চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

এই কালিমার দায় কার?

বলা নেই, কওয়া নেই হঠাৎ করেই শনিবার রাতে দেয়া ঘোষণায় রোববার সকাল থেকে দুই দিনের ‘কর্মবিরতি’র নামে সারাদেশ অচল করে দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। ৪৮ ঘণ্টার এ কর্মবিরতি পরিণত হয়েছে অঘোষিত হরতালে।

বিজ্ঞাপন

কর্মবিরতি মানে, যারা এই কর্মসূচি আহ্বান করেছেন; তারা তাদের পেশাগত কাজ থেকে বিরত থাকবেন। মূলত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্মবিরতি। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা সেই কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ রাখেননি। সারাদেশে বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ সব রকম যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এমনকি ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলেও বাধা দিয়েছেন তারা।

তবে এসবই ছপিয়ে গেছে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের কিছু অসভ্য, বর্বর কর্মকাণ্ডের ঘটনা। তারা পোড়া মবিল মাখিয়ে দিয়েছে ছাত্রীর ইউনিফর্মে, ব্যক্তিগত গাড়ির চালকের মুখে, মোটরসাইকেল আরোহীর গায়ে। এমনকি তাদের এ বর্বরতা থেকে কলেজবাস এবং রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও মুক্তি পায়নি।

পরিবহন শ্রমিকদের এমন অসভ্য আচরণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অসংখ্য মানুষ। তারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারও দাবি করেছেন। ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে অনেকেই আবার লিখেছেন, কারো মুখে নয়, এই কালি তারা বাংলাদেশের মুখেই মাখিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আমাদের প্রশ্ন, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন অসভ্য আচরণ যখন পরিবহন শ্রমিকরা করে যাচ্ছিলেন, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কি করছিলেন? তারা কেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না? এমন কি এসব ঘটনা ঘটার পরও কেন তারা কোনো পদক্ষেপের কথা জানালেন না?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এমন অসংখ্য প্রশ্ন রেখে বিস্ময় প্রকাশ করতে দেখা গেছে বহু মানুষকে। তাদের বেশিরভাগই এসব ঘটনার পেছনে একজন মন্ত্রীর মদদ রয়েছে বলে নিজেদের পোস্টে দাবি করেছেন।

আমরা জানি, রাজধানীর রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাস চাপায় নিহত হওয়ার পর সারাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তখনই সরকার সিদ্ধান্ত নেয় বেপরোয়া চালকদের নিয়ন্ত্রণে নতুন সড়ক পরিবহন আইন করার। ২০ সেপ্টেম্বর সেই আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। আগস্টের শুরুতে মন্ত্রিসভা এই আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছিল।

কিন্তু এতদিন পর আবার কেন এই আইন নিয়ে আন্দোলন? এই প্রশ্ন রেখেছেন অনেকেই। অথচ যে মন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা চলেন, সেই মন্ত্রী এই আইনের খসড়া থেকে শুরু করে পাস পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি কোনো কথা বলেননি কেন? এতদিন কেন তিনি বা পরিবহন শ্রমিকরা চুপ করে থাকলেন?

আমরা মনে করি, আজকে যারা ছাত্রীদের গায়ে, চালক বা অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে কালি মাখিয়েছে; তারা আসলে কালি মাখিয়েছে বাংলাদেশের মুখে। কারণ ওই ছাত্রী, ওই অ্যাম্বুলেন্সকে আমরা বাংলাদেশের মুখ মনে করি। এদেরকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হোক।