চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এবার টার্গেট এটর্নি জেনারেল, কোন পথে বাংলাদেশ?

বিগত ৩১ মে সকল টিভি চ্যানেলগুলি মারফত এবং অত:পর ঢাকার সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে গভীরভাবে উদ্বিগ্নবোধ করছি। আমার সুপরিচিত, বাংলাদেশের সর্বত্র অত্যন্ত প্রশংসিত বাংলাদেশ সরকারের অত্যন্ত অভিজ্ঞ এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে কোনো একটি জঙ্গী সংগঠন ডাকযোগে এক চিঠি পাঠিয়েছে তার মৃত্যু পরোয়ানা হিসাবে। সেই খবর জানা থেকেই মনে এক অস্থিরতা বোধ করছি সুদূর অষ্ট্রেলিয়ার সিডনী নগরীতে থেকেও।

বিজ্ঞাপন

কারা পাঠাতে পারেন এমন একটা চিঠি অত বড় সম্মানিত একটি ব্যক্তিকে? সে আলোচনায় যাবার আগে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত ছোট্ট খবরটি উদ্ধৃত করছি, আমার প্রিয় পাঠক-পাঠিকাদেরকে তা অবহিত করার জন্য। ঐ খবরটিতে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিগত সোমবার অর্থাৎ ৩০ মে এই চিঠি পেয়েছেন তিনি। এটর্নি জেনারেল জানান, ডাকাযোগে পাওয়া ঐ চিঠির প্রেক্ষিতে ঢাকার শাহবাগ থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি(জিডি) করেছেন তিনি।

এটর্নি জেনারেল জানান, চিঠিতে একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও মতিউর রহমান নিজামীকে তারা তাদের ‘প্রিয় নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি বলেন, চিঠিটা বাজিতপুর থেকে লিখেছে। তবে এটা ঠিক মনে হয় না। চিঠিতে লিখেছে, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর নেতা।’

ওই চিঠি উদ্ধৃত করে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তাতে বলা আছে, ‘মাহবুবে আলম সার, আপনার তথা তোমার জন্য অনেক লোকের প্রাণ চলে গেছে। তোমাকে আমি মজনু ও আমার প্রিয় বন্ধু নূরুল ইসলাম-এই দুজনে মিলে যে কোনো সময় প্রাণে মেরে ফেলবো, একেবারে শেষ করে ফেলবো। তোমার জন্য আমাদের প্রিয় নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মতিউর রহমান নিজামীসহ আরও অনেক নেতার মৃত্যু ঘটেছে। তোমাকে আমরা কিছুতেই ছাড়বো না। ইদানীং লক্ষ্য করছি মীর কাশেম আলীর মামলা নিয়ে তুমি বাড়াবাড়ি করছো এবং আমাদের কিশোর জেলার নিবাসী হাসান আলীর মামলা নিয়েও যথেষ্ট বাড়াবাড়ি করছো। এসব সহ্য হচ্ছে না। তোমাকে খুন করে ফেলবো। আর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে যদি ফাঁসি দেওয়া হয়, তাহলে তোমার বংশের সবাইকে খুন করে ফেলব। এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা।

এ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মোঃ জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বাদী হয়ে একটি জিডি করেন। জিডিতে বলা হয়েছে, এটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। জামায়াত নেতাদের বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করায় তারা ক্ষুব্ধ। তাই তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঐ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ কোথায় চলেছে কেউ কি তা বলতে পারেন? পারেন কি মুক্তিযুদ্ধের এই বাংলাদেশ, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের বাংলাদেশ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের বাংলাদেশ, ১৯৭২ এর সংবিধানের বাংলাদেশ, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের বাংলাদেশ, আইনের শাসনের বাংলাদেশ, সকল নাগরিকের সমান আধিকারের বাংলাদেশ, সবার নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী জীবন-যাপনের সম-অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতির এই স্বপ্নসম সুখী সুন্দর অতি প্রত্যাশিত এই বাংলাদেশের গতিপথ আজ কোথায়? কোথায় চলেছে বাংলাদেশ আজ? বাংলাদেশের গতিমুখ আজ কোনদিকে প্রসারিত? প্রশ্নগুলি মনে এলো। মনে এলো শুধু এই নিবন্ধটি লিখতে বসেই নয় বরং ইদানীং তা সদা-সর্বদাই তা যেন সকল দেশপ্রেমিক নাগরিককে ভাবিয়ে তুলছে। এ দেশ কি বর্বর, অসভ্য, মূর্খ ঐ কতিপয় জঙ্গীদের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণতও হবে।

