চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উসকানি নয়, বন্ধ হোক সড়কে খুন

রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলের সামনের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর তুলে দেয় চালক। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনা স্থালেই প্রাণ হারান শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় আহত হয় আরো অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন

এর জেরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আজ সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। নির্মম ওই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বলতে গেলে সকাল থেকেই সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। যে কারণে সারাদিনই নগরজুড়ে ব্যাপক যানজট দেখা যায়। এতে অনেকেরই স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটেছে।

কিন্তু কেন তারা এমনভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলো? কেন তাদেরকে ক্লাসরুমের বাইরে এসে এভাবে প্রতিবাদ জানাতে হলো? আমরা যতটা জানতে পেরেছি তা হলো; আজ সকালে রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গতকালকের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, তাদেরকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। আর তাতেই আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তারা।

বিজ্ঞাপন

তাহলে এই ঘটনার পেছনে আগ বাড়িয়ে পুলিশের উসকানি কেন? প্রিয় সহপাঠিকে হারানোর শোকে কাতর শিক্ষার্থীরা তো শুধুই তো মানববন্ধন করতে চেয়েছিল। তারপরও তাদেরকে বাধা দেয়া হলো কেন? শুধু তাই নয়, আমরা দেখলাম দেশের পরিবহন সেক্টরের গডফাদার হিসেবে পরিচিত নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমন নির্মম ঘটনার পরও দাঁত কেলিয়ে হাসছেন। অযৌক্তিকভাবে অন্যদেশের উদাহরণ টেনে নিজের অপকর্মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন।

আমরা মনি করি, তার এমন দায়িত্বহীন মন্তব্যই শিক্ষার্থীদের আরো বিক্ষুব্ধ করেছে। দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনোভাবেই এমন মন্তব্য করা উচিত হয়নি শাজাহান খানের। তিনি বলতে পারতেন, জড়িতদের কঠোর শাস্তি আমরা নিশ্চিত করবো। তা না করে বরাবরের মতো বেপরোয়া পরিবহন শ্রমিকদের তিনি আরো উসকে দিয়েছেন।

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুকে খুন বলে আদালতে মন্তব্য করেছেন এই ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা একজন আইনজীবী। তিনি বলেছেন, ‘মাই লর্ড ওই ঘটনাকে আমি দুর্ঘটনায় মৃত্যু বলতে চাই না, এটাকে আমি বলব খুন। কারণ, শিক্ষার্থীরা ওই সময় রাস্তার পাশে নিরাপদ দূরত্বে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। তখন বাস চালক বেপরোয়া ভাবে বাসটি চালিয়ে রাস্তার পাশে থাকা শিক্ষার্থীদের উপর উঠিয়ে দেয়।’

আমরাও মনে করি, এই দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় খুন করা হয়েছে। শুধু তাদেরকেই নয়, প্রতিদিনই দেশের সড়কে আরো অনেককে ঠিক এভাবেই খুন করা হচ্ছে। এই খুন বন্ধ করতে হলে বেপরোয়া পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর বাইরে আর কোনো বিকল্প নেই।