চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওসিরা এত সাহস কোথায় পায়: হাইকোর্ট

মামলা না নেওয়ার প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার ওসি হাবিল হোসেনের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির করা রিটের শুনানিতে হাইকোর্ট ক্ষোভের সাথে বলেছেন: ওসিরা এত সাহস কোথায় পায়?

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম শ্যামনগর থানার ওসি কার্তিক রিট আবেদনকারীর মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানালে আদালত এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এসময় বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ বলেন: ওসি মামলা নিলেন না কেন? আমরা তাহলে রুল দিয়ে দেখি, কেন তিনি মামলা নিলেন না। ওসি সাহেবরা সব জায়গায় কোর্ট বসিয়ে দেন। ওসিরা যেখানে সেখানে কোর্ট বসায়, রাতে কোর্ট বসায়। এত সাহস তারা কোথায় পায়? তারা নিজেরা বিচার বসায় কেমনে? তার সুবিধামতো হলে মামলা নেবেন। আবার নেবে না। আবার টাকা ছাড়া থানায় জিডি হয় না।

বিজ্ঞাপন

আদালত আরো বলেন: তবে অনেক পুলিশ খুব কষ্ট করে জীবন-যাপন করেন। অথচ আবার অনেকের দেখি ৪-৫টা করে বাড়ি।

এ বিষয়ে রিটকারি আইনজীবী শামসুল হক কাঞ্চন জানান: জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা বা ১২টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার সোরা গ্রামের মো. ফজলুর করিমের বাড়িতে হামলা হয়। এজন্য ওই গ্রামেরই ইউসুফ আলীসহ তার সঙ্গীদের দায়ী করেন ফজলুর। ফজলুরের অভিযোগ, তাকে মারধর করে নগদ দুই লাখ টাকা, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি সোনার চেইন ও ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে এবং যাওয়ার সময় তারা বাড়ির সীমানা প্রাচীরও ভেঙে দেয়। এবং হামলার সময় শ্যামনগর থানার ওসিকে ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে ওসি ‘ব্যস্ত’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এরপর ফজলুর কালিগঞ্জ সার্কেলের এএসপিকে ফোনে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি ৯৯৯ এ ফোন করে সাহায্য চাইলে শ্যামনগর থানার এক এএসআই ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু ততক্ষণে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এসময় ওই এএসআই থানার ওসিকে ফোন করেন। একপর্যায়ে এএসআইর ফোনে ওসির সঙ্গে কথা হয় ফজলুরের। ওসি তখন ফজলুরকে ‘উপর মহলে নালিশ করিস, তোর মামলা হবে না’ বলে কোর্টে মামলা করতে বলেন।

পরদিন শ্যামনগর থানার এস আই মনিরুজ্জামান তদন্ত করে বলেন, ‘মামলা হবে না’। তিনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে এর মীমাংসা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু ফজলুর ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের কাছে পুরো ঘটনা তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ করেন। সে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এসপি শ্যামনগর থানার ওসিকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে লিখিত নির্দেশ দেন। কিন্তু ওসি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত ৩ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন ফজলুর। এরপর গত ১০ মার্চ রিটের প্রাথমিক শুনানিতে আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি সমন্ধে খোঁজ নিতে বলেন।

এরপর আজ এ বিষয়ের শুনানিতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম আদালতে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ স্বর্ণালঙ্কার লুট, হামলা, দরজা ভাঙার কোনো প্রমাণ পায়নি। কিন্তু পাঁচিল ভাঙার প্রমাণ পেয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। তখন আদালত বলেন, যেহেতু পাঁচিল ভাঙা পেয়েছে, আংশিক সত্যতা তো পাওয়া গেছে। তাহলে পুলিশ কেন মামলা নেবে না?

এরপর আদালত প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়ে বিষয়টি এক সপ্তাহের জন্য ‘স্ট্যান্ডওভার’ রেখে আগামী রোববার এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।