একই দিনে একটি একটি অনলাইন পত্রিকায় আরও একটি ভয়াবহ খবর পড়ি। তাতে বলা হয়েছে, ‘আবারও ফেসবুক পেজে চার ব্লগারের ছবি প্রকাশ করে হত্যার হুমকি দিয়েছে জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম। ঐ ব্লগাররা হচ্ছেন আসিফ মহীউদ্দিন, সানিউর রহমান, শাম্মী হক ও অনন্য আজাদ। তারা সবাই এখন প্রবাসী। জঙ্গি হামলার ভয়ে এই সব ব্লগার ও অনলাইনে লেখালেখির একটি মাধ্যম অনেক আগেই আরও অনেক ব্লগারের মতো দেশ ছেড়েছেন।

আনসার আল ইসলামের ফেসবুক পেজ সালাউদ্দিনের ঘোড়াতে বলা হয়, ‘এবারের টার্গেট এই কাফেররা। প্রবাসের মাটিতেই তোদের জবাই করা হবে।’ ঐ ফেসবুক পেজে আরও বলা হয়েছে ‘শেকড় খুঁজে লাভ হবে না। পরবর্তী টার্গেটও দ্ব্যর্থহীনভাবে হিট করা হবে ইনশাল্লাহ। কোনো প্রাইভেট সানম্যান, ২০/২৫ স্তরের পুলিশী নিরাপত্তা, সিসি টিভি ক্যামেরা প্রভৃতি যতই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন, তার কোনোটাই কোনো কাজে আসবে না। কোনো কিছুই আল্লাহর রাস্তায় মুজাহেদীদের রুখতে পারবে না ইনশাল্লাহ। ইসলামবিরোধী কাজ থেকে ইস্তফা দেওয়াই হবে নাস্তিক-মুরতাদদের একমাত্র রক্ষাকবচ। এতে আরও বলা হয়, ‘সমস্ত ইসলামবিরোধী নাস্তিক মুরতাদ-যারা আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ এবং আমাদের ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ করবে, গালিগালাজ করবে, কটুক্তি করবে-তাদের সবাই আমাদের টার্গেট। ইনশাল্লাহ আমরা তাদের হত্যা করবো।’

এ বিষয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা পুরোপুরি অবহিত নন। জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

এখান এই দুটি বিষয় লক্ষনীয়, প্রথমত রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে হত্যার চিঠি এবং চারজন ব্লগারের ছবিসহ যে পোষ্ট জঙ্গিদের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে। সেই দুটি ঘটনায় পুলিশের মনোভাব যা প্রকাশ পেয়েছে তা একত্রে বিবেচনায় নিলে নিশ্চয়ই উপলদ্ধি করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে পুলিশ কোনো ঘটনাকেই এখন গুরুত্ব সহকারে দেখছেন না। তাদের তদন্ত কাজ আদৌ শুরু হয়েছে এমন কোনো খবর আজ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যম গুলিতে কোথাও কিছু প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

শংকাটা মানুষের সেখানেই। জঙ্গিরা, স্বাধীনতা-বিরোধী, বাংলাদেশের চরমতম শত্রুরা যতই তৎপর এবং বেপরোয়া ততই যেন আমাদের পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ নিস্ক্রিয় নিস্পৃহ। অতীতের সবগুলি ব্লগার, শিক্ষক প্রভৃতি গণ্যমান্যদের নির্বিঘ্ন হত্যালীলার অভিজ্ঞতা এই নির্মম সত্যকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই পুরাতন প্রবাদ বাক্য দুটিই এখন হঠাৎ মনে পড়ে গেল। ‘কাঁহা রবি জ্বলে রে, কে বা আঁখি মেলে রে।’ অথবা ‘দেখাই যাক না চোরই কী করে।’ আইন শৃংখলা দেশে বজায় রাখা এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান আমাদের পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগসমূহের সাংবিধানিক কর্তব্য ও দায়িত্বও বটে।

