চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এ দেশের মানুষ রিমেক নিয়ে বেশি মাথা ঘামায়: রোশান

‘রিমেক হলো একটা শুদ্ধ প্রক্রিয়া। একটা গল্প কিনে আমরা নিজের মতো করে করতে চাই। কারণ, আমাদের যথেষ্ট গল্পের ঘাটতি আছে’

ঢালিউডের এ প্রজন্মের নায়ক রোশান। জাজ মাল্টিমিডিয়ার হাত ধরে ২০১৬ সালে ‘রক্ত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিষেক হয়। পরে ‘ধ্যাততেরিকি’ ও ‘ককপিট’ (কলকাতা) এই তিনটি ছবিতে কাজ করে রোশান যেভাবে আলোচিত হয়েছেন বিষয়টি চোখে পড়ার মতো। নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান, কিংবদন্তী কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার মতো ব্যক্তিরাও রোশানের মধ্যে ‘অমিত সম্ভাবনা’ দেখেছেন। তারা মনে করেন, রোশানকে ঠিকমত তুলে ধরতে পারলে চলচ্চিত্রে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

এই নায়কের নতুন ছবি ‘বেপরোয়া’ মুক্তি পেতে যাচ্ছেন আসন্ন ঈদুল ফিতরে। ওই ছবি নিয়ে সোমবার বিকেলে রোশান কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে…

বিজ্ঞাপন

অবশেষে ‘বেপরোয়া’ ঈদে আসছে?
এবার আর মুক্তির তারিখ নড়চড় হচ্ছে না। জাজ থেকে ঈদে শুধু ‘বেপরোয়া’-ই মুক্তি পাবে। বিগ অ্যারেঞ্জমেন্টের ছবি, পুরোপুরি অ্যাকশন ঘরানার ছবি। এমন অ্যাকশনের ছবি আমাদের দেশে খুব কম নির্মিত হয়। ইমোশন আছে।

‘রক্ত’র পরে আবার ঈদে আপনার ছবি আসছে। কেমন লাগছে?
প্রত্যেকেই চায় ঈদের মতো বড় উৎসবে যেন ছবি থাকে। এই অনুভূতি কি আর বলে প্রকাশ করা যায়! বেশি ভালো লাগছে কারণ এবার ঈদে শুধু একটা ছবি না, একটা ‘ভালো ছবি’ নিয়েই আসবো। একেবারেই স্ট্যান্ডার্ড মেকিং থাকছে। কলকাতার অনেকগুলো সুপারহিট ছবির নির্মাতা রাজা চন্দ এই ছবিটি বানিয়েছেন। তার উপর পুরোপুরি ভরসা রেখেছি। ববির সঙ্গে এটাই প্রথম কাজ। গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, ঈদে সবচেয়ে ভালো মেকিংয়ের সিনেমা হলো ‘বেপরোয়া’।

একাধিকবার ‘বেপরোয়া’ মুক্তির দিন পেছানো হয়েছে। এতে দর্শকদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে!
নেতিবাচকের কোনো কারণ দেখছি না। কারণ, মানুষ এখনও ছবিটা দেখেনি। তাই ‘বেপরোয়া’ পুরোপুরি নতুন ছবি। মুক্তি পেছানো হলেও এতে কোনো ইমপ্যাক্ট পড়ার কোনো সম্ভাবনাই দেখি না। সেন্সর হতে দেরি হয়েছে, আর কিছু মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের কারণে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। ‘বেপরোয়া’র মতো বড় আয়োজনের ছবির জন্য একটা ভালো উৎসব দরকার। পাচ্ছিলাম না, তাই বারবার পিছিয়ে আসি। ঈদে ফাইট করার মতো যেমন ছবি লাগে ‘বেপরোয়া’ ঠিক তেমনই। এখানে ভাইবোনের বন্ধন আছে। পারিবারিক নাটকীয়তা আছে। ছবির ইমোশন মানুষকে কাঁদাবে, কমেডি দৃশ্য মানুষকে হাসাবে, অ্যাকশন দৃশ্য দেখে শিনা টান হবে। একেবারেই আধুনিক সিনেমা ‘বেপরোয়া’। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ হয়েছে হায়দরাবাদ থেকে।

‘বেপরোয়া’ তো দক্ষিণ ভারতীয় একটি ছবির রিমেক?
ছবির গল্প রিমেক এটা আগেই জানানো হয়েছে। কিন্তু গল্পের উপস্থাপনাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেভাবে গল্পটাকে উপস্থাপন করেছি, দর্শক উপস্থাপনায় পুরোপুরি নতুনত্ব পাবে। আর রিমেক নাকি রিমেক না এটা নিয়ে মাথা ঘামানো কিংবা কোনো ইস্যু বানানোর কিছু দেখিনা। একটা ছবি দর্শকদের কতোটা আনন্দ দিতে পারলো সেটাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। যারা এই গল্পের সঙ্গে পরিচিত তারা ‘বেপরোয়া’ দেখলে নতুন স্বাদ পাবে। যেমন- গল্পের উপস্থপনা, অ্যাকশন, মেকিং সবকিছুতেই।

এদেশের দর্শক রিমেক ছবি দেখবে বলে মনে করেন?
রিমেক হলো একটা শুদ্ধ প্রক্রিয়া। একটা গল্প কিনে আমরা নিজের মতো করে করতে চাই। কারণ, আমাদের যথেষ্ট গল্পের ঘাটতি আছে। একটা ভালো গল্প যদি বিদেশ থেকে কিনে আনি, এটা তো অপরাধের কিছু না। এটা নিয়ে অভিযোগটা শুধুমাত্র বাংলাদেশেই করে থাকে। বাংলাদেশের মানুষ রিমেক নিয়ে মাথা ঘামায় বেশি। এগুলো অতিরঞ্জিত হয়ে যায়। তামিল-তেলেগু থেকে অহরহ ছবির রিমেক হচ্ছে বলিউডে। এটা নিয়ে বলিউডের ছবির দর্শক তো এতোবেশি মাঘা ঘামায় না। মানুষ নতুনত্ব দেখতে চায়। এক গল্পে অনেক ছবি হয়। সেটা বিষয় নয়। আমরা সেখান থেকে গল্প কিনেছি, ছবি তো কিনি নাই। গল্পটা কিনে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছি। তামিল যে ছবির গল্প কিনেছি সেটার মতো হবে না। দর্শকদের বলবো, আগে ‘বেপরোয়া’ দেখেন। তারপর বিচার করেন। রিমেক নিয়ে প্লিজ মাথা ঘামাবেন না।

অনেক আগে ট্রেলার-টিজার প্রকাশ হয়েছে। দর্শকদের ফিডব্যাক কেমন মনে হয়েছে?
ট্রেলার-টিজার দেখে দর্শক কতোটা কি আঁচ করেছেন আমি জানি না। তবে, আমার নিজের মতামত হলো ট্রেলার-টিজারে ছবির পুরোপুরি সৌন্দর্য্য খুব বেশি উপস্থপান করতে পারেনি। যেটা হলে গিয়ে বড়স্ক্রিনে দেখলে আসল মজাটা পাওয়া যাবে।