চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক হারেই ব্রিটিশ মিডিয়ায় আহাজারি!

শুরুটা হার দিয়েই হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে পাকিস্তান। বড় রান সংগ্রহ করে ইংলিশদের ১৪ রানে পর্যুদস্ত করে সরফরাজের দল।

বিজ্ঞাপন

প্রথমে ব্যাট করে ৩৪৮ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে রুট-বাটলারের জোড়া সেঞ্চুরির পর ৯ উইকেটে ৩৩৪ রান পর্যন্ত পৌঁছায় রানির দেশের ছেলেরা।

৩৪৯ রানের জবাবে ৩৩৪ রান করার পরও রুট-বাটলারদের পারফরম্যান্সকে মূল্যায়ন করে দলের পাশে দাঁড়ায়নি ব্রিটেনের ‘কুখ্যাত’ মিডিয়া। বিশেষ করে বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে পুরো দলকে আসামী করা হয়েছে। ব্রিটিশ মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া আসলে কেমন ছিল?

ইংল্যান্ডের ফিল্ডারদের ধুয়েছেন দ্য সানের ক্রীড়া প্রতিবেদক জন ইথারিজ। লিখেছেন, ‘সমস্যা ছিল খুবই করুণ, ফিল্ডিংয়ে ত্রুটিপূর্ণ ও ভারসাম্যহীন পারফরম্যান্স পাকিস্তানকে এতটাই উপহার দিয়েছে যে, ইংল্যান্ডের বোলিং ও ব্যাটসম্যানরা সেই ঘাটতি আর পূরণ করতে পারেনি।’

সানের প্রতিবেদনে তিনি আরও লিখেছেন, ‘হঠাৎ, বেন স্টোকসের ক্যাচ এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়লাভের পর ইয়ন মরগানের দল সংকটের মুখোমুখি। তারা নিশ্চিত ছিল যে, পরের দলগুলোও তাদের অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারবে না। অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। স্লো ওভার রেটের কারণে পরের দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন মরগান।’

বিজ্ঞাপন

দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে জোনাথন লিউ লিখেছেন, ‘পেটে আগুন এবং মাথায় বরফ নিয়ে পাকিস্তান দল দর্শনীয়ভাবে ইংল্যান্ডের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, সম্ভবত এই ম্যাচের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল, পাকিস্তান খেলেছে ইংল্যান্ডের মতো এবং ইংল্যান্ড খেলেছে পাকিস্তানের মতো।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘টপঅর্ডারে ইমাম-উল হক ও ফখর জামানের নির্মম বিনোদনের পর মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ হাফিজ এবং সরফরাজের অনন্য ইনিংস। পরে নিখুঁত বোলিং এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিং, সব মিলিয়ে পাকিস্তানের ছিল সম্পূর্ণ পারফরম্যান্স। অথচ একই ভেন্যুতে মাত্র তিনদিন আগে এই দলটাই ১০৫ রানে প্যাকেট হয়েছিল। তারা ইংল্যান্ডকে তাদের প্রিয় স্থানে দুরমুশ করেছে। ইংল্যান্ড কীভাবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই পাকিস্তানকে ৪-০তে হারিয়েছে?

পাকিস্তানি সমর্থকদের নিয়ে লিউ লিখেছেন, ‘এটা পাকিস্তানিদের জন্যই হওয়া উচিত- সাহসী, খ্যাপাটে পাকিস্তান, যারা দ্রুত আউটফিল্ডের সুবিধা নিয়ে বড় স্কোর গড়ার উদ্যোগ নেয় এবং তারপর ভালো বোলিং করে, তাদের সমর্থকরা মজবুত সমর্থন দিয়ে গর্জন করে এবং কখনোই তা থেকে সরে আসেনি।’

ইংল্যান্ডের ফেভারিট তত্ত্ব নিয়ে লিউ’র মন্তব্য, ‘টুর্নামেন্ট ফেভারিটরা আর ফেভারিট নেই। বাকী সাতটি ম্যাচে পাঁচটি জয়ই সম্ভবত ইয়ন মরগানের দলের জন্য সমীকরণ, এটা এখন কে না জানে, যদি তারা ইতিমধ্যেই না জেনে থাকে, তবে সেই টুর্নামেন্ট ক্রিকেটের ওয়েল্ড অ্যানিম্যাল হয়ে থাকবে।’

‘বিশৃঙ্খল ও উড়নচণ্ডী’ এই মন্তব্য ব্রিটেনের সবেচেয় প্রগতিশীল পত্রিকা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদক আলি মার্টিনের। লিখেছেন, ‘সাধারণত অপ্রচলিত ক্রিস ওকসের মতো ক্রিকেটার ঠোঁটে আঙুল দিয়ে সমর্থকদের উদযাপন বাধা দিতে চায়, তখন বুঝতে হবে সেখানে সামান্য হলেও অশালীনতা আছে। ইমাম-উল হকের ক্যাচ ধরার পর দর্শকদের দিকে মুখ করে ঠোঁটে আঙুল দেন ওকস। এই ফলাফল একটি ছোটখাট ঘটনা হলেও এটি মাঠের পারফরম্যান্সে লক্ষণীয় ছিল, যা ছিল দুর্বল, বিশৃঙ্খল ও উড়নচণ্ডী ধরনের।’

‘ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং ছিল লজ্জাজনক’ কঠিন এই বাক্য দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদক স্কায়েল্ড বেরির। তিনি লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ড হেরেছে তাদের লজ্জাজনক ফিল্ডিংয়ের কারণে। যদিও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে তা প্রশংসনীয় ছিল। ক্রিকেটে, ‘হট এবং কোল্ড’র বর্ণনা সাধারণত পাকিস্তানের জন্য সংরক্ষিত। তবে এটা এখন ইংল্যান্ডেও সমানভাবে প্রয়োগ করে। অধিনায়ক প্রথম ওভারে মিস ফিল্ডিং দিয়ে শুরু করেন। পরে তাকে অনুসরণ করে অন্যরা।’

লেখার শেষে বেরি বলেছেন, ‘এই জঘন্যতা ছিল ভয়ঙ্কর। কারণ প্রাথমিক পর্যায়েই যদি স্বাগতিক ও টুর্নামেন্টের ফেভারিট দল এমন স্নায়ুচাপে ভোগে, তাহলে নকআউটের মতো বিগ ম্যাচে কী করবে, যেখানে স্নায়ুচাপ ধরে রাখা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে?’