চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘এ হত্যাকারীরা সেইরকম মানুষ’

চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর সহ পাঁচজনের নিহতের ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ বাতিলের দাবিতে পরিবহন শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে মানুষ দিশেহারা। সেই প্রসঙ্গ নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা কাওসার চৌধুরী।

প্রায় দুদিন মানুষের চরম ভোগান্তির পর সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শেষে সারাদেশে চলমান পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় মালিক-শ্রমিকরা।

কাওসার চৌধুরী স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আপনি গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ মারবেন আর তার ‘বিচার’ করলেই আন্দোলন করবেন- এটা কেমন কথা?! মিশুক মুনীর আর তারেক মাসুদের কথায় পরে আসছি। আশির দশকের কথা বলি!

এরশাদ যখন দোর্দন্ড প্রতাপে দেশ শাসন করছিলেন- তখনও কিন্তু এই ‘হত্যাকারী’দের জন্য ‘মৃত্যুদণ্ডে’র বিধান তৈরী করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এরশাদও সেই বিধান কার্যকর করতে পারেন নি ‘এদের’ চাপে। উপরন্তু এক ট্রাক-ড্রাইভার ট্রাফিক সার্জেন্টকে তার ট্রাকের চাকায় পিষ্ট করে মেরেছিল।

ঘটনাটি ঘটেছিল মীরপুর ব্রীজের একটু পরে (সাভারের পথে)। একটি মালবোঝাই ট্রাক ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে সাভারের দিকে ছুটে যাচ্ছিল। আমিন বাজারের কাছে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট ট্রাকটি থামাবার নির্দেশ দেন। কিন্তু ড্রাইভার তার নির্দেশ অমান্য করে উর্ধশ্বাসে ছুটে চলে সাভারের পথে। সার্জেন্টও মোটর সাইকেল নিয়ে ট্রাকটি ধাওয়া করেন। মিরপুর ব্রীজ পার হয়ে ট্রাকটির সমান্তরালে এসে সার্জেন্ট পুনরায় ড্রাইভারকে থামতে বলে। কিন্তু ড্রাইভার আরো জোরে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে।

অবশেষে সার্জেন্ট বাধ্য হয়ে ট্রাকের গতির চাইতে মোটর সাইকেলের গতি বাড়িয়ে ট্রাকের প্রায় ২০ গজ সামনে চলে যান এবং তার মোটর সাইকেল দিয়ে ট্রাকের পথ আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ড্রাইভার বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সার্জেন্টের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ওই স্পটেই সার্জেন্টকে হত্যা করে পালিয়ে যায়!

এই ‘হত্যাকারী’রা হল সেই রকম ‘মানুষ’!

ছবি: কাওসার চৌধুরী

সশস্ত্র পুলিশ সার্জেন্ট যেখানে এই ড্রাইভারদের হাত থেকে রক্ষা পায় না, সেখানে আমি আপনি কিংবা তারেক-মিশুক’তো অসহায় পতঙ্গ মাত্র।

‘আইনের শাসন’ দৃঢ করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের প্রতি আমার অগাধ আস্থা আছে। যে সরকার আন্তর্জাতিক ‘চাপ’ উপেক্ষা করে একাত্তরের ‘নরঘাতক’দের শাস্তি কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে একটি ‘সিন্ডিকেট’এর কাছে এই সরকার মাথা নোয়াবে তেমন কিন্তু আমার মনে হয় না!

আর, এ ক্ষেত্রে আমাদের, অর্থাৎ সাধারণ মানুষদের কি কিছুই করার নেই? নিজের হাতে আইন তুলে নেবার কথা আমি বলছিনা। কিন্তু ‘চরম’ কোনকিছু না করে এর কি কোন সমাধান নেই?

যে জাতি একাত্তরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, পরবর্তী বহু ক্রান্তিকাল অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে অতিক্রম করতে পেরেছে, তাদের প্রতি আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে আস্থাশীল। এই ‘সমস্যা’টিও আমাদের মানুষেরা ঐক্যবদ্ধভাবেই মোকাবেলা করবে বলেই আমি মনে করি।

পরিবহন-ওয়ালাদের অন্যায্য দাবী কিছুতেই মানা যাবে না! আসুন সবাই সোচ্চার হই যুক্তিসঙ্গতভাবে। বাঙালির জয় হোক।’