চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কী ঘটতে যাচ্ছে এবারের কৃষকের ঈদ আনন্দে?

একটা সময় ছিলো যখন টেলিভিশনে ঈদ অনুষ্ঠান মানেই শহুরে মানুষের হাসি কান্নার গল্প। ছিলো তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে বিনোদিত করার চেষ্টা। সেইসব ঈদ আয়োজনে ঠিক কোথায় সেই গ্রামের কৃষকটি, যার শ্রমে ঘামে উৎপাদিত ফসলে নিবারিত হয় মানুষের ক্ষুধা?

বিজ্ঞাপন

কৃষককেও যুক্ত করতে হবে এই আনন্দধারায়। সেও এ সমাজের, এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই চিন্তা থেকে সারাজীবন কৃষকের সামনে মাইক্রোফোন আর ক্যামেরা ধরে রাখা টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা শাইখ সিরাজ সিদ্ধান্ত নেন, নিজেই বানাবেন কৃষক ও গ্রামীণ মানুষের জন্য তাদেরই অংশগ্রহণে ঈদ অনুষ্ঠান ফার্মারস গেইম শো ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’। বাকিটুকু ইতিহাস।

ঈদ মানেই টেলিভিশনে ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’। শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ সারাদেশের মানুষের প্রাণের অনুষ্ঠানে রূপ নেয়। কারণ এটাতে লেগে আছে মাটির সুবাস, শেকড়ের ঘ্রাণ! যে অনুষ্ঠানে সর্বাধিক দর্শকের চোখ আটকে থাকে এর নির্মাণ গুণে আর ভরপুর বিনোদনে।

অনুষ্ঠানে কৃষকদের নিয়ে আনন্দ-বিনোদনের পাশাপাশি থাকে সমাজ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ভাবনার কথা। যার ফলে অনুষ্ঠানটি হাসি আনন্দের পাশাপাশি সমাজ উন্নয়ন ভাবনায় সংশ্লিষ্ট মহলকেও সজাগ করে তোলে। প্রতিটি অনুষ্ঠানে থাকে একটি থিম। যার ভিত্তিমূলে থাকে কৃষক সমাজ। প্রতিবারই কৃষকের ঈদ আনন্দের পরিবেশ ও পরিবেশনায় বেশ খানিকটা ভিন্নতা পাওয়া যায়। কিন্তু এবারের ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ একেবারেই অন্য প্রেক্ষাপটে নির্মিত।

সারা বিশ্বেই কৃষক এক অনন্য পরিচয়। অথচ এই উপমহাদেশে কৃষক অবহেলিত। কেন? কৃষি এ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকার একটি। এ দেশে কৃষক থাকবে মর্যাদার আসনে। যেখানে কৃষি ও কৃষককে কেন্দ্র করে রচিত হওয়ার কথা ছিলো রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, সেখানে কৃষকের অবস্থান কোথায়?

শাইখ সিরাজের অনুষ্ঠানে ক্যামেরার গতিপথ অনেক সময়ই ব্যাকরণ মেলে চলে না চললেও বাস্তবতার বাইরে এতটুকুও যায় না। তার ক্যামেরায় সারাক্ষণই ধরা পড়ে দেশ, দেশের মানুষ আর দেশাত্মবোধ। এবার কৃষকের ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানে সেদিকটিই আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। দেশের সাধারণ কৃষকদের নিয়ে একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান করার পাশাপাশি সচেতনতার একটি আয়নাও যে তৈরি করা যায় তা প্রকাশ পেয়েছে এবারের অনুষ্ঠানে।

দর্শক অনুষ্ঠানটি দেখবেন, আনন্দের পাশাপাশি হাসবেন এবং ভাববেন অতীত ও বর্তমানকে নিয়ে, কোথায় ছিলাম, কোথায় আছি, কোথায় যাব ভবিষ্যতে এই ভাবনাও আচ্ছন্ন করে তুলবে দর্শককে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ অনুষ্ঠানটি ঈদুল ফিতরের পরদিন বেলা সাড়ে ৪টায় চ্যানেল আইতে প্রচার হবে।