চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক মঞ্চে আ. লীগ-বিএনপি-জাপা, ছিলেন অন্যরাও

তখন সন্ধ্যা সাতটা। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন রাজনীতির মাঠ কাঁপানো অসংখ্য নেতা। যাদের কেউ আওয়ামী লীগের, কেউ বিএনপির, কেউ আবার জাতীয় পার্টি কিংবা অন্য দলের। ময়দানে একে অন্যের তুমুল বিরোধী হলেও চ্যানেল আইয়ের ২০তম জন্মদিনে আজ তারা দাঁড়িয়ে ছিলেন এক কাতারে।

বিজ্ঞাপন

এই কাতারের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়েছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ। তার ডান পাশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বামে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আর নজরুল ইসলাম খানের পাশে ভূমিমন্ত্রী শামছুর রহমান শরীফ ডিলু।

আরো ছিলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, জাতীয় পার্টি (জেপি) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা, জাতীয় পার্টির নেতা নুরুল ইসলাম, বিজিএমইর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু।

ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দিন খোকন, আওয়ামী আইন বিষয়ক সম্পাদক স ম রেজাউল করিম, বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুর রহমান হাবীব, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন প্রমুখ।

তারা সবাই দাঁড়িয়েছিলেন ১০০ ফুট একটি কেকের সামনে। কণ্ঠে ছিল একই সুর, কোটি প্রাণে মিশে চ্যানেল আই এখন ২০-এ।

সোমবার সন্ধ্যায় চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন উপলক্ষে  চ্যানেল আই প্রাঙ্গণের চেতনা চত্বরে কেকটি কেটে দিনব্যাপী জন্মদিনের আয়োজন সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সর্বস্তরের মানুষের প্রিয় চ্যানেল আইয়ের জন্মদিন উদযাপন করতে এসে জাতীয় নেতারা ভুলে যান ভেদাভেদ। দাঁড়িয়ে যান এক কাটারে। সুর মেলান এক গানে। কেক কাটেন এক সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

কেক কাটার আগে নেতারা সংক্ষেপে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়েছিল সেই বাংলাদেশে ১৯৯৯ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দেন। জন্মক্ষণে চ্যানেল আই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার যে প্রতিজ্ঞা করেছিল সে প্রতিজ্ঞায় অটল আছে। এজন্য চ্যানেল আই স্বাধীনতা পুরস্কারের মতো মহান পুরস্কার অর্জন করেছে। মাটি ও মানুষের এই চ্যানেলের জন্য শুভ কামনা।

ঢাকার সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস বলেন, সিদ্ধেশ্বরী থেকে শুরু করে আজকের চ্যানেল  আইয়ের সঙ্গে আমার ২০ বছরের সম্পর্ক। চ্যানেল এমন এক চ্যানেল, মানুষ পছন্দ না করলেও দেখতে বাধ্য হয়।

ভূমিমন্ত্রী শামছুর রহমান শরীফ ডিলু বলেন, শেখ হাসিনার যে স্বপ্ন দেশের মানুষের অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা। চ্যানেল আই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে। উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চ্যানেল আই নিরলসভাবে কাজ করছে।

শ্রমিক দলের সভাপতি ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, কৈশোর, তারুণ্য পেড়িয়ে চ্যানেল এখন বিশ বছরের যুবক। সামনে জাতীয় নির্বাচন। আমরা আশা করি এই নির্বাচনে চ্যানেল আই নির্ভীক ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। বরাবরের মতোই প্রবাসী ও শ্রমিকদের কথা বলবে।

মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, চ্যানেল আইয়ের হৃদয়ে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চ্যানেল আই।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, চ্যানেল আইয়ের মিনি পার্লামেন্টের অনুপ্রেরণায় দেশে গণতান্ত্রিক পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠিত হোক। চ্যানেল আইয়ের বস্তুনিষ্ঠ খবর দেখলে আমাদের হৃদয় জুড়িয়ে যায়।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক স ম রেজাউল করিম বলেন, চ্যানেল আইয়ের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে দেশে কেউ সহিংসতা সৃষ্টির চিন্তাও করতে পারবে না।

বিজিএমইর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চ্যানেল আই এখন ২০-এ। চ্যানেল আইয়ের ভরা যৌবন। যদিও জন্মলগ্ন থেকেই চ্যানেল আই ভালো ভালো কাজ করছে। তাদের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।

এছাড়াও একে একে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ব্যবসায়িক নেতারা তাদের অনুভূতির কথা বলেন। চ্যানেল আইয়ের জন্য শুভকামনা জানান।

এরপর সবাই একসঙ্গে একশ ফুট কেক কাটেন। এসময় আতশ বাজির ঝলকানিতে আকাশ ছেয়ে যায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক জিল্লুর রহমান।