চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কথা আর কাজে মিল থাকলেই সংঘাত এড়ানো সম্ভব

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এমন ৬৯১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নানান দিক নির্দেশনা দিতে তিন দিনের কর্মশালার আয়োজন করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শেষ দিনে তাদেরকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাত, রক্তপাত অথবা প্রাণহানী হোক তা আমরা চাই না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো যোগ করেন, ‘এই নির্বাচনে কমিশনের অবস্থান হলো একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। ভোটার ভোটকেন্দ্রে যাবে, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে যাবে এবং বাড়িতে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করবেন।’

এর মানে, এসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অল্প কথায় তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন সিইসি। আরও সহজ করে বললে, তিনি চেয়েছেন কোনোভাবেই যেন রক্তপাত বা প্রাণহানীর ঘটনা না ঘটে। আর এর জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরকেই।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন নিয়ে এমন বক্তব্য শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরই না, বলতে গেলে পুরো দেশের মানুষই তাই চান। কেননা ভোট মানেই তাদের কাছে এক বিরাট উৎসব। সেই উৎসবে নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্দ নানাভাবে তারা অংশ নেবেন, এটাই তাদের চাওয়া। সেখানে কোনো রকম রক্তপাত বা প্রাণহানী হোক এটা তারাও চান না।

কিন্তু অনেক কিছু না চাইলেও তাকে ঠেকানো যায় না। কেননা সব মানুষের চাওয়া এক রকম হবে; তা ভাবার কোনো কারণ নেই। আর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত ঘটনা বা প্রাণহানীর ঘটনা আমাদের দেশে নতুন নয়। তারপরও সবারই চেষ্টা থাকে, এসব অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর।

নির্বাচনে একপক্ষ জয় পাবে এটা যেমন স্বাভাবিক, আবার আরেকপক্ষ হারবে, সেটাও অনিবার্য বিষয়। কিন্তু অনেকেই এই অনিবার্য আর সহজ বিষয়টাকে মেনে নিতে পারেন না। আর পারেন না বলেই প্রতিপক্ষের উপর নানা ধরনের নির্যাতনের পথ বেছে নেন। যা শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষের জন্য সুখকর হয় না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুগের পর যুগ সেই লড়াই চলতে থাকে।

এই নির্বাচন নিয়ে সবপক্ষ থেকেই শঙ্কা আছে। প্রতিদিনই নির্বাচনে অংশ নেওয়া পক্ষগুলো একে অন্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে আসছে ইসিতে। ইসিও তার মতো করে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করছে। কিন্তু এই অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ থেকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে শঙ্কা আর ভয়।

ভোটারদের এই শঙ্কা আর ভয় থেকে বের করার দায়িত্ব মূলত নির্বাচন কমিশনের। আমরা মনে করি, কথা ও কাজের মিল রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারলে কোনো রকম সংঘাত ছাড়াই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা সম্ভব।