চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি কি আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে?

কওমি শিক্ষাব্যবস্থা যুগের পর যুগ চলে এলেও তা প্রশাসনের নজরদারি ও সহায়তার বাইরে ছিল। এই শিক্ষাকে মূলধারায় যোগ করতে সরকার আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এর সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান ঘোষণা করায় রোববার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মাননা জানিয়ে ‘শুকরানা মাহফিলে’র আয়োজন করে ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন: ‘যারা সত্যিকারের ইসলাম ধর্মের মানুষ, তারা কখনও জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ করতে পারে না; বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। যারা জঙ্গিবাদ করে তাদের কোনো দেশ নেই, ধর্ম নেই। ওআইসির জঙ্গিবাদ বিরোধী এক সম্মেলনে বলেছিলাম, জঙ্গিবাদ দমনে সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মা একসঙ্গে কাজ করবে। বাংলাদেশ হবে একটা শান্তিপূর্ণ দেশ।’

কওমি শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ কট্টরপন্থার। তাদের কারিকুলাম বা সিলেবাস এমনভাবে গড়া যে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে বিজ্ঞান এবং আধুনিকতার শিক্ষা পায় না। যুগের পর যুগ এভাবেই চলে আসছে। সরকারের এই স্বীকৃতির পর ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুনভাবে তাদের কারিকুলাম গড়ে তোলা হবে বলে আমরা আশা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন: ‘লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এই মাধ্যমে পড়ে, তারা কোথায় যাবে? দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতির কারণে এখন কওমি শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে চাকরি পাবে। বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে পারবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মানবিক বিষয়ের সঙ্গে আমরাও একমত। তবে দেশে-বিদেশে চাকরির বাজারের জন্যও তাদেরকে দক্ষ করে তুলতে হবে। এজন্য তাদের কারিকুলাম সংশোধন করে আধুনিক এবং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করার পদক্ষেপ সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে।

একইসঙ্গে আমরা আরও একটি দুঃখজনক বিষয় লক্ষ্য করেছি। তা হলো- এই ‘শুকরানা মাহফিল’কে সামনে রেখে বাচ্চাদের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে শুক্রবারসহ টানা পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এতে কোমলমতি পরীক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ পড়ছে। বাচ্চাদের মানসিক চাপে ফেলার এই বিষয়টা মোটেই ঠিক হয়নি। কারণ, এর ফলে জীবনের শুরুতেই ভবিষ্যতের এই কাণ্ডারীরা রাষ্ট্র সম্পর্কে বিরূপ বার্তা পেয়েছে। এটা কখনোই আমাদের কাম্য হতে পারে না।