চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ও আমার উড়াল পঙ্খী রে’

চলে গেছেন সুবীর নন্দী। রেখে গেছেন ৪৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গাওয়া আড়াই হাজারেরও বেশি গান।

বিজ্ঞাপন

সুবীর নন্দী বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন ভক্তদের। আধুনিক গানের পাশাপাশি তিনি গেয়েছেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, ভজন, কীর্তন এবং পল্লী গীতি।

সুবীর নন্দীর মা পুতুল রানী চমৎকার গান গাইতেন। মায়ের কাছে গানে হাতেখড়ি তার। ভাই-বোনদের সঙ্গে ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন তিনি। ১৯৬৭ সালে তিনি সিলেট বেতারে গান করেন। সুবীর নন্দী গানের জগতে আসেন ১৯৭০ সালে ঢাকা রেডিওতে প্রথম রেকর্ডিং এর মধ্য দিয়ে। চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ ডিসকো রেকর্ডিংয়ের ব্যানারে বাজারে আসে।

চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে অবদানের জন্য পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সুবীর নন্দী। মহানায়ক (১৯৮৪), শুভদা (১৯৮৬), শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯৯), মেঘের পরে মেঘ (২০০৪) ও মহুয়া সুন্দরী (২০১৫) চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে পাঁচবার এই পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও সঙ্গীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

সুবীর নন্দীর জনপ্রিয় কিছু গান হলো ও আমার উড়াল পঙ্খী রে, পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই, দিন যায় কথা থাকে, ও মাস্টার সাব, পাখি রে তুই দূরে থাকলে, আমার এই দুটি চোখ, কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো, তুমি এমনই জাল পেতেছ সংসারে, একটা ছিল সোনার কন্যা, বন্ধু হতে চেয়ে তোমার, আয়নাতে ওই মুখ, কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়, পাহারের কান্না দেখে, প্রেমের নাম বেদনা, তোমারি পরশে জীবন, তুমি যে আমার কবিতা, বন্ধু তোর বরাত নিয়া, হাবলঙ্গের বাজারে, আমি পথে পথে ঘুরি, নীড় ছোট ক্ষতি নেই, দিন যায় কথা থাকে, বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে, চাঁদে কলঙ্ক আছে, গানেরই খাতায়, আমি সাত সাগর।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে জনপ্রিয় শিল্পী সুবীর নন্দী মারা গিয়েছেন।