চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘কাজ দিতে দিতে চানরাইত, তখন তো আর বাড়ি যাওয়া যায় না’

ঈদে নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত শহরের দর্জি ঘরগুলো…

রাত ১১টা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি কর্মব্যস্ত দর্জির দোকান দেখে অবশ্য তা বোঝার উপায় নেই। কারণ, সেলাই মেশিনের যান্ত্রিক শব্দে তখন মুখর চারিদিক। সেই সাথে কাচি দিয়ে কাপড় কাটার ‘ঘচঘচ’ শব্দ। প্রচণ্ড গরমে মাথার উপরে ফ্যান ঘুরলেও দর্জিদের শরীর ঘর্মাক্ত। কাজের ব্যস্ততায় দম ফেলার ফুসরত নেই কারও।

বিজ্ঞাপন

দোকানে ঢুকে দেখা গেলো গলায় মাপের ফিতা ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন টেইলর মাস্টার শাহিন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কাজের ব্যস্ততা নিয়ে। জানালেন প্রচুর অর্ডার পাচ্ছেন। দেশী সুতির পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি লন এর পোশাক তৈরি করছেন অনেক নারী।

পোশাকের কাটিং এ বৈচিত্র্য এসেছে। বিশেষ করে গলায় এবং হাতের বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবার। গলায় শেরওয়ানি কাট, পান গলা চলছে। আর হাতায় আমব্রেলা কাট, বেলবটম, কুচি, রুমাল কাট চলছে বলে জানালেন তিনি। পনেরো রোজার পরে পরিচিত কাস্টমারদের অনুরোধ ছাড়া অর্ডার নিচ্ছেন না তারা।

বিজ্ঞাপন

শাহিন জানান, দর্জিরা রাত তিনটা পর্যন্ত কাজ করেন। এরপর সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তারা। সকালে আবার নয়টা থেকে কাজ চলতে থাকে পরের দিন সেহরি পর্যন্ত। মাঝে ইফতারের বিরতি থাকে।

দোকানের কর্মীরা বাড়িতে যাবেন ঈদের দুই-একদিন আগে। আবার কেউ কেউ ঢাকায় ঈদ করবেন। দর্জি মাস্টার শাহিনকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘আপনি কোথায় ঈদ করবেন?’ উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকাতেই ঈদ করবো। কারণ আমাদের কাজ দিতে দিতে তো রাত বারোটা, চানরাইত। তখন তো আর বাড়ি যাওয়া যায় না।’

জানালেন চাঁদ রাতে দোকান বন্ধ করার পর কয়েকদিন ঈদের ছুটি থাকে। কারিগররা ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর দোকান খোলা হয়। আর তাই দোকান খুলতে সপ্তাহখানেক লেগে যায়।

ভিডিওতে শহরের দর্জি ঘরগুলোর ব্যস্ততা…