এদের নেটওয়ার্ক কতই যে শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কতটাই যে বিস্তৃতি অর্জন করে ফেলেছেন তা ভাবলেও অবাক হতে হয়। যখন দেখা যায় গোটা ইউরোপ জুড়ে জঙ্গি আক্রমণের আশংকায় এক ধরনের জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে, যখন আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে দফায় দফায় বাংলাদেশী জঙ্গি গ্রেফতার হচ্ছে অথবা সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশ থেকে বাংলাদেশী ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এই তো সেদিন দেখা গেল, সন্দেহমূলকভাবে ছয় জন বাংলাদেশীকে জঙ্গি সন্দেহে সে দেশে আটক করা হলে তার মধ্যে চারজনই দোষ স্বীকার করে, এখনও কি আমরা নাকে তেল দিয়ে ঘুমাব? তবে কি ধরে নেবো পুলিশ গোয়েন্দা নামক ঐ সর্ষেতেই ভূত? না কি আরও উপরে? যারা পুলিশ গোয়েন্দাদের পরিচালনা করেন আসল ভূত কি তবে সেখানেই? সে রকমটাই কিন্তু মনে হচ্ছে। তাবৎ হত্যালীলার কারণ অনুসন্ধান বা তদন্ত না করতেই আশা বাড়িয়ে মন্ত্রী মহোদয়েরা দিব্যি বলে দেন, বিএনপিতো মানুষ খুন করার দল তারা ছাড়া এসব ঘৃণ্য কাজ কে আর করবে?

বস্তুত কয়েকটি বছরের যে করুণ অভিজ্ঞতা, তাতে তা দেখাই যায় ঘটনা ঘটতে না ঘটতেই বলা হয় ‘এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনামাত্র’ অথবা অন্য একটা কিছু দিব্যি বলে দেওয়া হয়। আর তার ফলে পুলিশ মুখে কুলুপ আঁটে, তদন্ত কাজও কোনো গতি পায় না। কিন্তু সিঙ্গাপুরে কি দেখলাম? সন্দেহ করার মাত্রই বাংলাদেশী জঙ্গিদের পাকড়াও করা হলো এবং অতিশয় দ্রুততার সাথে সাথে বিচার কাজও সমাপ্ত হলো। রায় দেবেন বিচারকেরা ৯ জুন তারিখ। আদালত যেন সত্যিই ধরে নিয়েছেন, justice delayed, justice denide। ঐ ইংরেজী প্রবচনটা আমাদের দেশেও দিব্যি চালু আছে কিন্তু মুখে। কাজে কি দেখছি? একটি মামলা বিচারের জন্য পুলিশে এফআইআর থেকে শুরু করে তার তদন্তে কম পক্ষে দু বছর, অত:পর চার্জশীট অথবা ফাইনাল রিপোর্ট।

এ ধরণের মৃত্যু পরোয়ানায় বা খুনের হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠিপত্র যেহেতু প্রেরকের প্রকৃত নাম উল্লেখ করে পাঠানো হয় না সেহেতু দু’বছরে তো ঘটনার ক্লু-ই বের করতে পারেন না-বিশেষ করে যদি কাউকে ঐ বেপরোয়া কাপুরুষ জঙ্গিরা যদি ‘নাস্তিক’ বলে অভিযোগ আনে- আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র সেই মুহূর্তেই বিকল হয়ে পড়ে যেন। ঐ জঙ্গিরাই যে পবিত্র ধর্ম ইসলামের ধারক ও রক্ষক বটে। অপরাধী তো ঐ নাস্তিকরাই।

এমন যদি প্রশ্ন করি সংবিধানের কোন ধারায় ‘নাস্তিক’ কেউ হতে পারবেন না? আর তা থাকতেও পারে না কারণ যে কোনো ধর্মে বিশ্বাসী হওয়া না হওয়া একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। কেউ কোনো ধর্মে বিশ্বাস করতেও পারেন, আবার কেউ নাও করতে পারেন। কারণ সংবিধানই এটা স্পষ্টভাষায় বলে দিয়েছে। কিন্তু সংবিধানটা মানছে কে? রাষ্ট্র সংবিধান রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং সেই অর্থে অভিভাবক। তবুও রাষ্ট্র এ ব্যাপারে নিষ্ক্রিয় কারণ অজানা। জঙ্গিদের সাহসের উৎসটাই তো সেখানে।

