চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কারো উপর অবিচার হোক আমরা তা চাই না’

দুই বাসের মধ্যে পড়ে হাত হারানোর পর রাজীবের মৃত্যুতে তার দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশের বিরুদ্ধে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

শুনানিতে বিআরটিসির পক্ষের আইনজীবী এ বি এম বায়েজিদ আজও বলেন, ‘মাই লর্ড আমরা তো ওই দিন অপরাধ করিনি। স্বজন পরিবহন বাম দিক থেকে ধাক্কা দিয়েছিল।’

এ সময় স্বজন পরিবহনের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল মতিন খোসরু বলেন, ‘মাই লর্ড, আমরা বলছি ওই ঘটনাটা হৃদয় বিদারক। কিন্তু আমরা আপাতত ৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে চাই।’

এ সময় আদালতে রাজীবের ক্ষতিপূরণের পক্ষে থাকা আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘মাই লর্ড, হাইকোর্ট বিভাগ রুলে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলেছেন। এবং টাকা জমা রাখার জন্য এরই মধ্যে একটা যৌথ এ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।’

এরপর আদালত বলেন, ‘কারো ওপর অবিচার হোক আমরা তা চাই না। হাইকোর্টের আদেশটা সংশোধন করতে হবে। আর ক্ষতিপূরণের টাকা যে রাজীবের দুই ভাই পাবে সেটা নিশ্চিত করাটা খুব কঠিন।’

এর আগে গত ১৭ মে আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি হয়। ওইদিন আদালতে বিআরটিসির পক্ষের আইনজীবী এ বি এম বায়েজিদ বলেছিলেন, তারা ওই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী না। স্বজন পরিবহনের গাড়িটি ওইদিন বাম দিক থেকে ওভারটেক করে এসে বিআরটিসি’র গাড়িসহ রাজীবকে ধাক্কা দেয়। বিআরটিসি দায়ী না হলে ক্ষতিপূরণের টাকা কেন দেবে বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

রাজীব হোসেন-রাজীবের হাত-দুই ভাই-স্বজন পরিবহন-বিআরটিসি
রাজীব হোসেনের দুই ভাই

ওই সময় স্বজন পরিবহনের পক্ষের আইনজীবী পংকজ কুমার কুণ্ড বলেছিলেন, স্বজন কোম্পানি ওই গাড়ির মালিক না। গাড়িটি স্বজনকে প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা দিত। এবং ‘স্বজন’ নামের ব্যানার দিয়ে চলত। আসাদুজ্জামান রাজু নামের একজন ওই গাড়ির মালিক।

বিজ্ঞাপন

এরপর আপিল বিভাগ আরো শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। সে ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গত ৮ মে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের নেতৃত্বহীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রাজীবের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দেয়ার নির্দেশ দেন। বিআরটিসি ও ‘স্বজন পরিবহন’কে ৫০ লাখ করে মোট এক কোটি টাকা দিতে ওই আদেশে বলা হয়।

হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আগামী এক মাসের মধ্যে ওই দুই বাস কর্তৃপক্ষকে ২৫ লাখ করে মোট ৫০ লাখ টাকা পরিশোধের পর আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়। সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখায় রাজীবের খালা ও রাজীবের গ্রামের এক কর্মকর্তা ওমর ফারুকের নামে যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে এই টাকা রাখতে বলেন আদালত। আগামী ২৫ জুন আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত ৩ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার সামনে দুই বাসের মাঝে পড়ে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বাংলামোটর থেকে ফার্মগেট মুখী বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে ছিলেন রাজীব। সেটি সার্ক ফোয়ারার কাছে পান্থকুঞ্জের পাশে সিগন্যালে এসে থামে। এ সময় একই দিক থেকে আসা স্বজন পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে দোতলা বাসের পাশের ফাঁক দিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে।রাজীব হোসেন-রাজীবের হাত-দুই ভাই-স্বজন পরিবহন-বিআরটিসি

ওই সময় রাজীবের ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে দুই বাসের মধ্যে ঝুলতে থাকে। রাজীবকে প্রথমে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন।

পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের মৃত্যু হলে এই তথ্যসহ আদালতে একটি সম্পূরক আবেদন করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সে আবেদনে রাজীবের ভাইদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আবেদন করা হলে হাইকোর্ট ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন।

তবে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহন।