটি কৃষকের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে মধ্যবয়সেও বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলার জন্য আপনাকে স্যালুট। ৬৪ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা আপনাকে স্যার।

তিন কেজি চালের সমান পারিশ্রমিক দাবি করা কৃষকরা আজ দশ কেজি চালের টাকা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তারপরও কৃষকের চ্যালেঞ্জের অভাব নেই, স্যার। কৃষিতে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে লাখ লাখ তরুণদের বেকার থাকতে হয় না। এদেশকে নিয়ে আমাদের স্বপ্নের শেষ নেই স্যার। আপনি থামবেন না স্যার। আপনি যে আমাদের স্বপ্নসারথী।