চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এই শহরের এক রিকশাচালক মায়ের জীবনের গল্প

এই শহরের অলি-গলিতে রিকশা চালান এক মা। যিনি তার দুই কন্যার বিয়ে দেওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে চান তিন চাকায় ভর করা এ জীবন সংগ্রাম।

বিজ্ঞাপন

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার উত্তর রমজানপুর গ্রামের মেয়ে সুমি বেগম। ত্রিশোর্ধ্ব এ নারী ঢাকা শহরের অলি-গলিতে রিকশা চালান সাত বছর যাবত। জীবনের এক বিবর্ণ বাস্তবতা তাকে এই পেশায় আসতে বাধ্য করেছে।

নিজের জীবনের সেই গল্প সরলতার সাথে তুলে ধরে সুমি বলেন, ‘আমার বাবা ছিল প্রতিবন্ধী। তাকে নিয়ে আমি ভিক্ষে করতাম। কিন্তু পরে যখন বাবা মারা যায় তখন তো আয় রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই আমি রিকশা চালানো শুরু করি। আগে পায়ের প্যাডেলের রিকশা চালাতাম, এখন মটরের রিকশা চালাই।’

বিজ্ঞাপন

নিজের মা ও দুই মেয়ে সম্পর্কে সুমি বলেন, ‘আমার দুইটা মেয়ে আছে। বড় মেয়ের বয়স নয় বছর, সে ক্লাস থ্রিতে পড়ে। আর ছোট মেয়ে এখনো স্কুলে ভর্তি হয় নাই। ওরা গ্রামে আমার মায়ের সাথে থাকে। আমি রিকশা চালাইয়া আমার মা ও মেয়েদের জন্য টাকা পাঠাই। ওই মেয়েদের জন্যই যত চিন্তা। ওদের বিয়ে দেওয়া পর্যন্তই আমার কষ্ট। ওদের বিয়ে দেওয়া পর্যন্তই রিকশা চালামু।’

স্বামী-সংসার বিষয়ে জানতে চাইলে সুমি বলেন, ‘সংসার নাই। এখন কামরাঙ্গিরচরে ১৭শ টাকার একটা ভাড়া ঘরে থাকি। স্বামীর সাথে সম্পর্ক নাই। সে এহন অন্য বউ-সংসার নিয়া থাকে। তবে মাঝে মাঝে আমার সাথে তার রাস্তায় দেখা হয়, কথাও হয়। সেও এই শহরে রিকশা চালায়।’

রিকশা চালিয়ে মাসে যে টাকা উপার্জন হয় তা দিয়ে চলতে খুব কষ্ট হয় জানিয়ে সুমি বলেন, ‘প্রতিদিন তো আর রিকশা চালাতে পারি না। যে কয়দিন চালাই তাতে মাস শেষে সাত-আট হাজার টাকা আয় হয়। এর থেইকা মা আর মেয়েদের জন্য গ্রামে টাকা পাঠাই। এরপর আমার ঘর ভাড়া আর খাওয়া দাওয়ার খরচের পর আর টাকা থাকে না। কষ্টেই চলে জীবন।’

রিকশা চালাতে খারাপ লাগে কিনা? এমন প্রশ্নে সুমি বলেন, ‘এখন আমার আর খারাপ লাগে না। কারণ, নিজে কষ্ট করে টাকা আয় করি। আর আমার টাকায় আমার মা-মেয়েরা খেয়ে পরে বাঁচে। তয় কেউ যদি একটা চাকরি দিত তাইলে হয়ত রিকশা চালানো ছাইড়া দিতাম।’