চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এটিএম শামসুজ্জামানকে দেশের বাইরে নিতে প্রস্তুত সরকার

তবে এই মুহূর্তে এটিএম শামসুজ্জামানকে দেশের বাইরে নেয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলে জানালেন তার ছোট ভাই সালেহ জামান সেলিম…

চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি এই মুহূর্তে দেশের বাইরে নেয়ার প্রয়োজন হয়, তবে সরকার প্রস্তুত।

বুধবার আজগর আলী হাসপাতালে এটিএমকে দেখার পর এমন আশ্বাস দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও সংস্কৃতি মন্ত্রী দুজনেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে এটিএম শামসুজ্জামানের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে এমন তথ্য জানালেন তার ভাই সালেহ জামান সেলিম।

বিজ্ঞাপন

তবে এই মুহূর্তে এটিএম শামসুজ্জামানকে দেশের বাইরে নেয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেও জানান সেলিম। বর্তমানে এটিএমের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে ঔষুধগুলো কাজ করছে, তাই একটু সময় লাগবে। এই মুহূর্তে তাকে অন্যকোথাও শিফট করলে হিতের বিপরিত কিছু ঘটে যেতে পারে।

সেলিম আরো বলেন, এটিএম ভাই বর্তমানে যাদের অধীনে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি আছেন, তারা আজকে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, এটিএম ভাইয়ের নিউমোনিয়া। তারা সাধ্যমত নিউমোনিয়া সারাতে ঔষুধ দিচ্ছেন। যেগুলো খুব ধীরে ধীরে কাজ করছে। একটু ভালো না হলে তাকে এখান থেকে অন্যকোথাও শিফট করানো যাবে না।

এটিএমের ছোট ভাই জানান, বুধবার আজগর আলী হাসপাতালে দুই মন্ত্রী আসার পর বৃহস্পতিবার সকালে সাড়ে এগারোটার দিকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চিকিৎসকরাও এটিএম শামসুজ্জামানের অবস্থা জানতে এসে ছিলেন। তারা তাদের মতো করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিভাগের চিকিৎসকে আজকে সকালে এটিএম ভাইকে দেখতে এসেছিলেন। ভাইয়ের লাঞ্চ, ফুসফুসে কোনো সমস্যা আছে কিনা পরীক্ষার জন্য তারা ব্লাড নিয়ে গেছেন। শুক্রবার তারা রিপোর্ট দেবেন।

তাৎক্ষণিকভাবে আজগর আলী হাসপাতাল থেকে এটিএম শামসুজ্জামানকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এই মুহূর্তে এটিএম শামসুজ্জামানের শারীরিক দিক বিবেচনা করে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই।

গত ২৬ এপ্রিল রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এটিএম শামসুজ্জামান। মল-মূত্র বন্ধ হয়ে যায়। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ওইদিন রাত এগারোটার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে। শনিবার দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টার অপারেশন শেষে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এটিএম শামসুজ্জামানকে। এরপর অবস্থার আরো অবনতি হবে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় কিংবদন্তি এই অভিনেতাকে।

ষাটের দশকের শুরুতে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন ‘জলছবি’ ছবিতে। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করলেও খল অভিনেতা হিসেবেই জনপ্রিয়তা পান এটিএম।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও মাঝেমধ্যেই শখের বশে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘আলফা’। ২৬ এপ্রিল ছবিটি দেশের চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।