চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কাঁটা দিয়েই কাঁটা তুলতে চায় বায়ার্ন

গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হয়েছিল। অভিজ্ঞতা মোটেই সুখকর ছিল না জার্মান দলটির কাছে। কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়। এক বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আবারও রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শুরু বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১টায়।

বিজ্ঞাপন

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বায়ার্ন মিউনিখের বিরুদ্ধে রিয়ালের কাজটা এবার মোটেই সহজ হবে না। ‌ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় নামার আগে একটা তথ্যই তাতাচ্ছে বায়ার্নকে। বাড়তি উদ্দীপনাও জোগাচ্ছে। সেটা হল- এই মৌসুমে ঘরের মাঠে একটা ম্যাচেও হারেনি বায়ার্ন। ১৩ জয়ের বিপরীতে ২টি ড্র।

চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠে বায়ার্ন জয় পেয়েছে আন্ডারলেখট, সেল্টিক, পিএসজি ও বেসিকতাসের বিরুদ্ধে। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ড্র সেভিয়ার সঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই গতবারের হারের বদলা নিতে ভিড় করবেন অ্যালিয়েঞ্জের বায়ার্ন সমর্থকরা।

টমাস মুলার, ফ্রাঙ্ক রিবেরি, আরিয়েন রোবেন, রবার্ট লেভানডোভস্কিদের মতো তারকাদের দিকে নজর তো থাকবেই। কিন্তু রিয়ালের সঙ্গে মহারণের আগে বাড়তি নজর কেড়ে নিচ্ছেন জেমস রদ্রিগেজ। ২০১৪ বিশ্বকাপে তার খেলা চোখ টেনেছিল ফুটবল বিশ্বের। তারপরই তাকে দলে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরুতে মানিয়েও নিয়েছিলেন জেমস। প্রথম লা লিগায় করেছিলেন ১৩ গোল। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে দলের প্রথম একাদশে ধীরে ধীরে অনিশ্চিত হয়ে পড়েন। এরপর রিয়াল দু’‌বছরের লোনে জেমসকে পাঠিয়ে দেয় বায়ার্নে। নতুন ক্লাবে গিয়ে কিন্তু নিজেকে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছেন। এমন মহামঞ্চেই কি পুরনো দলের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠবেন কলম্বিয়ান তারকা?‌

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের আগে নিয়মতান্ত্রিক সাংবাদ সম্মেলনে বায়ার্ন কোচ ইয়ুপ হেইঙ্কস প্রশংসা করেছেন জেমসের। রিয়াল ছাড়ার পর একটু হলেও হতাশায় ভুগেছিলেন জেমস, জানিয়েছেন হেইঙ্কস। তার মন্তব্য, ‘‌জেমস তখন হতাশ ছিল। আমাকে তার যত্ন নিতে হয়েছিল। তার সঙ্গে অনেক কথা বলেছিলাম। তার পর ধীরে ধীরে ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল।’

‘জেমসের খেলা আমাদের সমর্থকরা উপভোগ করতে শুরু করে। এখন সে অনেক খোলা মনে খেলতে পারে। এই বছর তো দুর্দান্ত খেলছে। খেলায় বৈচিত্র‌্য বেড়েছে। জেমস এখন জার্মান শিখছে। কিন্তু স্প্যানিশে কথা বলা খেলোয়াড়দের জার্মান শেখাটা বেশ কঠিন। তাও আমি তার সঙ্গে কথা বলতে পারি’ -যোগ করেন বায়ার্ন কোচ।

কিন্তু এতকিছুর পরেও রিয়ালের বিরুদ্ধে জেমস প্রথম একাদশে থাকবেন কিনা, তা নিশ্চিত করে বলেননি হেইঙ্কস। তার ইঙ্গিত, জেমস অথবা থিয়াগো আলকানতারা শুরু থেকে খেলবেন। তবে ডেভিড আলাবা এবং কোরেনতিন তোলিসোর চোট ভাবাচ্ছে বায়ার্ন কোচকে। এই দু’‌জনকে নিয়ে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ম্যাচের দিন সকালে।

সেমিফাইনালে গত দু’‌বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি বায়ার্ন। যা নিয়ে হেইঙ্কসের প্রতিক্রিয়া, ‘‌সেমিফাইনালে যে চার দল উঠেছে, প্রত্যেকেই শক্তিশালী। বুধবারের ম্যাচ হবে টানটান উত্তেজনার।’‌

হেইঙ্কস কোনো দলকেই ফেভারিট বলতে নারাজ, ‘‌ফুটবল অনুরাগীদের জন্য দারুণ একটা ম্যাচ হতে চলেছে। দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। আমার মতে, কাল (বুধবার) কোনো দলই ফেভারিট নয়। তবে একটা ভাল অনুভূতি হচ্ছে।’‌

আর বিপক্ষের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে কী বলেছেন হেইঙ্কস?‌ ‘‌তাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। তার ক্যারিয়ারই তার হয়ে কথা বলে। কিন্তু আমাদেরও দলে রয়েছে গ্রেট স্ট্রাইকার লেভানডোভস্কি, এই মৌসুমে যার গোলসংখ্যা ৩৯।’‌

কোচের আস্থার মর্যাদা রাখতে পারবেন রবার্ট লেভানডোভস্কি?‌ পারবেন সি আর সেভেনকে ছাপিয়ে নায়ক হয়ে উঠতে?‌ তারই উত্তরের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।