চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এ যেন ‘ভাই ভাইয়ের’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টি-টুয়েন্টি সিরিজ

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টি-টুয়েন্টি সিরিজ দিয়েই ক্রিকেট বিশ্বে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছে দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনও ছিল এই স্টেডিয়ামটির জন্য নতুন। তবে তৃতীয় দেশে অনুষ্ঠিত দুটি ভিন্ন দলের একটা জায়গায় খুব মিল। দুদলেরই ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণ করেন বিদেশি কোচ এবং মজার বিষয় দুজন কোচই আবার একই দেশের।

বাংলাদেশের কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। আর আফগানিস্তান ড্রেসিংরুমে আছেন ফিল সিমন্স। দুজন একই সময়ে খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে। একই ড্রেসিংরুমে ছিলেন ভাইয়ের মতো। তাই বাংলাদেশ-আফগানদের এ সিরিজটিকে তাই বলা হচ্ছে ‘ভাই ভাইয়ের’ প্রতিযোগিতাও।

বিজ্ঞাপন

হিমালয়ের পাহাড়ে ঘেরা দেরাদুন আফগানিস্তানের সঙ্গে অনেকটাই মিল। সংবাদ সম্মেলনে দেরাদুনকে নিজেদের দেশের মতোই বর্ণনা করেছেন আফগান অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাইও।

করবেনই না কেন। তিনি তো জানেন তার দেশের যে অবস্থা, তাতে এই নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কোনো দলকেই নিজেদের মাটিতে ক্রিকেট খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। কিন্তু ক্রিকেট যে তাদের খেলতেই হবে। একটা হতাশগ্রস্ত জাতির মধ্য এই ক্রিকেটই যে আশার আলো দেখাচ্ছে।

আফগানিস্তানে চলা-ফেরার স্বাধীনতাই নেই। ভরতকে হোম ভেন্যু বানানোর পর নিরাপদে দম নিয়ে আসগর তাই ঠাট্টা করে বলেছেন, দেরাদুনের পাহাড় তাদের আফগানিস্তানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এক ড্রেসিংরুমে থেকে ওয়ালশ-সিমন্সের যেমন তিক্ত-মধুর সস্পর্কের অভিজ্ঞতা আছে। তেমনি বাংলাদেশের সঙ্গেও আফগানিস্তানের তিক্ত-মধুর সম্পর্ক আছে। দুটি দলই একে-অপরের বিরুদ্ধে খেলেছে। উভয় দলই বিচক্ষণতার সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে চলে। তাদের আবেগের মূল জায়গা অবশ্যই সমর্থক।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচের আগে ক্রিকইনফো তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বাংলাদেশও একসময় আফগানিস্তানের মতো ছিল। অনেক দলই তাদের গুরুত্ব সহকারে নেয়নি এবং তাদের সঙ্গে খেলতে চায়নি। তখন বাংলাদেশও বলত, আমরা না খেললে কীভাবে উন্নতি করব? সেই বাংলাদেশ এখন শীর্ষ দলগুলোকে হারিয়ে দিলে কেউই বিস্মিত হয় না। সেটাকে অঘটন বলেও বিবেচনা করে না। আফগানিস্তান এখন এই বাংলাদেশকে অনুসরণ করেই সামনে ছুটছে।

ক্রিকইনফো আরও বলছে, দুদলই একে অপরকে বুঝতে পারে। কিন্তু এটাও জানে যে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একই রকম একটি জায়গার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বর্তমান অবস্থান বিচারে আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশ অনেকটা ক্রিকেটের ‘বড় ভাইয়ের’ মতো। কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়েকে টপকে আফগানরা যেভাবে তারা বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে সেটা কিন্তু উল্টো কথাই বলে।

শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেই নয়, বাংলাদেশ-আফগান ক্রিকেটারদের চেনা-জানা আছে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেও। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনেক আফগান ক্রিকেটারকে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।

বিপিএল, পিএসএল এবং আইপিএলে খেলে তাদের মধ্য বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। আবার কখনও কখনও ঝগড়াও হয়েছে। বিপিএলে বাংলাদেশের সাব্বির রহমান ও আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শাহজাদের মধ্য যেমনটা হয়েছিল। এমন ঘটনা অনেক সময় ভাই ভাই’র মধ্যও হয়ে থাকে।

তখন শাহজাদ যেমন বলেছিলেন, ‘মাঠে এমনটা ঘটতেই পারে, তবে আমরা ভালো বন্ধু। ভবিষ্যতে যে এমনটা আবার ঘটবে না, তা বলা যায় না। তবে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়া ঠিক হবে না।’

দুই দলই যে ক্রিকেটটা হৃদয় দিয়ে খেলে, তা খুব ভালোমতোই জানেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক স্টানিকজাই। বলেছেন, ‘এটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ একটা সিরিজ হতে যাচ্ছে। কারণ আমরা সবাই জানি যে, দুই দলই খেলে হৃদয় দিয়ে।’

টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করায় বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও আফগানিস্তানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মাঠে নামার আগে এমন শান্ত-সৌজন্যমূলক কথাবার্তাই শোনা যায় সবার মুখে। মাঠের লড়াই শুরু হলে কিন্তু তৈরি হয়ে যেতে পারে ভিন্ন রকম পরিস্থিতি।