চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কারাগারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আইনজীবীর মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

পঞ্চগড় জেলা কারাগারের ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিজ্ঞাপন

পঞ্চগড়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে এ তদন্ত করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে এ তদন্তে সহযোগিতা করতে পঞ্চগড়ের এসপি, ডিসি ও জেল সুপারের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের আজকের এ আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আইনজীবী পলাশ কুমার রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আদালত তার রুলে উল্লেখ করেন: কারা অভ্যন্তরে থাকা আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কে নিরাপত্তা দিতে কারা কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং আদালত এবিষয়ে আদেশের জন্য ২৩ জুন দিন ধার্য করেছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারি আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। আর রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।

আইনজীবী পলাশ রায় পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মীরা রানী রায়ের ছেলে।

কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের আইন উপদেষ্টা ছিলেন পলাশ। ২০১৬ সালে বেসরকারি কোম্পানি কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছিল তাকে। পরে সে এ মামলায় জামিন পান।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ দুপুরে পলাশ তাঁর বিরুদ্ধে করা কোহিনূর কেমিক্যালের ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলাটি প্রত্যাহারের দাবিতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পরিবারের লোকজন নিয়ে অনশন শুরু করেন।

একপর্যায়ে সেখান থেকে উঠে এসে পঞ্চগড় শের-ই-বাংলা পার্ক–সংলগ্ন মহাসড়কে এসে মানববন্ধন করেন। এ সময় মানববন্ধন থেকে তিনি মাইকে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর আশপাশের লোকজন পলাশ রায়কে পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশে সোপর্দ করে এবং সেদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পলাশের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি এলাকার রাজিব রানা  মামলা করেন। ওই মামলায় ২৬ মার্চ দুপুরে পঞ্চগড়ের আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

কারাকর্তৃপক্ষ জানায়, পলাশ সেরোসিস ‘অর্থাইটিস রোগী বলে’ তাকে সহানুভূতি দেখিয়ে কারা অভ্যন্তরে হাসপাতালে রাখা হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল সকালে হাসপাতালের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পলাশ দৌড়ে বের হলে কারারক্ষীরা তাঁর শার্ট-প্যান্ট ছিঁড়ে শরীরের আগুন নেভান। পরে তাকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিন দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

অবশেষে ৩০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আইনজীবী পলাশ রায়।

পলাশের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন পলাশের মা মীরা রানী।

এসময় তিনি বলেন,‘বংশীয়ভাবে আমরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। দলীয় সমর্থনেই আমি উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম। আমার স্বামী ৩৬ বছর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন (বছরখানেক আগে প্রয়াত)।’

এদিকে আইনজীবী পলাশ রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে গত ৬ মে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।