চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কিছুই বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড়বেন না মাশরাফী

সাউথ আফ্রিকার শুরুটা ভালো হয়নি। নিজেদের বিশ্বকাপ মিশনে প্রথম ম্যাচে ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে প্রোটিয়ারা। সেই ক্ষতে প্রলেপ দেয়ার জন্য রোববার কেনিংটন ওভালে তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। আহত বাঘের মতই বাংলাদেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইবে ফ্যাফ ডু প্লেসিসের দল। তবে মাঠে কোনো কিছুই বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড়তে নারাজ মাশরাফী।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টা ভালোভাবেই মাথায় রেখেছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে শনিবার মেনেও নিলেন সেটা। বাংলাদেশ অধিনায়ক ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের তিনে থাকা একটা দলের কাছে মোটেও ফেভারিট ভাবছেন না তার দলকে।

ইংল্যান্ড ম্যাচে আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল হাশিম আমলাকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাকে নিয়ে শঙ্কায় প্রোটিয়া শিবিরে। সঙ্গে আছে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের জ্বালা। সবদিক মিলিয়ে দলটি বেশ বেকায়দা অবস্থায়।

প্রতিপক্ষের দুরাবস্থা, ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জয়ের স্মৃতি, সাম্প্রতিক জয়গুলোর আত্মবিশ্বাস হাওয়া যোগাচ্ছে বাংলাদেশের পালে। ম্যাচের আগে একটা চাপা উত্তেজনা টাইগার সমর্থকদের মাঝে।

বিজ্ঞাপন

সেই আগুনে অবশ্য জল ঢেলে দিয়েছেন মাশরাফী। নিষেধ করে দিলেন সাউথ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে অহেতুক উত্তেজনায় না কাঁপতে, ‘আমার মনে হয় বাড়তি উত্তেজনার কোনো মানেই নেই। এগুলো একদম অপ্রয়োজনীয়। আমরা কোনো ভাবেই এখানে ফেভারিট নই। আগের উইকেট বলেন কিংবা কালকের উইকেট। কোনো জায়গা থেকেই না। সাউথ আফ্রিকা অবশ্যই এ ম্যাচে ফেভারিট।’

ফেভারিট মানলেও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বিনাযুদ্ধে বিন্দুকণাও ছাড়তে রাজী নন ম্যাশ। তবে সাধারণ এক ম্যাচ মনে করেই সতীর্থদের খেলার তাগিদ তার, ‘এটাও সত্যি কথা যে আমরা আমাদের সেরা খেলাটা খেলবো। আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি, অবশ্যই চাইবো জিততে। আর আমরা কোনো জায়গা থেকেই চাইছি না যে ম্যাচটা হেরে যাই। তবে আবারও বলছি অহেতুক উত্তেজনার কোনো মানে নেই। বিশ্লেষকদের চোখেও আমরা পিছিয়ে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা আন্তর্জাতিক, এটাও তাই। খেলোয়াড়দের সেভাবেই প্রস্তুত হতে বলেছি।’

উদ্বোধনী ম্যাচে এই কেনিংটন ওভালে ৩১১ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড। সেই রান তাড়ায় ২০৭ রানে অলআউট সাউথ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের আগে রান বন্যার আশা করা হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা-নিউজিল্যান্ড ম্যাচেই প্রমাণ হয়েছে বোলাররাও আলো ছড়াবেন আসরে।

মাশরাফীর আশা ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই পাবেন ম্যাচে। সেরকম উইকেট হলে স্পিন-পেসারদের দিয়েই ম্যাচটা নিজের দিকে টানতে চান দলপতি, ‘শুরুটা ভালো হলে অবশ্যই দলের জন্য ভালো হয়। তাতে দলের আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। প্রথম ম্যাচে এই উইকেটে ইংল্যান্ড তিনশোর বেশি রান করেছে। যেহেতু আগে এই উইকেট ব্যবহার করেছে, দেখা যাক স্পিনারদের জন্য কিছু থাকে কিনা। দেখা যাক উইকেট কেমন ব্যবহার করে। আমরা আশা করছি ফ্লাট উইকেট হবে। এখানে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের এটা মেনেই খেলতে হবে। পেস-স্পিন দুই পাশ থেকেই।’

সাউথ আফ্রিকা ম্যাচের আগে রীতিমত আতঙ্ক ছিল বাংলাদেশ শিবিরে। শুক্রবার ব্যাট করার সময় হাতে চোট পান দলের ওপেনিং ভরসা তামিম ইকবাল। তার আগে থেকে হাল্কা চোট ছিল মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। তাদের অনুশীলনে ফেরার কথা সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন মাশরাফী।

বলেছেন, সুস্থ আছেন দুই সতীর্থ। তবে কেবল সুস্থতাই নয়, মাশরাফীর চাওয়া আরও বিশেষ কিছু, ‘আমি আশা করছি ওরা সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু আমি চাই তারা যেন পুরো আসর সুস্থ হয়েই শেষ করে। ক্রিকেটে ছোটখাটো চোট থাকবেই। এটা মেনেই খেলতে হবে।’