চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

অস্ট্রেলিয়া নেয়ার কথা বলে আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি সিরাজুল হক প্রতারণা করেছেন বলে আফিফা খাতুন নামে এক নারী অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ: অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসী করার আশ্বাস দিয়ে সিরাজুল হক প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সিরাজুল হক জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার এক আওয়ামী লীগ নেতা স্পন্সর মানি হিসেবে টাকাটা নিয়েছেন, এখন তিনি সেটা আদায় করে ফেরত দিতে সহায়তা করবেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আফিফা খাতুনের অভিযোগ আমলে নিয়ে স্থানীয়ভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেটা তারা নেবেন।

আফিফা খাতুন জানান, পারিবারিক সমস্যায় বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে এক বান্ধবী তাকে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে সন্তানদের নিয়ে নতুন করে জীবন শুরুর প্রস্তাব দেন। বান্ধবীর স্বামী তাকে সিডনির এক ইমিগ্রেশন এজেন্টের ফোন নম্বর দিয়ে বলেন, চোখ বন্ধ করে এই এজেন্টকে বিশ্বাস করা যায়। এজেন্টের নাম ব্যারিস্টার সিরাজুল হক।

আফিফা সিরাজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি পরিচয় দেন। তিনি সন্তানসহ তাকে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাওয়ার আশ্বাসও দেন বলে জানান আফিফা খাতুন।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙ্গে এবং ফ্ল্যাট বিক্রি করে বিভিন্ন সময় কয়েক লাখ করে সিরাজুল হককে তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে তাকে জানানো হয়, ২০১৩ সালের ২৯ জুন আফিফা ও তার সন্তানের নামে ভিসার আবেদন সফল হয়নি। তারপরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু, ২০১৬ সাল থেকে তাকে এড়িয়ে চলছেন সিরাজুল হক।

আফিফা খাতুন বলেন, গেল বছর দেশে এসে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ফিরে যান সিরাজুল হক। সেসময় যোগাযোগ করলে সিরাজুল হক জানান, তিনি বেঁচে থাকলে টাকাটা পরিশোধ করবেন।

কিন্তু, আর ভরসা করতে না পেরে গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারা থানায় সিরাজুল হকের নামে জিডি (নাম্বার ৫১৯) করেন একসময় সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগ করা আফিফা খাতুন। তার বাবা এবং চাচা আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত ছিলেন।

আফিফা খাতুন বলেন, আমার সঙ্গে যা হয়েছে আর যেন কারো সঙ্গে এমন না হয়। আমি আজ নিঃস্ব। টাকাগুলো ফেরত পেলে আমার সন্তানদের পড়াশুনাটা চালিয়ে যেতে পারতাম।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সিরাজুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। পরে তথ্য উপাত্ত দেওয়া হলে তিনি জানান, আফিফা খাতুনের কাছ থেকে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক আওয়ামী লীগ নেতা স্পন্সর মানি হিসেবে টাকাটা নিয়েছেন, আমি টাকাটা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

এক পর্যায়ে সিরাজুল হক বলেন, বিষয়টা নিয়ে মিডিয়াকে জানানোর কী আছে! আমি আফিফার সঙ্গে কথা বলব।

জানতে চাইলে জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এবং ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আপেল মাহমুদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ব্যাপারটা আমরা খতিয়ে দেখছি, ভুক্তভোগির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেব।