চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এখনও মিয়ানমারে ফিরতে চায় রোহিঙ্গারা

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে ২৫ আগস্ট। গত এক বছরে মিয়ানমারকে নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করার পরও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হয়নি। একজন রোহিঙ্গাও ফিরে যায়নি, বরং এখনও রোহিঙ্গাদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। তবে কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গারা বলছেন, এখনও তারা নিজের ভূমি মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরতে চান।

কুতুপালং-২ এ বসবাসকারী রোহিঙ্গা নারী মর্জিনা, হাসিনা, আয়েশা বলেন, আমরা এখানে ভালো আছি। বাংলাদেশ সরকার সবকিছু দিচ্ছে, তারপরও নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই।

টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে অবস্থানরত মিয়ানমারে মংড়ুর বলি বাজারের বাসিন্দা মৌলনা, সলিম, মাহবুব বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। মিয়ানমার আমাদের ফেরত নেয়ার কথা বলেও নিচ্ছে না। এ কারণে মিয়ামারকে আরো চাপ দিতে হবে।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, আমরা চাই যেকোনভাবে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক। আমাদের ছোট দেশে রোহিঙ্গারা আমাদের জন্য বোঝা। বহির্বিশ্বের চাপে পড়ে মিয়ানমারের সরকার ও সামরিক জান্তা ইতোমধ্যে কিছুটা নমনীয় হলেও তারা তাদের কৌশলগত অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি। যে কারণে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়।

ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, রাণী থেকে শুরু করে আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনায় সে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী নিরীহ রোহিঙ্গাদের উপর দমন পিড়ন শুরু করে। হত্যা, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগের কারণে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এ এদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গারা। প্রথমে তারা সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিলেও বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় উখিয়া টেকনাফের ৩০টি ক্যাম্পে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখের বেশি সদস্য গত এক বছরে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। তারা ক্যাম্পে অবস্থান করলেও ফিরতে চায় নিজ দেশে।

বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ছাড়াও জাতিসংঘ মহাসচিব, পোপ ফান্সিসসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের কর্মকর্তারা কক্সবাজারে উখিয়া টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করে বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, মিয়ানমার প্রতিশ্রুত আরো পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাথমিকভাবে সরকার ৩ বছরের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে।২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সন্ত্রাসবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের নামে শুরু হয় নিধনযজ্ঞ। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতে থাকে ধারাবাহিকভাবে।

এমন বাস্তবতায় নিধনযজ্ঞের বলি হয়ে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। আগে থেকে উপস্থিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় দশ লাখে।