চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এক জুটিতেই বাংলাদেশের ইতিহাস

টন্টন থেকে: সমারসেট কাউন্টি ক্লাব মাঠের ঘাস এমনিতেই গাঢ় সবুজ। মেঘলা বিকেলে ফ্ল্যাডলাইট জ্বলে ওঠার পর সবুজের মাঝে ছড়াল বর্ণিল আভা। ২২ গজে সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের বুক চিতিয়ে লড়াই আর গ্যালারিতে দর্শকদের গগণবিদারী চিৎকার। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে লড়ে গেছেন সবাই। ১১ জন মাঠে, বাকিরা মাঠের বাইরে।

এমন আবহেই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার নতুন রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ (৩২২/৩)। বড় রান তাড়া করে জিততে হলে ভালো খেললেই হয় না, লাগে ভাগ্যেরও সহায়তা। এদিন সবই যেন বাংলাদেশকে পথ দেখাল আলোকবর্তিকা হয়ে। সাকিব আল হাসান ও লিটন দাসের হাওয়ায় ভাসানো কিছু শটের ঠিকানা হল ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’। সৌভাগ্যের দূত যেন এসে হাজির টন্টনের এ মাঠে!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ওইটুকু ছাড়া সবই ছিল ছবির মতো সুন্দর। সাকিবের অপরাজিত ১২৪ ও আর বিশ্বকাপ অভিষেকে লিটনের অপরাজিত ৯৪। চতুর্থ উইকেট জুটিতেই লেখা হল অসাধারণ এক জয়ের ট্যাগলাইন।

খাদের কিনারা থেকে দলকে আগেও উদ্ধার করেছেন সাকিব। তবে সমারসেট মাঠের ২২ গজে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে যে ব্যাটিং করলেন তা বাংলাদেশকে দেখাল বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকার পথ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পর বিশ্বকাপে টানা সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। অথচ আগের তিন বিশ্বকাপে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না বাঁহাতি তারকার!

দলীয় শতরান পাড়ি দেয়ার খানিক পর টানা দুই ওভারে তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার পর শঙ্কার মেঘ জমা হয়েছিল টন্টনে। সে মেঘ সরিয়ে সাকিব-লিটনের চতুর্থ উইকেট জুটির অবিচ্ছিন্ন ১৮৯ রান নিয়ে গেল গন্তব্যে। বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি! ভাবা যায় ৩২২ রান তাড়া করে জয়ের ম্যাচে রয়ে গেল ৫১ বল!