চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কম্পিউটার-ইন্টারনেট সরঞ্জামে ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহারের পরামর্শ

তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট সেবা সর্বস্তরের মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সরঞ্জাম এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছে তথ্য-প্রযুক্তিখাত সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন। একইসঙ্গে ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটরের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে তারা।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় অংশ নেয় অটোমোবাইলস ও ট্রান্সপোর্ট, কম্পিউটার, আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ, ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যালসহ কয়েকটি খাতের সংগঠন।

সভায় তথ্যপ্রযুক্তিখাতের সংগঠন-বেসিস’র সভাপতি মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ডের ১০ শতাংশ প্রসার হলে এ খাতের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ১ শতাংশ। কিন্তু ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট-শুল্ক বসানোর কারণে তা হচ্ছে না।

ইন্টারনেট সেবা প্রসারে ভ্যাটকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে ২ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে। এর মধ্যে ২ কোটি ২০ লাখ ঢাকা শহর ও এর আশপাশের বাসিন্দা। অন্যান্য এলাকায় এ সংখ্যা মাত্র ১৩ লাখ।

বিজ্ঞাপন

‘মূলত ভ্যাটের কারণে সাধারণ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন না।’

মোস্তফা জব্বার বলেন: যখন আমরা কৃষিভিত্তিক সমাজ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে প্রবেশ করেছি- তখন প্রযুক্তিতে আমদানি নির্ভর ছিলাম। এখন আমাদের উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশের কাতারে প্রবেশের সময় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হতে চাই। কিন্তু আমরা বিদেশ থেকে কোন ডিজিটাল পণ্য আনলে যে শুল্ক হয়- দেশে উৎপাদন করলে তার শুল্ক ১০ গুণ বেশি পড়ে।

বর্তমান সরকারের সবোর্চ্চ গুরুত্বপূর্ণ খাত আইসিটি। আর আইসিটি যোগাযোগের মাধ্যমে হলো আইএসপি ইন্ড্রাস্টিজ। এটি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান ভ্যাট মওকুফ এবং আইসিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কর্পোরেট কর উচ্চহার কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি।

সভায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) পক্ষ থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারের ১৫ শতাংশ মূসক প্রত্যাহার, ইন্টারনেট সরঞ্জাম মডেম, ইথারনেট ইন্টারফেস কার্ড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সুইচ, হাব, রাউটার, সার্ভার, ব্যাটারিসহ সব ইন্টারনেট ইকুইপমেন্টের ওপর আরোপিত ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় হার্ডওয়্যার সামগ্রী আমদানি, পরবর্তী পর্যায়ে সরবরাহ বা যেকোনোভাবে সরবরাহ বা বিক্রির ওপর প্রযোজ্য মূসক থেকে অব্যাহতি এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকারী কম্পিউটার যন্ত্রাংশের ওপর প্রদত্ত মূসক অব্যাহতি সুবিধা ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার অনুরোধ জানান বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির নেতা জহিরুল ইসলাম।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য (মূসকনীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. পারভেজ ইকবাল (করনীতি), মো. লুৎফর রহমান (শুল্কনীতি) এবং অন্যরা।