চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ওআইসি সম্মেলনে আমেরিকা-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, হুঙ্কার

মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংস্থা ওআইসি’র মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমদ আল-ওথাইমিন বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনয়নের কেন্দ্র ফিলিস্তিন।’

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর যা উত্তাল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা এবং পবিত্র এই ভূমিতে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরে ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রত্যাখান করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গত ৫ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের তার অভিপ্রায়ের কথা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার এক সপ্তাহ পরে ওরগানাইজেশন অব ইসলামিক কঅপারেশনের (ওআইসি) এই সম্মেলন।

৫০টিরও বেশি মুসলিমপ্রধান দেশের নেতাদের অংশগ্রহণে বুধবার তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সম্মেলন। ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা করছে তারা। এতে মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানেরা বক্তব্য দেবেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। ইস্তাম্বুলের কংগ্রেস অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ওআইসির এ বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, স্থিতাবস্থা পরিবর্তনে ইসরায়েলের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফিলিস্তিনিরা নিশ্চুপ হয়ে থাকবে না।

মাহমুদ আব্বাস বলেন, ৫ মাস আগে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দিলে ইসরায়েলের সাথে আমরা নিরাপত্তা সহযোগিতা বাতিল করেছি। ওয়াশিংটনে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) অফিস বন্ধ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের অঙ্গীকারের লঙ্ঘণ বলে অভিহিত করেন তিনি।

বিশ্বের সকল দেশের প্রতি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, বিশ্বে আমাদের সমতার স্থান নিশ্চিত করতে তা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে ফিলিস্তিনির অংশগ্রহণকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।

“আমরা জনগণকেসহই জেরুজালেমকে চাই, শুধু শহরটি নয়; ফিলিস্তিনিদের এই শহরে থাকতে দিতে হবে।”

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনির পক্ষে প্রতিবাদের জন্য আরব জাতির প্রতি ধন্যবাদ জানান তিনি। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের সমর্থনের জন্যও ধন্যবাদ জানান। ফিলিস্তিনিরা তাদের সহনশীলতায় দৃড় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেরুজালেম আমাদের রাষ্ট্রের রাজধানী ছাড়া আর কিছু নয়, মাহমুদ আব্বাস জোড় দিয়ে বলেন। তিনি আরও বলেন, যার যার ধর্ম পালনের জন্য মুসলিম, ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের স্থান এটি।

পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী ঘোষণার জন্য বিশ্বকে চাপ দিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ‍তুরস্ক।

জর্ডানের রাজা আব্দুল্লাহ বলেছেন, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত আমরা থামবো না।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের অনুসারী না হতে সকল জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।  বলেছেন, জেরুজালেমে দূতাবাস স্থাপনের পরিকল্পনা যেনো অন্য কোন দেশ না নেয়। জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনির রাজধানী বিবেচনা করার অঙ্গিকার সমুন্নত রাখতে জাতিসংঘের প্রতিও তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের দখলদারি বন্ধ করার উপর জোড় দেন জর্ডানের রাজা। ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার দিতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। দুই রাষ্ট্র সমাধানের দিকে যেতে বলেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, আমেরিকা শুধুমাত্র জায়নবাদী স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, জায়নবাদী মতবাদই ফিলিস্তিনিদের হত্যা এবং স্থানচ্যুতির জন্য দায়ী।

উম্মাহ ও জেরুজালেমের জন্য হলেও প্রতিটি দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ট্রাম্পের সীদ্ধান্তের নিন্দা জানাতে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেওয়া সকলের একমত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন। জায়নবাদী আদর্শের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান রুহানি।

জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের অঙ্গিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তা সমুন্নত রাখতেও বলেন তিনি।

বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে ফিলিস্তিনি ইস্যুকে নিয়ে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। জায়নবাদীদের আগ্রাসনের কথা ভুলে গেলে চলবে না, বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

যেসকল দেশ এখনও ফিলিস্তিনিকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেননি, তাদের প্রতি অতিসত্বর ফিলিস্তিনিকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ওআইসি। দুই রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থনে এবং সমতা এবং শান্তি নিশ্চিত করতেই সংস্থাটির এমন আহ্বান বলেও জানায় তারা।

ফিলিস্তিনে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, হতাহত
ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই ফিলিস্তিনি অঞ্চল বিক্ষোভে উত্তাল। বিশ্ব নেতারাও নিন্দা জানিয়ে চলেছেন।

ফিলিস্তিনির অভ্যন্তরে গাজা ভূখন্ডে গতকাল ২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। মোট নিহতের সংখ্যা ৬। ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা বর্ষণের কারণেই এই নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ ফিলিস্তিনিদের। তবে ইসলামিক জিহাদের সদস্য নিহতদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।

এছাড়াও বহু ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। অধিকৃত পশ্চিম তীর, গাজা ও জেরুজালেমে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৪৫ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের বিবৃতি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ৩৬ জন বিক্ষোভকারী রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসে আহত হয়েছেন, এছাড়া গাজা সীমান্তে আহত হয়েছেন ৯ জন।

আহতদের মধ্যে ৪০ জন আল-খুদারি বিশ্ববিদ্যালয়ের, তুলকারামে ইসরায়েলের সেনারা গুলিবর্ষণ করলে তারা আহত হন।

পশ্চিম তীরের শহর ও গ্রামে, বিশেষ করে হেবরনে রাতজুড়ে অভিযান চালানো হয়। ইসরায়েলি বাহিনী বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করে, এদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী বালকও রয়েছে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলি সেনার উপর হামলা চালিয়েছিলো।

গাজা, রামাল্লা ও হেবরনে এখনও সংঘাত চলছে।