দিব্যি প্রতিদিন সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর বর্বর অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাদের মন্দিরে অগ্নি সংযোগ, প্রতিমা ভাংচুর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, ফসল কেটে নেওয়া, জমি-জমা দখল করে ভারতে তাড়িয়ে দেওয়ার খবর নিত্যদিনের ঘটনা। দৈনন্দিন সংবাদ মাধ্যমে খবরগুলি দিব্যি প্রকাশিত হচ্ছে। মসজিদে বোমা, প্রার্থনারত মুসলিম বা মসজিদের আমাম-মুয়াজ্জিনদের কেও ঐ তথাকথিত ইসলাম পন্থীরাই অহরহ ঘটাচ্ছে। বৌদ্ধ মন্দির ও খৃষ্টানদের প্রার্থনা স্থলও নিরাপদ থাকছে না- গীর্জার অভিভাবকরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। কোনো ব্যবস্থা নেই সরকারের তরফ থেকে-নেই কোনো গ্রেফতার বা সাজা।

কর্তাব্যক্তিরা অহরহই ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনেন যার খুশী তারই বিরুদ্ধে। মসজিদের মাইকে মিথ্যা রটনাকেও সত্য বিবেচনায় আক্রমণ করা হয় নিরীহ ব্যক্তিকে। কিন্তু মন্দির-গীর্জা-প্রতিমা-মূর্তি ভাংলে কি ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কারও বিরুদ্ধে কদাপি আসে? আজ প্রায় ৮৪ বছর বয়স হতে চললো কিন্তু কি পাকিস্তান আমলে, কি বাংলাদেশ আমলে- কখনো একথা শুনিনি যে কেউ যদি কোনো মন্দির, গীর্জা পুড়িয়ে দেয় বা কোনো মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে (যা অধুনা বাংলাদেশে নৈমিত্তিক ঘটনা)তাকে সরকার, সরকারের কোনো মন্ত্রী (ধর্ম বিরুদ্ধ মন্ত্রীসহ) বা পুলিশ কর্তৃপক্ষ তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করে অন্তত: একদিনের জন্য আদালতের কাঠগড়ায় তুলেছে। আছে কি বাংলাদেশে পাকিস্তানের মতো ধর্ম অবমাননার কোনো আইন? ক্ষৃদ্র একজন আইনজীবী হিসেবে আইনের মৌলিক বেশ কিছু বই পড়ার আমার সুযোগ হয়েছে-রেফারেন্স বইও ঘেঁটেছি, কোথাও এমন কোনো আইনের অস্তিত্ব দেখিনি-যে মসজিদের মাইকে কাউকে ধর্ম অবমাননার কথা বলা মাত্র- ব্যক্তিটি আদৌ তা করেছে কি না তার খোঁজ না নিয়েই তাকে দোষী সাব্যস্ত করে গ্রেফতার করা? এ রকম হাজারো প্রমাণ দেওয়া যাবে-হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও তাদের উপর অকথ্য অত্যাচার নির্যাতনের। 

টাঙ্গাইলের একজন গর্ভবতী হিন্দু গৃহবধূ তন্দ্রা দেবনাথকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ধর্মান্তরিত অর্থাৎ মুসলমান বানানো হয়েছে। ঘটনাটা টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইলে ঘটেছে। তন্দ্রাকে অপহরণ করা হয় ১১ মার্চ-আজ কয়েক মাস অতিক্রান্ত হলেও আসামী হাবিবকে বা তার দলবলের কাউকেই গ্রেফতারের কোনো খবর পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। এমন লাখো ঘটনা আছে।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কেন ‘অপরাধী’ তা তারা স্পষ্ট করে লিখেছে। তেমনি চারজন ব্লগারের কি অপরাধ তাও স্পষ্ট করেই লিখেছে। তারা সবাই ইসলামের দুশমন। তাহলে ইসলামের দুশমনের সংজ্ঞাটা কি? যে মুসলিম দারোগা বা এমপি বা অন্য কোনো অফিসার ঘুষ খায় তিনি তাদের কাছে ইসলাম বিরোধী নন, যারা সুদ খায়-তারাও নন। তাহলে অবস্থাটা কি দাঁড়ায়? সকল সৎ লোক, কি মুলমান কি হিন্দু তারাই ইসলামের দুশমন। তারাই নাস্তিক। হত্যা তালিকায় তাদেরই নাম। রুখে দাঁড়াবেন কি এর বিরুদ্ধে? অসাম্প্রদায়িক-ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় বিশ্বাসী কোটি কোটি মুসলিমের অবস্থান এই শয়তানদের বিরুদ্ধে?

তা হচ্ছে না দেখেই বলছি, বাংলাদেশ কোন পথে?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)