চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কাস্টমস অফিসার পরিচয়ে কোটি টাকার প্রতারণা, দামি গাড়ি দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন

প্রতারক নুরুল হক নিজেকে কাস্টমস সহকারী কমিশনার পরিচয় দিয়ে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়া ও ব্যবসায়ীদের কাছে কম মূল্যে কাস্টমসের জব্দ করা পণ্য বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করত। প্রতারণার কৌশল হিসেবে নিজে দামি গাড়ি হাঁকিয়ে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মিরপুরে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তার ছদ্মবেশে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ছয়জনকে আটক করে র‌্যাব-৪।

আটকেরা হলেন, মো. নুরুল হক, শেখ আলম, ফিরোজ আলম, মো. মোশারফ, মাসুদ রানা, রেনু মিয়া ওরফে রনি।এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিজিটিং কার্ড, প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

বুধবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি বলেন, এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান নুরুল হক (৫৭), তিনি নিজেকে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার পরিচয় দিতেন।এই প্রতারক ভুক্তভোগীদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য দামি গাড়ি হাঁকাতেন।

নুরুল হকের নামে এমন প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামসহ রাজধানীতে মোট ৩ টি মামলা আছে। নুরুল দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর ধরে এমন প্রতারণা করছিল।

বিজ্ঞাপন

চক্রটির মাঠ পর্যায়ে দু’একজন সদস্য আছে। যারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে টার্গেট ভুক্তভোগী ও গ্রাহক চিহ্নিত করে। তারপর মানুষ অনুযায়ী কৌশল নির্ধারণ করে প্রতারণায় ফেলে।

চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, প্রতারণার কৌশল হিসেবে প্রতারক চক্রটি শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীকে কাস্টমস অফিসার হিসেবে চাকরি দেওয়ার লোভনীয় অফার দেয়। এজন্য মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত তারা।

একপর্যায়ে প্রতারক চক্রের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপদ স্থানে কাস্টমস র‌্যাঙ্ক, ব্যাচ, ইউনিফর্ম পরিহিত, দামি ব্যান্ডের গাড়িতে ভিকটিমদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য সাক্ষাত করত নুরুল হক।  ভুক্তভোগীরা নুরুলকে দেখে বিশ্বাস করত এবং টাকার অংক নির্ধারণ করত।এরপর প্রতারক চক্র নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য তারিখ নির্ধারণ করত।

এরপরে সুকৌশলে প্রতারক চক্রটি ভিকটিমের নিয়োগপত্র হস্তান্তর করার তারিখের আগেই নানান অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য করত এবং টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল সিম বন্ধ করে আত্মগোপন করে প্রতারক চক্রের সদস্যরা।

চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির আরো বলেন, এই প্রতারক চক্র বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারদের টার্গেট করেও প্রতারণা করত।কাস্টমসে জব্দ করা স্বর্ণের বার, বিস্কুট, জাপানি পার্টস, কটন সুতা, গোল্ডেন সুতা, স্বর্ণের চেইন, মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপ ইত্যাদি কম মূল্যের বিক্রির অফার দিত।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের বলত মালামাল সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আমদানি করার কারণে কাস্টমস এগুলো জব্দ করেছে। লোভনীয় অফারে প্রলুব্ধ হয়ে ক্রয় করতে আগ্রহী হতো ব্যবসায়ীরা।

পরে চক্রটি সুকৌশলে মালামাল দেয়ার নির্ধারিত তারিখ ঠিক করত এবং মূল্যের একটি অংশ অগ্রিম হিসেবে আদায় করে, ভুয়া চুক্তিনামা তৈরি করত। এভাবেই তারা অগ্রিম লাখ লাখ টাকা আদায় করত।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান র‌্যাবের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।